৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

UMo

৬ বছরেও কূলকিনারা হলো না নাট্যকার চঞ্চল হত্যার রহস্য


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৯ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৮ রবিবার


৬ বছরেও কূলকিনারা হলো না নাট্যকার চঞ্চল হত্যার রহস্য

নারায়ণগঞ্জের তরুণ নাট্যকার দিদারুল ইসলাম চঞ্চল হত্যা মামলার ৬ বছর অতিবাহিত হলেও বিচারের কোন কূলকিনারা না হওয়ায় এখনও নীরবে কেঁদে চলেছে স্বজনেরা। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্ত করলেও অদ্যাবধি রহস্য উদঘাটন হয়নি। বার বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলালেও রহস্যের উদঘাটন না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে নিহতের পরিবার।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চঞ্চল। ওই রাত ৩টায় চঞ্চল, তার বন্ধু মীম প্রধান, রাকিব ও শফিক একত্রে নগরীর ২নং রেলগেট এলাকার একটি দোকানে চা-নাশতা খেয়েছিল। নিহত চঞ্চলের মোবাইলে রাত ৩টা ৯ মিনিটে সর্বশেষ কল করেছিল মীম প্রধানের আত্মীয় মেহেদী হাসান রোহিত। সে মীমের সঙ্গে তাকে দেখা করতে বলে। এরপর থেকে চঞ্চল নিখোঁজ হয়। পরে ১৮ জুলাই শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলে পুলিশ। খবর পেয়ে ১৯ জুলাই লাশের ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে উদ্ধার করা লাশটি চঞ্চলের বলে শনাক্ত করে নিহতের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল।

২০১৫ সালের অক্টোবরে চঞ্চল হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৫জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) জমা দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ওই ৫জন হলো চঞ্চলের বন্ধু মেহেদি হাসান রুহিত, মীম প্রধান, রাকিব, রাশেদ, শফিক। ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে না রাজি পিটিশন দায়ের করেন মামলার বাদী খালেদা আক্তার রুবিনা যিনি চঞ্চলের মা। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল তার ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারা জবানবন্দি কালে জনৈক আফরিন এর নাম বলেন এবং উক্ত আফরিন চঞ্চলের বিপদ সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল জবানবন্দিতে জানান। কিন্তু আফরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এছাড়াও চার্জশিটে বিভিন্ন বিষয় ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে।

ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাদীর নারাজি পিটিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে ঢাকা মালিবাগ সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত এর আদালত। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মোঃ কাইউম জানান, মামলাটির তদন্ত কাজ চলছে। সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি শীঘ্রই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হবো। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার রহস্যের জট খুলতে পারেননি মামলাটির বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দিদারুল ইসলাম চঞ্চলের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া, নতুন কোন আসামীকে গ্রেফতার ছাড়া, কারো জবানবন্দি না নিয়ে একটা মনগড়া চার্জশীট দেয়া হয়েছিল। যে কারণে আমরা চার্জশীটে নারাজি দিয়েছিলাম। কিন্তু আজও পর্যন্ত আমরা হতাশ। বিচার দাবি করা ছাড়া আর কোন কিছু করার উপায় নেই। বিচারহীনতার ৬ বছর হতে চলছে কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাইয়ের হত্যার বিচার পেলাম না। জানতে পারলাম না কে আমার ভাইটাকে হত্যা করেছে। কেনই বা তাকে হত্যা করা হয়েছে। সে তো কোন রাজনীতি করতো না। একজন সাংস্কৃতিক কর্মী ছিল। এ শোকটা বয়ে বেড়াচ্ছে আমাদের পরিবারে।

পমেল আরো জানান, চঞ্চলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী শুক্রবার পারিবারিকভাবে মিলাদ ও কবর যিয়ারতসহ নানা কর্মসূচী হাতে রয়েছে। বিচার দাবিতে একটি মানবন্ধন কর্মসূচী পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত দিদারুল আলম চঞ্চল নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সেই চঞ্চল একজন সফল নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। সে নারায়ণগঞ্জ ঐকিক থিয়েটারের একজন সক্রিয় সদস্যও ছিল। ক্ষণজন্মা এই নাট্যকার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ‘শত মানুষের হাজার স্বপ্ন’, ‘হাড় তরঙ্গ’ এবং ‘বক্তাবলী’ নামে তিনটি নাটক রচনা করে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর উপলক্ষে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে যে ১০০টি মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চস্থ হয় তার মধ্যে চঞ্চলের রচিত ‘বক্তাবলী’ নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকের জন্য শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় তাকে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ