যে কারণে স্বপনকে হত্যা করে টুকরো করলো রত্না ও পিন্টু

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

যে কারণে স্বপনকে হত্যা করে টুকরো করলো রত্না ও পিন্টু


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৩ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:১৮ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার


যে কারণে স্বপনকে হত্যা করে টুকরো করলো রত্না ও পিন্টু

নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়ায় পিন্টুর ফ্ল্যাটে সোনা ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের মতই পাসপোর্ট অফিসের দালাল ও কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহাকেও সাত টুকরো করে হত্যা করেছে পিন্টু দেবনাথ। হত্যার পূর্বে যৌন মিলনের প্রলোভন দেখিয়ে পিন্টু তার প্রেমিকা রত্মা রানীকে দিয়ে স্বপনকে ডেকে নেয় তার ফ্ল্যাটে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী ও পাসপোর্ট অফিসের দালাল স্বপন কুমার সাহা, আমলাপাড়া এলাকার স্বর্ণব্যাবসী পিন্টু ও স্বর্ণব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ ছিলেন একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর রত্মা রানী ছিলেন পিন্টুর ঘনিষ্ঠ বান্ধুবী। বিয়ে আশ্বাস দিয়ে রত্মা রানীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার নেয় পিন্টু। এরপর থেকে রত্মা রানী প্রায় সময় পিন্টুর ফ্ল্যাটে যাতায়াত করত এবং তাদের মধ্যে অবৈধ যৌন মেলা মেশা চলত।

তিনি আরো জানান, পিন্টুকে ভারতে বাড়ি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখায় স্বপন। এরপর ভারতে নিয়ে একটি ফ্ল্যাটও পিন্টুর টাকায় স্বপন তার ভাগ্নির নামে কিনে দেয়। তখন পিন্টুকে স্বপন বলে ছিল ভারতে নাগরিত্ব করিয়ে তার ফ্ল্যাট বুজিয়ে দিবে। কিন্তু তা না করে পিন্টুকে ঘুরাতে থাকে স্বপন। একই সঙ্গে প্রবীর ঘোষের সাথে মিলে পিন্টুকে নানা ভাবে হয়রানী করতে পরামর্শ করে স্বপন। সর্বশেষ প্রায় বছর খানেক আগে বড় ভাই আল মামুনকে প্রবীর ঘোষের বাসায় ডেকে নেয় স্বপন। এরপর স্বপন ও প্রবীর ঘোষ মিলে পিন্টুকে নারী দিয়ে ফাসাতে আল মামুনের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার কথা পরের দিনই পিন্টুকে ডেকে নিয়ে বলে দেয় মামুন। একই সঙ্গে প্রবীরের ব্যাপারে পিন্টুকে মামুন প্রশ্ন করেছিল, প্রবীর তোর বন্ধু না শত্রু? পিন্টু নির্দ্বিধায় প্রবীরকে বন্ধু বলে স্বীকার করলে মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে চড় মারে ও গালি দিয়ে বলে প্রবীর তোর বন্ধু না। এরপর মোল্লা মামুন ফোন করে প্রবীরকে। মোবাইলে লাউড স্পিকারে পিন্টুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেই প্রবীর বলেছিল, ‘ওরে মাইয়া লোক দিয়া... কইরা র‌্যাব দিয়া ধরাইয়া দেন দাদা। ওর টাকা পয়সা বাইরা গেছে, অর্ডারও বাইরা গেছে। ওর দোকানডা আমার লাগব।’ প্রিয় বন্ধুর মুখে এমন কথা শোনার পরই ক্ষোভ জন্মে পিন্টুর মধ্যে।

মামলার বাদী নিহত স্বপনের ভাই অজিত কুমার সাহা জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। গত ৯ জুলাই পিন্টুর বাসার সেপটি ট্যাংকি থেকে প্রবীর ঘোষের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগি বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে। ১৫ জুলাই রোববার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা স্বপন না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। রত্মা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় বসে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে পৃথকভাবে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আশেক ইমামের আদালতে গ্রেফতারকৃত রত্না রাণী চক্রবর্তী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীনের আদালতে গ্রেফতারকৃত আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রত্না আদালতকে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাজার কাজী বাড়ির প্রবাসী আজহারুল ইসলামের ৪ তলা ভবনের ২য় তলায় রত্মা রাণী চক্রবর্তীর ফ্ল্যাট বাসায় স্বপনকে পিছন থেকে শিল পুতা দিয়ে আঘাত করে রত্না ও পিন্টু। পরে অচেতন অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে তাকে ৭ টুকরো করে। ব্যাগে ভরে স্বপনের দেহ অংশগুলো পিন্টু ঠান্ডা মাথায় ভবনের পাশে খালি স্থানে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় পিন্টু।

স্বপন হত্যায় গত ১৫ জুলাই রাতে মাসদাইর এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মামুন ও পিন্টুর বান্ধবী হিসেবে পরিচিত রত্মা রাণী চক্রবর্তী। ১৮ জুলাই রাতে গ্রেফতারকৃত রত্মা ও রিমান্ডে থাকা পিন্টুকে নিয়ে মাসদাইরে রত্মা যে বাড়িতে থাকে সেই বাড়িতে যায় ডিবি পুলিশের একটি টিম। পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপন কুমার সাহাকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত শিল পুতা, বটি, রক্তমাখা বিছানা চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রত্মা ও পিন্টুকে নিয়ে মাসদাইরে রত্মা যে বাড়িতে থাকে সেই বাড়িতে যায় পুলিশের একটি টিম। ওই সময়ে ভাড়াটিয়াদের সামনেই পুলিশকে পিন্টু ও রত্মার দেখানো মতে ২য় তলার প্রথম ফ্ল্যাট থেকে স্বপন কুমার সাহাকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত শিল পুতা, বটি, রক্তমাখা বিছানা চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়।

স্বপন হত্যায় গত ১৫ জুলাই রাতে মাসদাইর এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মামুন ও পিন্টুর বান্ধবী হিসেবে পরিচিত রত্মা রাণী চক্রবর্তী। ১৮ জুলাই রাতে গ্রেফতারকৃত রত্মা ও রিমান্ডে থাকা পিন্টুকে নিয়ে মাসদাইরে রত্মা যে বাড়িতে থাকে সেই বাড়িতে যায় ডিবি পুলিশের একটি টিম। পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপন কুমার সাহাকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত শিল পুতা, বটি, রক্তমাখা বিছানা চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়।

এর আগে প্রবীর ঘোষ হত্যা মামলায় ৯ জুলাই গ্রেফতার হন পিন্টু দেবনাথ। সেদিন তার দেখানো মতে শহরের আমলাপাড়া এলাকার ফ্লাট বাসার সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ জুন রাতেই প্রবীরকে হত্যা করেছিল প্রবীর।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ