৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

UMo

বন্ধুর ৬ টুকরো লাশ রেখে ঘুমাতে পারেনি ‘চোর’ পিন্টু


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৫ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার


বন্ধুর ৬ টুকরো লাশ রেখে ঘুমাতে পারেনি ‘চোর’ পিন্টু

প্রিয় বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ৬ টুকরো করে লাশ বাসার নিচে সেপটিক ট্যাংকে রেখে ঘুমাতে পারেনি ঘাতক বন্ধু পিন্টু দেবনাথ। হত্যা ও পরের দিন বাসায় রাতে ঘুমাতে না পারায় পুরো চিন্তিত হয়ে পড়ে পিন্টু।

পরে তার সাবেক কর্মচারী বাপেন ভৌমিককে ডেকে তার সাথে ঘুমাতে রাজি করান। পিন্টু আচরণ ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু তার চতুরতার কারণে কেউ বুঝতে পারেনি। বাসায় খাবার খেত না। রাতে বাপেনকে নিয়ে ঘুমাতেন। আর রাতে বার বার উঠে পানি ও হাটাহাটি করতেন।

বাপেন তার কর্মস্থলের সহকর্মীদের কাছে এগুলো বলেছিলেন বলে জানান স্বর্ণ শিল্পী শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরুণ কুমার দত্ত।

তিনি বলেন, পিন্টু একজন মানুষকে একটা কিভাবে হত্যা করতে পারে সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। পত্রিকায় পড়েিেছ তদন্ত দলের সামনেই পিন্টু বলেছে, প্রবীর টিভি দেখছিল পিছন থেকে আমি লাঠি আঘাত করি। এ সময় আমাকে প্রবীর লাথি মারে, ফলে আমি তাকে আবারো আঘাত ও কুপিয়েছি। পরে দারালো দা দিয়ে টুকরো টুকরো করে বাজারের ব্যাগে ভরি।

অরুন কুমার বলেন, মানুষ বাচাঁর জন্য কোন কোন কিছু করে, প্রবীর কি করেছিল? তদন্ত টিম ডিবি পুলিশ আরো খোলাসা জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানাবো। পিন্টু ওপেন হার্ট সার্জারী করা হয়েছে। ফলে ও অনেক চালাকি করে উত্তর দিচ্ছে পুলিশকে। প্রবীরকে এভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যা পিছনে কি তা আমার চিন্তিত? বন্ধকী ও স্বর্ণ ভবনে একটি দোকান নিয়ে বিরোধ হলে ভিতরে আরো ঘটনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, একটি দোকান থেকে একটি আংটি চুরি করে পিন্টু। এ সময় তাকে উত্তম মধ্যম দেয়া হয়েছিলভ কিন্তু এই প্রবীরই তার পক্ষে আমাদের কাছে এসে ছিলেন। প্রবীরের জোরালো সুপারিশ ও আংটি চুরি ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ৬৫ হাজার টাকা রফাদফা সম্পূর্ণ করা হয়েছিল। তখন প্রবীর বলেছিল, এই টাকা আমি পিন্টুর পক্ষ থেকে দিলাম। প্রবীর ও পিন্টু বন্ধু ছিল কম। ৩ থেকে ৪ জনের বন্ধুর মধ্যে তাদের সম্পর্ক ছিল দৃশ্যমান ভালো। কিন্তু পিন্টু কিভাবে তার বন্ধুকে টুকরো টুকরো করলো, সে কষ্টে এখন বেচেঁ আছি। আর আমলাপাড়া এই পিন্টু জন্য স্বর্ণ শিল্পালয়ে একটি কালো অধ্যায় রটে গেল।

পিন্টু দেবনাথ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বলেন, ঈদ উপলক্ষে শান্ত পরিবেশ থাকা প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ১৮ জুন রাতে মাদকের পার্টির কথা বলে তার বাসা থেকে বের করি। পরে আমার ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে বসাই। সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে থাকি একত্রে। ওই সময়ে আগে নেওয়া স্প্রাইট পান করে প্রবীর। খেয়েছিল বিস্কুটও। খাওয়ার সময়েই আমি তাকে পিছন থেকে একটি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। তখন প্রবীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় প্রবীর আমাকে কয়েকদফা লাথি মারতে থাকলে ওরে আবারো লাঠি ও দা দিয়ে আঘাত করতে থাকি। এ সময় প্রবীর রক্তাক্ত অবস্থায় টিভি রুমের খাটে লুটে পড়ে। শরীর ঢেকে দেওয়া হয় বালিশ ও চাদর দিয়ে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দেহ’কে ৬ টুকরো করা হয়। বাজার থেকে ক্রয়কৃত ৭টি নতুন আকিজ সিমেন্টের ব্যাগে টুকরো টুকরো লাশ ভরি। আরেক ব্যাগে বালিশ, খাটের চাদর, ব্যবহার করা জামা ও দা প্যাকেট করি। পরে ঘরের বাথরুমে রক্তাক্ত ও নিজে গোসল করি। পরিবেশ শান্ত অবস্থায় আনুমানিক সাড়ে ১২টায় বাসা নিচে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকটিতে ৫ টুকরো ঢুকাতে শুরু করি। কিন্তু পা ব্যাগটি জায়গা হচ্ছিল না। পরে বাড়ির উত্তর পাশে ময়লাস্তূপে সাথে ড্রেনে মাথায় ফেলে দেই। কাজ শেষ করে বাসায় হাত পরিস্কার করে ফের প্রবীর চন্দ্র ঘোষের বাড়িতে রাত দেড়টার দিকে ছুটে যাই। রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে এসে ফেলে দেই চাপাতি, বিছানার চাদর আর বালিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে প্রবীর ঘোষের এক ভাই সৌমিক ঘোষ ইতালী প্রবাসী। সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা পাঠানো হয় প্রবীর ঘোষের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা লেনদেন হতো প্রবীর ও পিন্টুর মধ্যে। সম্প্রতি সৌমিক ঘোষ যখন দেশে আসে তখন থেকেই নিখোঁজ ছিল প্রবীর। সৌমিক দেশে আসার আগেই টাকার জন্য পিন্টুকে চাপ দিতে থাকে প্রবীর। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। পরে পরিকল্পনা করেই প্রবীরকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে পিন্টু ও তার দোকানের কর্মচারী বাপেন ভৌমিক বাবু। প্রাথমিকভাবে এও ধারণা করা হচ্ছে পিন্টু যে বাসাতে থাকে সে বাসার ফ্লাটেই প্রবীরকে হত্যার পর ওই বাসার নিচে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ব্যাগে করে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পালিয়ে বাপেন কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকাতে চলে যায়। সেখান থেকে প্রবীরের মোবাইলের সীম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্নজনের কাছে ম্যাসেজ পাঠায় বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার জন্য। তখন প্রবীরের সেই মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ করে ফেলে বাপেন। পরবর্তীতে বাপেন শহরের কালীরবাজার চলে আসে। সেখানে এসে মোবাইল সীম পরিবর্তনের পর ট্র্যাকিংয়ে বাপেন ধরা পড়ে। তখন বাপেন ও প্রবীরকে আটক করা হলে বেরিয়ে আসে মূল তথ্য।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ