৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:৪০ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার উঠতি বয়সীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮ রবিবার


নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার উঠতি বয়সীরা

নারায়ণগঞ্জে নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার হতে হচ্ছে শিশুদের। তাদের অনেককেই আগে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। কখনো ধর্ষণের পর আবার কখনো জবাই করে। কখনো শ্বাসরোধ করে। গত কয়েক বছরে নারায়ণগঞ্জে এ ধরনের হত্যাকান্ড বেড়ে গেছে বহুগুণে।

আলিফ
শহরের জল্লারপাড় এলাকায় শিহাবউদ্দিন আলিফ (৫) নামে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর হাত পা বেঁধে লাশ ভরে রাখা হয় বস্তার ভেতরে। শুধু বস্তাবন্দী নয়, প্রথমে পলিথিন ব্যাগে ভরে লাশটিকে একটি বস্তায় ঢুকানো হয়। সেই বস্তার উপরে দেয়া ছিলো কংক্রিটের টুকরো। শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে যুবককে আটক করা হয়েছে।

১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে জল্লারপাড় আমহাট্টা এলাকার নান্নু মিয়ার একটি ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সে ওই এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার পাল জানান, সকাল হতে আলিফ নিখোঁজ ছিল। পরে বিকেলে পাশের এক ঘর থেকে পলিথিন পেচানো বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকেই নিখোঁজ ছিল আলিফ। চারপাশে সকল বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরেও যখন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না তখনই দুপুরের পর থেকে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া পিংকীর ছোট ছেলে সাকিব জানায়, সকালে একসাথে সাকিব ও আশপাশের কয়েকটি ঘরের আরও কিছু বাচ্চাদের সাথে খেলছিলো আলিফ। এমন সময় ঐ ঘরের ভাড়াটিয়া অহিদ এসে চকলেট দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গেছে তাকে।’

সাকিবের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে আলিফের পরিবার ছুটে যায় অহিদ ওরফে আজমেরী ও রিপন ওরফে সমরাটের ভাড়া ঘরে। ঘর তালাবদ্ধ দেখে ভাবে অহিদ ওরফে আজমেরী হয়তো আলিফকে নিয়ে বাইরে গেছে। তাই আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সেখানে। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে এলেও আলিফ বা অহিদ ওরফে আজমেরীর কোনো দেখা না পেয়ে বাধ্য হয়েই দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর প্রবেশ করেন তারা। একটি বস্তা দেখে সন্দেহ হয় তাদের। বস্তা খুলতেই সেখানে দেখা যায় ভাঙা ইট ও কংক্রিটের টুকরো। কিন্তু বস্তার নিচে হাত দিতেই তাদের সন্দেহ হয় নীচে কংক্রিট বা ইটের টুকরো নয়। অপেক্ষাকৃত নরম কিছু রয়েছে। একসময় বস্তা উপুর করে সমস্ত কংক্রিট মেঝেতে ঢালতেই বেড়িয়ে আসে শিশু শিহাবউদ্দীন আলিফের মরদেহ।

শুভ্র
সরকারি তোলারাম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্রকে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার তথ্য  উঠে এসেছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তদন্তে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সে নিখোঁজ ছিল। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যারা স্বীকার করেছে মোবাইল ছিনতাই করতেই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

ত্বকী হত্যা
২০১৩ সালের ৬ মার্চ মেধাবী ছাত্র ত্বকীকে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসার কাছ থেকে অপহরণ করা হয়। ৮ মার্চ লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা খালে। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলায় অজ্ঞাতজনদের আসামী করে মামলা করে। ত্বকীকেও হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তার মাথায়ও ছিল আঘাতের দাগ।

তরুণ নাট্যকার চঞ্চল
দিদারুল ইসলাম চঞ্চল ছিলেন দেশের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নাট্যকার, অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চঞ্চল। ১৮ জুলাই শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলে পুলিশ। খবর পেয়ে ১৯ জুলাই লাশের ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে উদ্ধার করা লাশটি চঞ্চলের বলে শনাক্ত করে নিহতের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল।

সিদ্ধিরগঞ্জে জোড়া খুন
গত ৫ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে দুইজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাইরে তালা মেরে রাখা হয়েছিল। নিহতরা হলো, কুমিল্লা জেলার মৃত আব্দুর রহিমের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫০) ও তার নাতি মেহেদী হাসান (৯)। তারা সকলেই সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার ইতালী প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ৩০ ডিসেম্বর সকাল থেকে পারভীন আক্তার ও মেহেদী হাসান নিখোঁজের অভিযোগে মেহেদী হাসানের বাবা নবী আউয়াল ৩ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নং-১৩১)।

১২দিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার
২৩ জানুয়ারী আড়াইহাজার উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ১২দিন পর সুরাইয়া আক্তারের (৭) পঁচন ধরা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। নিহত সুরাইয়া উপজেলার গোপালদী পৌরসভার ইসলামপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার মেয়ে।

নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীর লাশ
২৬ জানুয়ারী দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় স্কুল ছাত্রী রোকসানা আক্তারের (১০) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পর দুর্বৃত্তরা ফোন করে ৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছিল। পরিবারের লোকজন সে টাকা দিতে রাজী হলেও দুর্বৃত্তরা পরে আর যোগাযোগ করেনি। পুলিশও জীবিত অবস্থায় আফসানাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

রোকসানার মামাতো ভাই কাদির হোসেন পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, গত ২৩ জানুয়ারী সকালে বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাসায় ফিরেনি। তবে তার স্কুল ব্যাগটি বাসার পাশ থেকে পাওয়া গেছে। এলাকায় মাইকিং করাসহ নানাভাবে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ২৪ জানুয়ারী দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করেন বাবা আশরাফুল ইসলাম।

নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল ময়লার স্তূপে বস্তায়
বন্দর উপজেলায় ৭ দিন ধরে নিখোঁজ হওয়া ৮ বছরের শিশু এলেম মিয়ার লাশ মিলেছে একটি ময়লা আবর্জনার স্তূপে বস্তাবন্দী অবস্থায়। ১২ মার্চ দুপুরে উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার স্থান থেকে পরিছন্ন কর্মীরা শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ফেরে দেয় দুর্বৃত্তরা। বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ জানান, ৫ মার্চ এলেম নিখোঁজের ঘটনায় বন্দর থানায় একটি জিডি করেন বাবা আব্দুর রাজ্জাক। এতে অভিযোগ করা হয় ৪ মার্চ থেকেই এলেম নিখোঁজ ছিল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ