৪ কার্তিক ১৪২৫, শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮ , ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

UMo

সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ

আত্মহত্যায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


আত্মহত্যায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে

নারায়ণগঞ্জে অভিমান হতাশায় আত্মহত্যার ঘটনায় লাশের মিছিলে নতুন নতুন সংখ্যা যুক্ত হচ্ছে। এতে করে একদিকে প্রিয়জন হারিয়ে স্বজনরা বেকুল হয়ে পড়ছে; অন্যদিকে আত্মহননের মত ঘটনার ফলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। তবুও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বড়ছেনা যেকারণে এরুপ ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে পরিবার স্বজনদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণের মধ্য দিয়ে এসব ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

৯ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে আত্মহননের ঘটনার নানা চিত্র তুলে ধরা হল।

১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চোখের ব্যাথা সইতে না পেরে পারভেজ (২০) নামে যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রাতে যে কোন সময় বন্দর থানার ধামগড় ইউনিয়নস্থ চৈরার বাড়ী এলাকায় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। আত্মহননকারী পারভেজ একই এলাকার রমজান আলী মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসীর সংবাদের প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে বন্দর থানার উপ পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন সহ সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আলামিন বাদী হয়ে দুপুরে বন্দর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, বন্দর থানার ধামগড় ইউনিয়নস্থ চৈরার বাড়ি এলাকার দিনমজুর রমজান আলী মিয়ার ছেলে পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে চোখ ব্যাথা রোগে ভুগছিল। গত শুক্রবার রাতে পারভেজ খাবার খেয়ে তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পরে। ওই রাতে পারভেজের প্রচন্ড চোখ ব্যাথা উঠলে সে মনের ক্ষোভে রাতে যে কোন সময় তার নিজ ঘরের আড়ার সাথে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

১৩ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার দক্ষিন শেহাচর লালখা এলাকায় মোসলেহ উদ্দিন (৪৯) নামে এক রাজমিস্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। সন্ধ্যা ৭ টায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টায় পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

বাড়িওয়ালা মোঃ জসিম জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোসলেহ উদ্দিনের ঘরের দরজা দীর্ঘক্ষন বন্ধ ও ভেতরে লাইট জ্বলতে দেখে আমরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করি। বেশ কিছুক্ষন ধরে সাড়া না পাওয়ায় পেছনের জানালার ফাক থেকে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। এরপরে আমরা পুলিশে খবর দেই। বাড়ির প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ঘরে একাই থাকতেন। বিয়ে করেছেন শুনলেও আমরা তার বউকে নিয়ে আসতে দেখিনি। জিজ্ঞেস করলে বলতো বউ তার পরিবারের সঙ্গে খানপুর থাকে।

বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া জানান, কোরবানী ঈদের আগে মোসলেহ উদ্দিন যথেষ্ট ভালো মানুষই ছিল। ঈদের পর থেকে তাকে সর্বদা মন খারাপ করে থাকতে দেখতাম। ঈদের আগে মাঝে মাঝে খানপুর গিয়ে থাকতে দেখলেও ঈদের পড়ে সে আর খানপুর যেত না। ধারনা করা হচ্ছে পরিবারের সাথে কোন সমস্যা থাকতে পারে।

পুলিশ জানায়, তার সঙ্গে থাকা ভোটার আইডি কার্ডেও তার ঠিকানা খানপুর ডন চেম্বার, বাসা নং ১১৯/১ লেখা রয়েছে।

ঘটনাস্থলে আসা ফতুল্লা মডেল থানার এস আই ফাহেয়াদ উদ্দিন রক্তিম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমরা খবর পেয়ে রাত সোয়া নয়টায় উপস্থিত হই এবং দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করি। ভেতরের লাশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। নিহতের পরিচয় পাওয়া গেলেও তার পরিবারকে পাওয়া যায়নি। কি কারণে আত্মহত্যা করতে পারে তা এখনো রহস্যজনক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আত্মহননের মত ঘটনা ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে ভাল চোখে দেখা হয়না। যেকারণে আত্মহত্যার ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি সমাজের চোখে অনেকটা ঘৃণীত বিষয়ে পরিণত হয়। তাই প্রিয়জন হারা স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জন বিয়োগের দুঃখে অনেকটা কাতর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সমাজের ঘৃণার ছোবলে প্রতিনিয়ত দংশন হতে হয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি সহ পারিবারিকভাবে পরিবার সদস্যদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণের মধ্য দিয়ে এসব ঘটনার প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ