নারায়ণগঞ্জে ছাত্র আন্দোলন দুই কলেজের উস্কানিদাতারা চিহ্নিত

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে ছাত্র আন্দোলন দুই কলেজের উস্কানিদাতারা চিহ্নিত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০২:০০ পিএম, ৭ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:৪৪ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৮ বুধবার


নারায়ণগঞ্জে ছাত্র আন্দোলন দুই কলেজের উস্কানিদাতারা চিহ্নিত

রাজধানীতে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে টানা আন্দোলনে ছাত্র ছাত্রীদের সংঘঠিত করার পেছনে শিক্ষার্থী নয় এমন একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে। গত মঙ্গলবার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ চাষাঢ়ায় মানববন্ধন করলেও ১ আগস্ট বুধবার থেকে তারা সক্রিয় হয়ে উঠে। একইভাবে বৃহস্পতিবার ছিল ওই সিন্ডিকেট অন্তত শতাধিক সদস্য। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাক পড়ে মিশে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সংঘঠিত করে রাখা ও পরে কোন একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। সবশেষ গত ৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জে এ ধরনের একটি প্রয়াসও চালায় শিক্ষার্থী নামধারী একটি অংশ। সেদিন ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে উস্কানিদাতাদের শনাক্ত করছে। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকজনের মোবাইল কললিস্টও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রাথমিক তদন্তে অন্তত ৩০জন চিহ্নিত হয়েছে যারা সরাসরি এ ছাত্র আন্দোলনে পেছন থেকে উস্কানি দিয়েছে। কারণ সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা শুরু থেকে অবরোধ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সড়কে শৃঙ্খলা আনার কাজটি করতে চাইলেও ওই সিন্ডিকেট সেটা করতে দেয়নি। তারাই মূলত সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশনা ও উস্কানি দেয়।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, এক মেয়েকে শনাক্ত করা হয়েছে যে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি মোবাইল সীমকার্ড সংগ্রহ করেছিল। সে ১ আগস্ট বুধবার ও ২ আগস্ট বৃহস্পতিবার প্রত্যেকদিন শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এসে বিভিন্নজনকে ফোন করতে থাকে। ওই মেয়ে একেকটি সীম দিয়ে ৭ থেকে ৮টি কল করে আবারো সীম পরিবর্তন করে ফেলে। সে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া এবারের আন্দোলনে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশী নেপথ্য ও উস্কানিদাতা হিসেবে কাজ করেছে। একটি ছিল রণদাপ্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয় ও অপরটি নারায়ণগঞ্জ মডেল কলেজ। সবশেষ ৬ আগস্ট পর্যন্ত রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সরব ছিল।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আন্দোলনে বাম ঘরনার কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতারাও পেছন থেকে কাজ করেছে। এর মধ্যে ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ছাত্র সংঠনের লোকজনও ছিল। এছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে লেখা ফেস্টুনগুলোর স্লোগান মূলত ছোট ছোট চিরকুটে করেই সরবরাহ করা হয়।

কর্মকর্তা এও জানান, তারা শুরু থেকে সবকিছু প্রত্যক্ষ করলেও সরকারের কোন নির্দেশনা ও পরিস্থিতি যাতে ভিন্ন দিকে না যায় সেজন্য চুপ ছিলেন। কিন্তু সবকিছু তথ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সংগ্রহ করে রেখেছেন।

সবশেষ গত রোববার ছিল ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। সেদিন অনেকেই নানাভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল অরাজকতা করতে। সেদিন অবশ্য দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলাও হয়েছিল। এতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। সেদিন হামলায় শিক্ষার্থী নামধারী পোশাকধারীদের লাঠিসোটা বহন করতে দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, পুরো বিষয়গুলো ইতোমধ্যে যাচাই বাছাই চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তারা আবেগের বশে এসেছিল। কিন্তু তাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট ভিন্ন দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের অনেককে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার এ তিনদিন নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করে শত শত শিক্ষার্থী। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ও সাইনবোর্ড এলাকাতেও ছিল অবস্থান। এতে করে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে রাজধানী সহ আশেপাশের জেলার সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করেন যেখানে বাদ পড়েনি সরকার দলীয় এমপি, রাজনীতিক, পুলিশ, সাংবাদিকও।

এ অবস্থায় শুক্রবার ৩ আগস্ট দুপুর থেকে আবারো চাষাঢ়াতে অবস্থান নেয় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা আটক করে বেশ কয়েকটি গাড়ির চাবি যাদের লাইসেন্স ছিল না। তবে দুপুর ২টায় শামীম ওসমান আসেন চাষাঢ়াতে। সেখানে তখন চলছিল এক গ্রুপ শিক্ষার্থীদের অবস্থান। শামীম ওসমানের বক্তব্যের পর অবস্থানকারীরা সরে যায় ও জব্দ করা চাবিগুলো পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

ওই সময়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি তোমাদের গত দুদিনের আন্দোলনের ছবিগুলো দেখেছি। সেখানে তোমাদের মাঝে ঢুকে গেছে এমন কিছু মামলার আসামী আছে যারা শিবির ও জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত। তোমাদের মধ্যে এরা কোন অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। এসব বিষয় উদ্বেগের। তোমাদের মধ্যে অনেকেই ছিল যারা ছাত্র নয় তোমরা নিজেরাও খেয়াল করলে দেখতে পাবা। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তোমরা যেমন রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছ অধিকার আদায় করতে। ঠিক তারা এসব জমায়েতকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করে। উস্কানি দিয়ে তারা পিছু হটে যাতে তোমরা বিপদে পড়ো।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে আমি দেখেছি কিছু ছাত্র এমন কিছু প্লেকার্ড লিখে দাঁড়িয়েছে যারা ছাত্র না। এমনও হতে পারে ছাত্রদের এ সুন্দর প্রয়াসকে নষ্ট করার জন্য কেউ কিছু করতে পারে। ভালো ঘরের ছেলেরা এ ধরনের খারাপ ভাষার পোস্টার তারা লিখতে পারে না। যারা এটা করেছে তারা ছাত্র না। তা নাহলে এতো খারাপ ভাষায় লিখতে পারে না। যেটা আমার পড়তেও লজ্জা লেগেছে।

পরে ৪ আগস্ট শামীম ওসমান বলেন, মোহাম্মদপুরে শুধু একটি টেইলার্স থেকেই আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম ডেলিভারী নেয়া হয়েছে। এরা কারা করছে? নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি টেইলার্স থেকে আড়াইশ’ নতুন ইউনিফর্ম বানিয়ে রাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এদেরকে মাঠে নামানো হয়। এদের সাথে জামায়াত শিবির, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এবং কিছু বামপন্থি দলও যুক্ত হয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ