ধলেশ্বরী নদীর ১০ হাজার বর্গফুট ভরাট করে অবৈধ ডকইয়ার্ড

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৮:২৫ অপরাহ্ণ

ধলেশ্বরী নদীর ১০ হাজার বর্গফুট ভরাট করে অবৈধ ডকইয়ার্ড


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:১৫ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ১২:১৫ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার


ধলেশ্বরী নদীর ১০ হাজার বর্গফুট ভরাট করে অবৈধ ডকইয়ার্ড

জলাশয় আইনকে ভঙ্গ করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠপট্টি খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব তীরে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে ভরাটকৃত প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট এলাকায় অবৈধভাবে দু’টি ডকইয়ার্ড গড়ে তুলেছিল আলী আহাম্মদ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। এর আগে একাধিকবার বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালিত অভিযানে ওই ডকইয়ার্ড মালিককে নোটিশ, জরিমানা ও ভরাটকৃত অংশ সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দেয়া হলেও বন্ধ হয়নি অবৈধ দু’টি ডকইয়ার্ডের কার্যক্রম। এর আগে গত ৬ জুন নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার সরেজমিনে ওই এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে অবৈধ দু’টি ডকইয়ার্ডের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

ওই নির্দেশনার আলোকে রোববার (২২ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিমউদ্দিন হায়দারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও বিআইডিব্লউটিএ’র উর্ধ্বতনরা ওই এলাকায় পরিদর্শনে যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোঃ গুলজার আলী, নারায়ণগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসান, ঢাকা তেজগাও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী সেটেলম্যান্ট অফিসার মোঃ আওরঙ্গজেব, বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মহসীন মিয়া, কারিগরী সহকারী মোঃ রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোঃ গুলজার আলী জানান, ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব তীরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠপট্টি খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট এলাকা ভরাট করে অবৈধভাবে দু’টি ডকইয়ার্ড গড়ে তুলেছিল আলী আহাম্মদ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। আমরা তাকে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হলেও সে কোন ধরনের কর্ণপাত করেনি। ১৪ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ’র একটি টিম অভিযানে গেলে বাঁধা দেয় দখলদাররা। এরপর ২২ মে বিআইডব্লিউটিএ`র নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জলাশয় ভরাট আইনে দু’টি ডকইয়ার্ডের মালিক আলী আহাম্মদ বেপারীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের মধ্যে ভরাটকৃত অংশ সরিয়ে নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামীম বানু শান্তি তৎকালে জানিয়েছিলেন, ধলেশ্বরী নদীর তীর দখল করে দু’টি ডকইয়ার্ড গড়ে তোলা আলী আহাম্মদ বেপারী দাবি করেছেন তিনি ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক। এর আগে নদী ভাঙ্গনের কারনে ওই জমি বিলীন হয়ে গিয়েছিল। তাই তারা ভরাট করে সেখানে ডকইয়ার্ড গড়ে তুলেছেন। সদর এসিল্যান্ড থেকে তাদেরকে জমির সীমানা চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক জলাধার আইন ২০০০ অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি বা সংস্থা নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, দীঘিসহ যেকোন জলাশয়ের আকৃতি বা শ্রেণী পরিবর্তন করতে পারবেন না। কোন ব্যক্তি যদি জমির মালিকও হন কিন্তু তিনি জলাশয়ের আকৃতি বা শ্রেণী পরিবর্তন করতে পারবেন না। তাই নদী ভরাট করায় জলাধার আইন ২০০০ অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ছাড়াও তাকে ভরাটকৃত অংশ সরিয়ে নিয়ে নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২ মাসের সময় বেঁধে দিয়েছি। ওই জমির মালিক দাবিদার আলী আহাম্মদ বেপারী এ বিষয়ে একটি মুচলেকা দিয়েছেন।

এদিকে গত ৬ জুন নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার নারায়ণগঞ্জে পরিদর্শনে এসে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠপট্টি খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব তীর ভরাট করে গড়ে তোলা অবৈধ দু’টি ডকইয়ার্ডের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনার আলোকে রোববার ২২ জুলাই নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিমউদ্দিন হায়দারের নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এসময় জমির মালিক দাবিদার আহাম্মদ আলী বেপারী ও তার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

গুলজার আলী আরো জানান, পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমাদের জানিয়েছেন শীঘ্রই জমিটির মাপজোক শুরু হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ