বন্ধুকে ৬ টুকরোর পর প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথন পিন্টুর!

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ

বন্ধুকে ৬ টুকরোর পর প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথন পিন্টুর!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৯ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০২:০৯ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার


বন্ধুকে ৬ টুকরোর পর প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথন পিন্টুর!

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষকে হত্যার পর সে রাতেই একজন প্রেমিকার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ফোনে কথা বলেছিলেন ঘাতক পিন্টু পিন্টু দেবনাথ। হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দিয়ে ভোর পর্যন্ত প্রেমিকার সঙ্গে ফোনালাপ চালিয়ে যান পিন্টু এমন খবর এসেছে যুগান্তরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পিন্টু খুবই ঠান্ডা মাথার খুনি। ১৮ জুন রাতে প্রবীরকে খুন করার পর দোতলা থেকে নিচে নেমে প্রায় ৪০ মিনিট প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় পিন্টুর ফ্ল্যাটে পড়েছিল ‘প্রিয়’ বন্ধু প্রবীরের রক্তাক্ত লাশ। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে সিমেন্টের বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেয়া হয়। এভাবে ২১ দিন নিজের ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংকিতে লাশ রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন পিন্টু। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে ভাড়াটে খুনিদের (কন্ট্রাক্ট কিলার) ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও পিন্টু তাদের নাম ও পরিচয় জানাননি।

সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল পিন্টুর। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কৌশলে তার জামার বোতাম খুলে রাখেন যাতে তার অপারেশনের চিহ্ন দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। একটি সূত্র জানায়, আর্থিক লেনদেন ছাড়াও প্রবীরের সঙ্গে একটি ঘটনায় ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল পিন্টুর

গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, কখনো কখনো জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। তার সেসব তথ্য মিলিয়ে পরে দেখা হচ্ছে। সে জানিয়েছে তার ফ্লাটে হত্যার সময়ে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। ব্যবহার করা হয় ঘরে থাকা বিছানার চাদর। কিন্তু এগুলোতে লাল রক্ত থাকায় পিন্টু নিজেই সেগুলো চারারগোপ দেলোয়ার টাওয়ারের বিপরীতে শীতলক্ষী নদীতে ফেলে দেয়। মঙ্গলবার রাতে ডিবির একটি টিম পিন্টুকে নিয়ে ওই ফেলে দেওয়া স্থান তল্লাশী করে। সেখান থেকে ১০ থেকে ১২টি ব্যাগ উদ্ধার করলেও আলামত হিসেবে ওই চাদর ও বালিশ পাওয়া যায়নি।

পিন্টু দেবনাথ বলেন, ঈদ উপলক্ষে বাসা ও এলাকা শান্ত পরিবেশে প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ১৮ জুন রাতে মাদকের পার্টির কথা বলে বাসা বের করি। পরে পিন্টুর ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে টিভি দেখছিলেন প্রবীর চন্দ্র ঘোষ ও পিন্টু। ওই সময়ে প্রবীর ছোট কোল্ড ড্রিংকস স্প্রাইট পান করে। ওই সময়ে সময়ে তাকে পিছন থেকে একটি লাঠি দিয়ে তার মাথা আঘাত করি। তখন প্রবীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় প্রবীর আমাকে কয়েকদফা লাঠি মারতে থাকলে ওরে আবারো লাঠি ও দা দিয়ে আঘাত করতে থাকি। এ সময় প্রবীর রক্তাক্ত অবস্থায় টিভি রুমের খাটে লুটে পড়ে। শরীর ঢেকে দেওয়া হয় বালিশ ও চাদর দিয়ে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দেহ’কে ৬ টুকরো করা হয়। বাজার থেকে ক্রয়কৃত ৭টি নতুন আকিজ সিমেন্টের ব্যাগে ৬ টুকরো ও আরেক ব্যাগে বালিশ, খাটের চাদর, ব্যবহার করা জামা ও দা প্যাকেট করি। পরে ঘরের বাথরুমে রক্তাক্ত ও নিজে গোসল করি। পরিবেশ শান্ত অবস্থায় আনুমানিক সাড়ে ১২টায় বাসা নিচে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকটিতে ৫ টুকরো ঢুকাতে শুরু করি। কিন্তু পা ব্যাগটি জায়গা হচ্ছিল না। পরে বাড়ির উত্তর পাশ্বে ময়লাস্তূপে সাথে ড্রেনে মাথা ফেলে দেয়। পরে বাসায় হাত পরিস্কার করে, ফের প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে খুজেঁ তার বাসায় রাত দেড় যান। রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে এসে ফেলে দেয় চাপাতি, বিছানার চাদর আর বালিশ।

নিখোঁজের ২১ দিন পর সোমবার ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার পিন্টু যে বাড়িতে ভাড়া থাকতো সেই ৪ তলা ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

প্রবীর ঘোষ কালীরবাজার ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক। গত ১৮ জুন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তাঁর সন্ধান দাবীতে ২১ দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজন, বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবারের লোকজন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে আসছিল। এর মধ্যে নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছিল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ