৭ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

শহরে আবার নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় ফের নৈরাজ্য


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩১ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার


শহরে আবার নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় ফের নৈরাজ্য

টানা ১০ দিন ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হবার সাথে সাথেই নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কে আবারও নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহর ফিরেছে তার আগের চেহারায়। বন্ধ করা যায়নি সড়কের নৈরাজ্য।

সড়কে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আয়োজিত ট্রাফিক সপ্তাহে কঠোর ভূমিকা পালন করে পুলিশ। পুলিশের সাথে সহযোগীতায় যোগ দেয় রোভার স্কাউট। মঙ্গলবার ১০দিনের ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হবার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট সরজমিনে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম সড়ক চাষাঢ়া হতে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত অনিয়মের চিত্র। বঙ্গবন্ধু রোডের ফুটপাত জুড়ে হকারের রাজত্ব। অবৈধ পার্কিং, সিগন্যাল না মানা, উল্টো পথে যানবাহন আর লেন না মেনে যান চলাচল আগের মতই রয়েছে। ফুটপাতে মোটরসাইকেল পার্কিং আর তারসাথে হাজার হাজার বৈধ-অবৈধ রিক্সার যত্রতত্র দাঁড় করে রেখে জটলা তৈরী তো রয়েছেই।

শহরের সমবায় মার্কেটের সামনে উল্টো পথে রিক্সা নিয়ে যাওয়ার সময় কারণ জিজ্ঞেস করলে জানায়, ঘুরে যেতে একটু বেশী সময় লাগে। আর রাস্তাতো বেশী না, অল্প একটু। এসময় রিক্সা আরোহী নিজেও রিক্সা ঠিক লেনে যেতে বললেও রিক্সাওয়ালা কথা না শুনেই উল্টো পথে যেতে লাগল।

শহরের খাজা মার্কেটের সামনে দেখা যায় অবৈধ রিক্সার জটলা। দায়িত্বরত একজন কমিউনিটি পুলিশের কাছে এর বৈধতা জানতে চাইলে বলেন, কতবার সরানো যায়? আপনে দাঁড়ায়া দেখেন ক্যামন লাগে? আর আমাদের কথা শুনেনা। ট্রাফিক পুলিশ থাকলে ভয় পায়।

একই চিত্র দেখা যায় পুলিশ বক্সের সামনে প্রতিবেদককে ছবি সংগ্রহ করতে দেখে এক পুলিশ এসে রিক্সার চাকা ফুটো করে দেবার ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। দুই মিনিট পরেই পুনরায় স্থান দখলে চলে আসে রিক্সাওয়ালাদের। পুরো ঘটনাটাই কার্যত বুঝিয়ে দেয় নিয়ম ভাঙার হিড়িক সড়ক জুড়ে কতটা গুরুত্বর।

এছাড়া নো পার্কিং লেখা সাইনবোর্ডের সামনে মোটর সাইকেল রেখে লেখা ঢেকে রাজার হালে বসে থাকতেও দেখা গেছে। এভাবে পার্কিং বৈধ কিনা জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে সটকে পরেন তিনি।

চাষাঢা-লিংকরোড মোড়ে ট্রাফিকের অনুপস্থিতিতে সড়ক হয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণহীন। যার যেভাবে খুশী সেভাবে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও সিগন্যাল দিলে তার প্রায় ১০/১৫ ফুট সামনে এসে গাড়ি থামায় চালকেরা।

ফলে অপর পাশের রাস্তা হয়ে পরে সরু। আর ফাঁকফোকর দিয়ে কয়েকটি মটরসাইকেল ট্রাফিকের চোখ এড়িয়ে দে ছুট...।

বঙ্গবন্ধু সড়কের পুরোটা সড়ক জুড়ে মানা হচ্ছেনা লেন। গাড়ির লেনে রিক্সা আর রিক্সার লেন অর্ধেকের বেশী দখল করে আছে যাত্রীর জন্য অপেক্ষারত রিক্সা। ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সকলে লেন মেনে চললেও তার চাইতে অনিয়মেই সুখ খুঁজে পান তারা।

জানতে চাইলে কাশেম নামে রিক্সাওয়ালা অনুশোচনার হাসি দিয়ে জানায় সবাই আহে তাই আমিও ঢুকলাম। আর অইলাইনে (রিক্সা-সাইকেল লেন) জ্যাম বেশী। গাড়ি আগায় না, তাই এই লাইনে আসি।

মার্কেটে শপিং করতে আসা গৃহিণী রোকসানা (৩২) জানান, দোষ তো আমাদেরই। আমরা ইচ্ছে করেই আইন মানি না। ছাত্ররা এত কষ্ট করলো কিন্তু তার কাংখিত সমাধান হল না। যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে আদৌ এই সমস্যা সমাধান সম্ভব না। এত আন্দোলন এত কিছু হল এখন যেই লাউ সেই কদু অবস্থা। তবে আমাদের আইন মান্য করার উপলব্দিটা যত দ্রুত আসবে ততটাই মঙল আমাদের জন্য।

উল্লে¬খ্য ১আগস্ট থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্ররা চাষাঢ়া অবরোধ করলেও পরের ২ দিন যান চলাচল সুশৃঙ্খল রাখে ছাত্ররা। তার পরিপ্রেক্ষিতে সড়কে নৈরাজ্য প্রতিরোধে ৭ দিনের ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর ৩ দিন সময় বৃদ্ধি করে ১০ দিন ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হয়। মামলাও হয় ৪১২০ টি। তবে সচেতন না হলে এর সুষ্ঠু সমাধান যে আদৌ সম্ভব নয় তা যথেষ্ট স্পষ্ট হলো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ