৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

UMo

বাপানের তথ্যেই ধরা পড়ে রত্মা আর পিন্টু


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৫৭ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৮ সোমবার


বাপানের তথ্যেই ধরা পড়ে রত্মা আর পিন্টু

নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যার ঘটনায় প্রথমেই আটক করা হয় বাপান ভৌমিক বাবুকে। তার মোবাইল ট্র্যাকিং করেই গ্রেফতার করা হয় পিন্টুকে। আর এবার স্বপন কুমার সাহা হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়েও বাপানের দেওয়া তথ্যেই বেরিয়ে আসে রত্মার বিষয়টি।

এদিকে ওই হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে প্রায় দেড় বছর আগে নিখোঁজ কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহার নিখোঁজের আসল রহস্য। সে নিখোঁজ না বরং ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জের ধরেই ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় বসে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মাসদাইর এলাকার রত্মা রানী চক্রবর্তী ও শহরের আমলাপাড়া এলাকার আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য। রোববার রাতে ১৫ জুলাই রাতে দুইজনকে গ্রেফতারের পর ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

গতকাল সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমানের আদালতে শুনানী শেষে প্রত্যেকের ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে। সে ছিল নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তার ঘাতক পিন্টু দেবনাথের বন্ধু। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। প্রবীর ঘোষের হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু জানিয়েছে স্বপন ভারতে চলে গেছে। কিন্তু পুলিশের ধারণা ছিল প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ স্বপনের ভাগ্যেও হয়তো নির্মম কোনো পরিণতি ঘটে থাকতে পারে। স্বপনের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। ওই জিডির প্রেক্ষিতে সোমবার স্বপনকে গুমের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে অজিত কুমার সাহা। পরে তাৎক্ষনিক মামলাটি ডিবিকে হস্তান্তর করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয় মামুন ও রত্মাকে। মামলায় এ দুইজন ছাড়াও পিন্টু দেনবাথ ও বাপন ভৌমিক বাবুকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অজিত কুমার সাহা জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। তখন তদন্তে বেরিয়ে আসে যে কাশীপুর উত্তর গোয়ালবন্দ এলাকার সেলিনা আক্তার নামের এক নারীকে স্বপন কুমার সাহা গোপনে বিয়ে কেরেছেন। ওই সময়ে আবার স্বপনকে না পেয়ে ১১ নভেম্বর সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি জিডি করেন। পরে স্বপনের বন্ধু কালীরবাজার এলাকার পিন্টু দেবনাথকেও জিজ্ঞেস করি। কিন্তু পিন্টু বার বার বলে আসছিলেন স্বপন ভারত চলে গেছে। গত ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগি বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে। ১৫ জুলাই রোববার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা স্বপন না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু।

রত্মা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় বসে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাতে রত্মার দেওয়া তথ্যমতে রাতেই মোল্লা মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। সে পিন্টুর কাছ থেকে দুইজনের নাম করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এস আই মফিজুল ইসলাম জানান, স্বপনকে গুমের অভিযোগে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে আনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এ ব্যাপারে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ