৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

UMo

ইশ প্রতিদিন যদি এমন হতো


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০১:৪১ পিএম, ৫ আগস্ট ২০১৮ রবিবার


ইশ প্রতিদিন যদি এমন হতো

নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজটের চিত্র নগরবাসীর কাছের একটি নিত্যদিনের চিরচেনা দৃশ্য। ঘর থেকে বের হলেই প্রতিনিয়ত পরতে হয় যানজটে। ১০ মিনিটের রাস্তা ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও শেষ হয় না। এর জন্য ট্রাফিক আইন না মানা সহ যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও উল্টোপথে চলাচলকারী যানবাহন সহ বিভিন্ন কিছুকেই দায়ী করেন গাড়ি চালক, ট্রাফিক পুলিশ ও সাধারণ মানুষ। আর এতে যখন নগরবাসীর কাছে যানজট গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তখনই মাত্র কয়েকদিনের আন্দোলনে শৃঙ্খলা নিয়ে এসেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের এ প্রয়াসে অনেকেই বলেছিল ইশ প্রতিদিন যদি এমন হতো।

রাজধানীতে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বুধবার ১ আগস্ট শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরে অবস্থান নেয় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেদিন অবস্থান নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী লিংক রোড, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ও শিমরাইল সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। একইভাবে চলে বৃহস্পতিবার। তবে সপ্তাহের বন্ধের দিন শুক্রবার বিকেল থেকে যানবাহন অবরুদ্ধ না করে বরং সেগুলো শৃঙ্খলায় আনার কাজ করে তারা। এর ধারাবাহিকতা দেখা যায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনেও।

৪ আগস্ট শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা অবরোধ বাদ দিয়ে রিকশাগুলোকে সারিবদ্ধভাবে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে চলাচল করতে বাধ্য করে। মোটরসাইকেল চালকেরা হেলমেট মাথা দিয়ে এবং গাড়ির ড্রাইভাররা সিট বেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন। উল্টো পথের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।

এ ধরনের ট্রাফিকের ভূমিকায় পাঁচবার মাঠে নেমে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তবে সেটাও ছিল মাত্র এক থেকে দুইদিনের। এর মধ্যে শুক্রবার বিকেলে শামীম ওসমান আবার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আগামী রোববার দুপুরে মাঠে নামবেন শামীম ওসমান।

তবে ট্রাফিক পুলিশ ও শামীম ওসমানের পক্ষে যেসব সম্ভব হয়নি সেটাই করে দেখিয়েছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মাত্র কয়েকদিনের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলায় নিয়ে আসে সড়ক। বঙ্গবন্ধু সড়কের বিশৃঙ্খলাকারী চালকদের শৃঙ্খলায় নিয়ে এসেছেন। যেমনটা সারিবদ্ধ ভাবে গাড়ি চালানো তেমনি আবার উল্টোপথে না যাওয়া। এর সঙ্গে আছে হেলমেট ও সিটবেইল লাগানোর মতো সচেতনাতও। এধরণের প্রচেষ্টা ছিল শনিবার বিকেল পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আর এভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবেন। সঙ্গে থাকবে লাইসেন্স চেকিংয়ের কার্যক্রম।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। পরবর্তীতে সকল শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু করেন। প্রথমে তারা একটি মিছিল বের করে সিটি করপোরশেনের নগর ভবন হয়ে ফের চাষাঢ়া এসে অবস্থান নেন।

শনিবার শিক্ষার্থীরা অবরোধ বাদ দিয়ে রিকশাগুলোকে সারিবদ্ধভাবে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে চালাতে বাধ্য করে। মোটর সাইকেল চালকরা হেলমেট মাথা দিয়ে এবং গাড়ির ড্রাইভাররা সিট বেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন। উল্টো পথের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ