শহরে আবারো গৃহাস্থলীর ময়লা অপসারণ বন্ধে জনদুর্ভোগ

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ

শহরে আবারো গৃহাস্থলীর ময়লা অপসারণ বন্ধে জনদুর্ভোগ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৩ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৩:০৩ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮ শনিবার


শহরে আবারো গৃহাস্থলীর ময়লা অপসারণ বন্ধে জনদুর্ভোগ

টানা এক সপ্তাহ হতে চললো নগরীর বাসা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করছে না সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত কর্মীরা। ফলে বাসা বাড়ির ময়লা রাস্তায় ও ড্রেনে ফেলতে শুরু করেছে নগরবাসী। কেউ বা আবার সেব ময়লা বাসায় জমিয়ে রাখতে গিয়ে পঁচন ধরে গেছে। সেইসব ময়লা আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। যা নিয়ে দুর্ভোগে নগরবাসী।

২১ জুলাই শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরী চাষাঢ়া, ডনচেম্বার, খানপুর, উত্তর চাষাঢ়া, বাগে জান্নাত, আমলাপাড়া, গলাচিপা, কলেজ রোড, ডিএনরোড, নন্দিপাড়া, উকিলপাড়া, পালপাড়া, দেওভোগ সহ শহরের অর্ধেকের বেশি এলাকার বাসাবাড়ির ময়লা নিচ্ছে না ময়লা অপসারণ কর্মীরা। গত রোববার সকাল থেকেই প্রায় সব এলাকায় ময়লা নেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে কেন ময়লা নেওয়া হচ্ছে না সেই বিষয়ে নগরীর বাসিন্দারা কেউ জানেন না। কয়েকজন স্থানীয় কাউন্সিলরদের জানালেও তারা কোন সমাধান দিতে পারেনি।’

শহরের বাগে জান্নাত এলাকার বাসিন্দা কাসিমউদ্দিন জানান, গত রোববার সকাল থেকেই ময়লা অপসারণের কোন কর্মী আসে নাই। টানা ৫ থেকে ৬ দিন ধরে বাড়ির বাইরে ময়লা রেখে সেখানে জমে গেছে। এখন সেগুলো পচে গিয়ে পানি পানি পরছে। এর সঙ্গে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।’

আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা টিটু বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ময়লা না নেওয়ায় হাতে করে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ফেলে আসতে হচ্ছে। দুই ময়লা বাসায় জমে গেলে দুর্গন্ধে ঘরে উপক্রম থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়। তারপরও ময়লার জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয় কিন্তু এতো কিছুর পরও ঠিক ভাবে ময়লা নেয় না। কেন ময়লা নেয় না জিজ্ঞাসা করলে ফেলতে পারে না। সিটি করপোরেশনের কয়েক বছর ধরে এ ময়লা সমস্যা কিন্তু সে বিষয়ে কোন বড় পদক্ষেপ নেই।’

দেওভোগ এলাকার বান্দিা বাদাল সাহা বলেন, স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে। এভাবে কতদিন থাকা যায়। আশে পাশে কোন ময়লা ফেলার স্থান নেই যে হাতে করে নিয়ে ফেলে আসবো। এভাবে আর ক’দিন চললে ঘরের মানুষ অসুস্থ্য হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, ময়লা নিয়ে স্থানীয় সমাধান প্রয়োজন। এভাবে কিছুদিন পরপর কিছু হলেই বাসা বাড়ির ময়লা নেওয়া বন্ধ করে দিয়ে নগরবাসীকে দুর্ভোগ দিতে পারেন না কর্তৃপক্ষ। যেহেতু বিগত কয়েক বছর ধরে নগরীর বাসা বাড়ির ময়লা আর্বজনা নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সেহেতু এটা নিয়েই আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এর পর অন্য অন্য  উন্ননয় করা হোক।

শহরের খানপুর এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন, সেদিন ময়লা ফেলার জায়গা না পেয়ে ডিসির বাস ভবনের সামনে ময়লার গাড়ি নিয়ে রেখে প্রতিবাদ করা হয়। পরে যখন সমস্যা সমাধান হয়েছে এখন নতুন করে সেই সমস্যা শুরু হয়েছে। এ ময়লা নিয়ে নগরবাসীকে আর কতদিন ভোগান্তি পোহাতে হবে। এখনতো মনে হয় সিটি করপোরেশনের সামনে নিয়ে ময়লাগুলো ফেলে রেখে আসি। না হলে মেয়রের বাসার সামনে রেখে আসি।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমান মেয়র ১৩ বছর ধরে দায়িত্বে আছেন। তিনি তো জানেন নগরের সব থেকে বড় সমস্যা কি। কিছুদিন পর পর ময়লা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়। রাস্তা ড্রেন সহ হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু ময়লার জন্য স্থায়ী কোন সমাধান কেন হচ্ছে না।’

শহরের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ময়লা পরিশোধের জন্য টাকা নেয় কিন্তু ময়লা নেয় না এটা কোন কথা হলো। সিটি করপোরেশন যেসব সেবা দিবে তার মধ্যে অন্যতম নগরী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, বাসা বাড়ির ময়লা সংগ্রহ করা আদৌকি সব সুবিধা নগরবাসী পাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বলেন, চারদিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার ময়লা অপসারণ শুরু হয়ে গেছে। মূলত সিটি করপোরেশনের পক্ষে কর্মীরা যেসব জায়গাগুলোতে ময়লা ফেলা হতো সেইসব জায়গা গুলোতে আর ফেলা হচ্ছে না। এর প্রেক্ষিতে দুইটি নতুন ডাম্পিং পয়েন্ট করা হয়েছে। এগুলোতে নিয়ে ময়লা ফেলতে কর্মীরা অপত্তি জানায়। তবে বর্তমানে এসমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। আশা করি ময়লা নিয়ে আর কোন সমস্যা হবে না। 

এর আগে গত ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গনে নতুন বছরের বাজেট অধিবেশনে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় ময়লা আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি প্লান্ট নির্মাণ পক্রিয়া চলছে। তখন এসব ময়লা বাসা থেকে কিনে নিয়ে যাবে। যার ফলে শহরের ময়লা থাকবে না। ময়লা হবে সম্পদ। 

ওই বাজেট অধিবেশে মেয়র আইভী বলেছিলেন, সিটি করপোরেশনের জালকুড়ি এলাকার নিজ জায়গায় ময়লা ফেলতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। শুধু ময়লা ফেলা নয় সেখানে ময়লা ফেললে জরিমানও করা হয়। কিন্তু একই স্থানে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে তাদের কোন বাধা দেওয়া হচ্ছে না কিংবা জরিমানাও না। সেদিন প্রতিকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পরদিন সৈয়দপুর এলাকার খাসের জমি সিটি করপোরেশন। এর থেকে ময়লা সমস্যা সমাধান হয়। 

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ