৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

গুরু আমার ‘ভালো না’ রাজনীতি শিখতে পারলাম না : সেলিম ওসমান


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৬ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার


গুরু আমার ‘ভালো না’ রাজনীতি শিখতে পারলাম না : সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সেলিম ওসমান ও আনোয়ার হোসেন গুরু শিষ্য হিসেবেই পরিচিত। এর আগে একাধিক সভাতে আনোয়ার হোসেনকে ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবেই অভিহিত করেন সেলিম ওসমান যাদের মধ্যে এক সময়ে সম্পর্কের বিস্তর ফারাক থাকলেও ২০১৪ সালের ২৬ জুন উপ নির্বাচনের আগে অনেকটাই মিটে যায়।

মঙ্গলবার ১৪ আগস্ট দুপুরে মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আহসান হাবিব বক্তব্যে আনোয়ার হোসেনকে এমপি সেলিম ওসমানের ‘শিক্ষাগুরু’ উল্লেখ করেন। তবে সেলিম ওসমান বক্তব্যে সেটা সঠিক নয় জানিয়ে বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন সাহেব আমার রাজনৈতিক গুরু, উনি আমার শিক্ষাগুরু নয়।’

সেলিম ওসমান মর্গ্যানের ওই অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের কথা ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমার কাছে আমার রাজনৈতিক গুরুর কিছু দাবি রয়েছে। দাবি বললে ভুল হবে আমার গুরুর আদেশ। তাঁর হাতে আমার বাবা আমাকে তুলে দিয়েছিলেন রাজনীতি শিখবার জন্যে। গুরু আমার বেশী ভালো না। কারণ তিনি আমায় রাজনীতিটাই শিখাতে পারেননি। এতদিনেও আমি রাজনীতিটাই শিখলাম না।’

ওই সময়ে সেলিম ওসমান স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেওভোগবাসীর ‘অহংকার’ মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করো যেন আমি আর মেয়র আমরা উভয়েই একই টেবিলে বসতে পারি সাথে যদি আনোয়ার ভাই থাকে। আমরা তিনজন যদি একই টেবিলে বসি আমি কথা দিচ্ছি তোমাদের দাবি কোনো দাবিই নয়। এই যে নারায়ণগঞ্জ কলেজ আজ অত্যাধুনিক নারায়ণগঞ্জ কলেজে রুপান্তর হচ্ছে। এই মর্গ্যান স্কুলও একদিন অত্যাধুনিক হবে। আর যদি আমি এমপি নাও থাকি, আমাকে যদি এখানে আনা হয় আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য করবো।’

এর আগে মর্গ্যান স্কুলের একটি ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মর্গ্যানের শিক্ষার্থীরা তুমুল আন্দোলনও করে। পরে সেলিম ওসমান ম্যানেজিং কমিটির সভায় উপস্থিত হয়ে আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে মনোযোগি হতে শিক্ষার্থীদের আহবান রাখেন। তখন থেকেই আন্দোলন থমকে যায়।

সে বিষয়টি পূর্ববর্তী বক্তারা তুলে ধরলে সেটার রেশ ধরে সেলিম ওসমান আরও বলেন, ‘বাচ্চাদের দাবি আমি কখনোই ফেলি না। দুর্ঘটনাবশত একটি ঘটনা ঘটেছে। তোমরা আন্দোলন করতে চেয়েছিলে আমি তোমাদের আন্দোলন করতে দেইনি। আমাদের কাজ করতে গেলে কোথাও না কোথাও ভুল হবে। কোথাও না কোথাও শিখবো। যেহেতু আমি এই এলাকার একজন সংসদ সদস্য আমি তোমাদের কাছে এসে অনুরোধ করেছিলাম তোমরা আলোচনায় বসো আন্দোলন করো না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের দোয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করতে পেরেছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যা যা করা উচিত ছিলো আমি হয়তো তার সবগুলো করতে পারিনি। তবুও আমার এলাকায় ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে প্রতিটি ইউনিয়নেই আমি একটি করে বহুতল বিশিষ্ট স্কুল নির্মাণ করেছি। আমি কদম রসুল কলেজকে সরকারি হিসেবে গতকাল সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছি। নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ রুমন রেজা আমায় সুযোগ করে দিয়েছেন আমরা সেই কলেজে ৭ তলা ভবন নির্মাণ করেছি। ইনশাল্লাহ আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এই অত্যধুনিক ভবনটি উদ্বোধন করা হবে।’

এছাড়াও চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ২’শ শয্যা সেখান থেকে ৩’শ শয্যা তারপর সেখান থেকে ৫’শ শয্যায় রূপান্তরের কাজ চলছে খানপুর হাসপাতালে। তবে এতকিছুর মধ্যেও আমি সবচেয়ে বেশী পছন্দ করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মান করতে।’

সেলিম ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা আমার কাছে কথা দিয়েছে যে আমরা স্কুল আর ব্যবস্থাপনা ঠিক করে দিতে পারলে তারা আমাদের ভালো রেজাল্ট দিবে। আমাদের আর কিছু চাওয়ার নেই। এরকম ঘটনা যেনো আর কখনও না ঘটে যে আমার মতো ইন্টারমিডিয়েট পাশ নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য না। অতি শিক্ষিত ব্যক্তির প্রয়োজন। তোমরা দ্রুত শিক্ষিত হও যেনো তোমাদের হাতে আমরা দায়িত্বটা তুলে দিতে পারি। তাহলেই আমরা শান্তিতে মরতে পারবো।

এ সময় আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে সকলেই মেয়ে শিক্ষার্থী তাদের অনেক মেয়েলী অসুস্থতা রয়েছে। আমার একজন মেয়েও যেনো অসুস্থতায় না ভুগে সেই দায়িত্ব আপনার। এই স্কুলে প্রতিমাসে একবার করে মহিলা ডাক্তার আসবে। তাদের সমস্ত চিকিৎসা বন্দোবস্ত আপনি করবেন। আর যদি আপনি তা না পারেন তবে আপনি এই স্কুল কমিটির দায়িত্বে থাকবেন না অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেয়া হবে। এই কথা শুনে আপনি আমাকে গালি দেন, বকা দেন, যাই দেন এটা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্য শেষে তিনি দেড় কোটি টাকার দুইটি চেকে মোট ৩ কোটি টাকা মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে অনুদান প্রদান করেন।

মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক তরু, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এস এম আহসানুল হক, শিক্ষানুরাগী সুলতানা রাজিয়া, নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুমন রেজা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি প্রমুখ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ