কাপড় ব্যবসায়ী স্বপনকে হত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যায়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৪ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৮ সোমবার



কাপড় ব্যবসায়ী স্বপনকে হত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যায়

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার সাহা নিখোঁজ না বরং তাকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে গুম করা হয়েছে। প্রবীর হত্যার মূল ঘাতক পিন্টু দেবনাথ আরো দুই বছর আগে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে স্বপন কুমার সাহা হত্যার বিষয়টি। এ ঘটনায় রত্মা রানী ও শহরের আমলাপাড়া এলাকার আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য। রোববার রাতে ১৫ জুলাই রাতে দুইজনকে গ্রেফতারের পর ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমানের আদালতে শুনানী শেষে প্রত্যেকের ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে।

জানা গেছে, ২১ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ৯ জুলাই শহরের আমলপাড়া এলাকার একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বন্ধু পিন্টু দেবনাথ গত ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। এতে সে প্রবীরকে হত্যার দায় স্বীকার করে।

এছাড়া জবানবন্দী ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু জানায়, আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুনকে সে ও প্রবীর ‘বড় ভাই’ হিসেবে ডাকতো। বছরখানেক আগে মোল্লা মামুন একদিন পিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায়। তখন প্রবীরের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, প্রবীর তোর বন্ধু না শত্রু? পিন্টু নির্দ্বিধায় প্রবীরকে বন্ধু বলে স্বীকার করলে মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে চড় মারে ও গালি দিয়ে বলে প্রবীর তোর বন্ধু না। এরপর মোল্লা মামুন ফোন করে প্রবীরকে। মোবাইলে লাউড স্পিকারে পিন্টুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেই প্রবীর বলেছিল, ‘ওরে মাইয়া লোক দিয়া... কইরা র‌্যাব দিয়া ধরাইয়া দেন দাদা। ওর টাকা পয়সা বাইরা গেছে, অর্ডারও বাইরা গেছে। ওর দোকানডা আমার লাগব।’ প্রিয় বন্ধুর মুখে এমন কথা শোনার পরই ক্ষোভ জন্মে পিন্টুর মধ্যে।

এদিকে ৯ জুলাই যখন প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয় তখন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন মোল্লা মামুন। তাকে এর পর থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। পরে সোমবার সকালে তাকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রোববার গভীর রাতে মাসদাইর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রত্মা বেগমকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু জানিয়েছে স্বপন ভারতে চলে গেছে। কিন্তু পুলিশের ধারণা ছিল প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ স্বপনের ভাগ্যেও হয়তো নির্মম কোনো পরিণতি ঘটে থাকতে পারে। স্বপনের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। ওই জিডির প্রেক্ষিতে সোমবার স্বপনকে গুমের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে অজিত কুমার সাহা। পরে তাৎক্ষনিক মামলাটি ডিবিকে হস্তান্তর করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয় মামুন ও রত্মাকে। মামলায় এ দুইজন ছাড়াও পিন্টু দেনবাথ ও বাপন ভৌমিক বাবুকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অজিত কুমার সাহা জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।  পরে স্বপনের বন্ধু কালীরবাজার এলাকার পিন্টু দেবনাথকেও জিজ্ঞেস করি। কিন্তু পিন্টু বার বার বলে আসছিলেন স্বপন ভারত চলে গেছে। গত ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগি বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে। ১৫ জুলাই রোববার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা স্বপন না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু।

রত্মা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় বসে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাতে রত্মার দেওয়া তথ্যমতে রাতেই মোল্লা মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। সে পিন্টুর কাছ থেকে দুইজনের নাম করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এস আই মফিজুল ইসলাম জানান, স্বপনকে গুমের অভিযোগে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে আনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এ ব্যাপারে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও