চাঁদমারীতে নোটবুকে মিললো মাদক বিক্রির বখরার তালিকা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৭ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার



চাঁদমারীতে নোটবুকে মিললো মাদক বিক্রির বখরার তালিকা

‘একটি ছেড়া নোটবুকের কয়েকটি পাতায় লেখা বাংলা নামের বানানে ভুল রয়েছে। কিন্তু টাকার অংকে কোন ভুল নেই। টহলপুলিশ ৫০০, করিম পুলিশ ২০০, সাইফুল পুলিশ ১০০, আফগরি ৬ হাজার, ঠিকই লেখা আছে। নাম লিখে এর পাশে থাকার টাকার সংখ্যার মধ্যে কোথাও ৫০০, কোথাও ১ হাজার কিংবা আরো বেশিও আছে। একই নামের তালিকার পাশে বসানো টাকার সংখ্যা ঠিক থাকলেও ঠিক ছিল না দিন তারিখ। একই নামের তালিকা ছিল বিভিন্ন মাসের হিসেবে।’

২০ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৫টায় ফতুল্লা চাঁদমারী বস্তিতে মাদক বিরোধী অভিযানে গাজা বিক্রিরত অবস্থায় আটক নারী মাদক ব্যবসায়ী ময়না খাতুনের কাছ থেকে ওই নোটবুক উদ্ধার করার পর দেখা যায় এসব লেখা রয়েছে। তবে নোটবুকে লেখা নামগুলো সম্পর্কে চিনেন না বলে র‌্যাবের কাছে অস্বীকার করেন ময়না খাতুন।

একই অভিযানে গ্রেফতার মাদক বিক্রেতা জরিনা বেগম জানান, পুলিশ সোর্স, টহল পুলিশ ও প্রশাসনের অনেককে তারা মাদক বিক্রির জন্য প্রতিমাসে টাকা দিয়ে থাকেন।

চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা ও স্বপ্নডানা স্কুলের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রশিদ জানান, ময়না খাতুন অস্বীকার করলেও সে এলাকার সব থেকে বড় মাদক ব্যবসায়ী। তার নেতৃত্বে এখানে নারীরা মাদক ব্যবসা করে। বিভিন্ন জনকে মাদক ব্যবসার জন্য যে টাকা দেয় তার তালিকা এটা। নোটবুকে লেখে না রাখলে একজনকে কয়েকবার টাকা দিতে হবে বলে প্রতিমাসের হিসেবে টাকা ও নাম লেখে রাখে।’

তিনি আরো জানান, তালিকার কয়েকজন টহল পুলিশ, পুলিশের সোর্স, সাংবাদিক, আফগরি মূলত মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ কয়েকজন স্থানীয় নেতার নামও উল্লেখ আছে। যারা প্রতিমাসে এখান থেকে টাকা নেয়।

অভিযান পরিচালনার নেতৃত্বে দানকারী র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউছুল আজম জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জনকে টাকা দিয়ে এখানে মাদক বিক্রি করে সেটা এ নোটবুকই প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করবো। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের পরিদর্শক ওবায়দুল কবির বলেন, আমি এখানে এসেছি মাত্র এক মাস হয়েছে। যার জন্য তেমন কিছুই জানি না। তবে আমাদের সংস্থার কেউ এর সঙ্গে জড়িত না। তারপরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে সেবন ও মদক বিক্রির সময় দুই নারী, এক তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) সহ ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে ৫ জনকে ১ বছর করে ও ৭ জনকে ৬ মাস করে কারাদন্ড সহ একজনকে ২ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকেল ৫টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত ফতুল্লার চাঁদমারী বস্তি এলাকায় ওই অভিযান পরিচালনার নেতৃত্বে দেন র‌্যাব-সদর দপ্তরের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউছুল আজম। অভিযানে ওই ১৩জনকে আটক করা হয়।

অভিযানে আটক ময়না খাতুন (৩৫), দ্বীন ইসলাম (৩৫), পান্না মিয়া (৩০), জরিনা বেগম (৩০), মো. রমজান আলী (৪০) প্রত্যেককে ১ বছর করে কারাদ- প্রদান করা হয়। এছাড়া আমান (১৮), জাম্বু (৩০), হারুন আর রশিদ (৩০), মনির হোসেন (৩৫), আজিজ (২৫), রাসেল (২৬), তৃতীয় লিঙ্গে (হিজড়া) কাজলকে ৬ মাস করে কারাদ- প্রদান করা হয়। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীকে সহযোগিতার অপরাধে মালেককে ২ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও