৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

UMo

প্রবীর হত্যায় ভাড়াটে খুনী! ঘাতক পিন্টুর দাবী একাই হত্যা করেছে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৮ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার


প্রবীর হত্যায় ভাড়াটে খুনী! ঘাতক পিন্টুর দাবী একাই হত্যা করেছে

নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যার ঘটনায় ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে থাকা ঘাতক বন্ধু পিন্টু দেবনাথের দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। আর এতে করে হিসেবে মেলাতে বেশ কাঠখোড় পোহাচ্ছেন ডিবির কর্মকর্তারা।

পিন্টুর প্রথমদিন দাবী করেছে চার থেকে ৫জন ভাড়াটে খুনী এ কাজটি করেছে। কিন্তু সে জানতো কোথায় লাশ টুকরো করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দিন আবার সে দাবী করেছে কোন ভাড়াটে খুনী না বরং সে নিজেই একা একা প্রবীরকে হত্যা করেছে। মদ খাওয়ার কথা বলে বাসায় ডেকে এনে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটানো হয়।

ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ১০ জুলাই মঙ্গলবার পিন্টু বলেছিল কিলিং মিশনে ভাড়াটে খুনী ছিল। কিন্তু বুধবার সে তথ্য থেকে সরে এসে নিজেই একা খুন করেছে জানিয়েছে। কিন্তু সবগুলো তথ্যই যাচাই বাছাই চলছে। কারণ শুরু থেকেই পিন্টু ছিল বেশ চতুর। ফলে তার একটি তথ্যে উপর ভিত্তি করা চলবে না।

ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পিন্টু দেবনাথ পুরো চতুর ও কৌশলী লোক। গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন পুরো ঘটনা নিজের উপর নিতে চাচ্ছে। একটি মানুষকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করে একজন পারে না। কারণ বিভিন্ন প্রশ্নে কৌশলীতে পিন্টু দেবনাথ উত্তর দিচ্ছে। যেগুলোতে ধরা খাচ্ছে, সে সময় তিনি অসুস্থ হয়ে লুটে পড়তে চায়। পিন্টু কখনো একা, প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে হত্যা করতে পারে না। এখানে তার সাথে আরো লোক জড়িত রয়েছে। কিন্তু তিনি কিলিং মিশনে থাকা জনকে নামের তালিকায় উল্টো পাল্ট নাম বলছে। ফলে আমাদের তদন্তে কৌশলে করতে হচ্ছে। পিন্টু স্বীকারোক্তিতে যে বর্ণণা দিয়েছে তার সাথে বাস্তবতা অনেক কম।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, কখনো কখনো জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। তার সেসব তথ্য মিলিয়ে পরে দেখা হচ্ছে। সে জানিয়েছে তার ফ্লাটে হত্যার সময়ে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। ব্যবহার করা হয় ঘরে থাকা বিছানার চাদর। কিন্তু এগুলোতে লাল রক্ত থাকায় পিন্টু নিজেই সেগুলো চারারগোপ দেলোয়ার টাওয়ারের বিপরীতে শীতলক্ষী নদীতে ফেলে দেয়। মঙ্গলবার রাতে ডিবির একটি টিম পিন্টুকে নিয়ে ওই ফেলে দেওয়া স্থান তল্লাশী করে। সেখান থেকে ১০ থেকে ১২টি ব্যাগ উদ্ধার করলেও আলামত হিসেবে ওই চাদর ও বালিশ পাওয়া যায়নি।

বুধবার জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু জানায়, শহরের কালীরবাজার এলাকাতে স্বর্ণ মার্কেটে ‘পিন্টু স্বর্ণালয়’ নামের একটি দোকান রয়েছে। কয়েক মাস আগে প্রবীরের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে এ দোকানের পজিশন ক্রয় করে পিন্টু। কিন্তু দুই মাস ধরেই পিন্টুর কাছে টাকা চাচ্ছিল প্রবীর। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। চরম মনোমালিন্য দেখা দেয় পিন্টুর সঙ্গে প্রবীরের। এসব কারণেই এক পর্যায়ে প্রবীরকে হত্যার পরিকল্পনা করে পিন্টু। আর সে কারণে বেছে নেয় ঈদের ছুটির সময়টাতে। পিন্টু শহরের আমলাপাড়া এলাকাতে রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার দুই তলার একটি ফ্লাটে বসবাস করেন।

পিন্টু দেবনাথ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বলেন, ঈদ উপলক্ষে শান্ত পরিবেশ থাকা প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ১৮ জুন রাতে মাদকের পার্টির কথা বলে তার বাসা থেকে বের করি। পরে আমার ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে বসাই। সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে থাকি একত্রে। ওই সময়ে আগে নেওয়া স্প্রাইট পান করে প্রবীর। খেয়েছিল বিস্কুটও। খাওয়ার সময়েই আমি তাকে পিছন থেকে একটি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। তখন প্রবীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় প্রবীর আমাকে কয়েকদফা লাথি মারতে থাকলে ওরে আবারো লাঠি ও দা দিয়ে আঘাত করতে থাকি। এ সময় প্রবীর রক্তাক্ত অবস্থায় টিভি রুমের খাটে লুটে পড়ে। শরীর ঢেকে দেওয়া হয় বালিশ ও চাদর দিয়ে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দেহ’কে ৬ টুকরো করা হয়। বাজার থেকে ক্রয়কৃত ৭টি নতুন আকিজ সিমেন্টের ব্যাগে টুকরো টুকরো লাশ ভরি। আরেক ব্যাগে বালিশ, খাটের চাদর, ব্যবহার করা জামা ও দা প্যাকেট করি। পরে ঘরের বাথরুমে রক্তাক্ত ও নিজে গোসল করি। পরিবেশ শান্ত অবস্থায় আনুমানিক সাড়ে ১২টায় বাসা নিচে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকটিতে ৫ টুকরো ঢুকাতে শুরু করি। কিন্তু পা ব্যাগটি জায়গা হচ্ছিল না। পরে বাড়ির উত্তর পাশে ময়লাস্তূপে সাথে ড্রেনে মাথায় ফেলে দেই। কাজ শেষ করে বাসায় হাত পরিস্কার করে ফের প্রবীর চন্দ্র ঘোষের বাড়িতে রাত দেড়টার দিকে ছুটে যাই। রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে এসে ফেলে দেই চাপাতি, বিছানার চাদর আর বালিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পিন্টুর দেওয়া তথ্য মতেই রাতেই শহরের কালীরবাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান পরিদর্শন করা হয় যেখান থেকে সে চাপাতি কিনেছিল। ওই দোকান মালিক সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়া শহরের চারারগোপ এলাকাতে চান্দু অ্যান্ড কোং দোকানের পাশে কামারের দোকানে গিয়ে ওই চাপাতি শান করা হয়। ওই দোকান মালিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পিন্টু বার বার হত্যার জন্য দুটি কারণকে উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো বন্ধকী স্বর্ণ লেনদেন ও স্বর্ণ ভবনে পিন্টু নামে ক্রয় দোকানে প্রবীরের টাকা দেয়া নিয়ে। পিন্টুর দাবি প্রবীর তাকে দুইবার হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোন সুদত্তর দেয়নি।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ