পুলিশের পুরস্কার ঘোষিত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৪ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



পুলিশের পুরস্কার ঘোষিত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জের দু’টি থানার শীর্ষ ৩২ মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারের তালিকা প্রকাশ করেছে পুলিশ প্রশাসন। তবে ওই ৩২ জনের তালিকাতে নেই শীর্ষ অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা নাম। বিশেষ করে শহর ও ফতুল্লায় শীর্ষ মাদক বিক্রেতাদের কয়েকজনের নামই ওই তালিকাতে পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকা প্রকাশকালে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘এরা (মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারেরা) ৩২ বা ৪০ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এদের সংখ্যা আরও বেশি। আমাদের এই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে। আমরা নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি নাগরিকে সহায়তা আশা করছি। আপনারা তথ্য দিন আমরা ব্যবস্থা নিবো। তথ্য প্রদাণকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে পাশাপাশি তাকে পুরষ্কৃত করা হবে আমাদের পক্ষ থেকে। আমরা নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই।’

সদর থানার ১৬ জন মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারের তালিকা
নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল এলাকার কালাচান মিয়ার ছেলে মো: বাদশা (৪০), পাইকপাড়া এলাকার মৃত মুরাদ মিয়ার ছেলে মো: শহিদুল ইসলাম উরফে রুমান (৪৮), ১৯২ নং দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে বাদল ওরফে বাদলা ওরফে মকবুল হোসেন (৫১), সৈয়দপুর এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে কালা মিয়া ওরফে হামিদ ওরফে কালাই (৩৮), বেপারীপাড়া এলাকার মৃত মুনু মিয়ার ছেলে মো: রানা (৩৫), দক্ষিণ রেলি বাগান এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে মো: শেখ ফরিদ (২৭), নারায়ণগঞ্জ থানা পুকুর পাড় রয়েল ট্যংক রোড রেলি বাগানের মৃত অর্জুন চন্দ্র পালের ছেলে কার্তিক চন্দ্র পাল (২৮), দেওভোগ আখড়া মসজিদ হোল্ডিং নং ৫২ এলএন রোড এলাকার মৃত কালাচাঁন মিয়ার ছেলে দিপু (৩৬), ২নং রেল গেইট বিবি রোড এলাকার হারুন রশিদের ছেলে সোয়াদ হোসেন ওরফে বান্টি (২৫), পাইকপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে মহিউদ্দিন (৩৫), দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার মৃত এনায়েত আলির ছেলে আওলাদ (৩২), পাইকপাড়া এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে রাজু আহমেদ (৩৫), সৈয়দপুর আল-আমিন নগরের মৃত খালেক বেপারীর ছেলে জাবেদ বেপারী (৪০), দক্ষিণ রেলী বাগানের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে মো: বাদল (৩৭), রেলী বাগানের ওয়াজউদ্দিনের ছেলে সালাউদ্দীন (৩১), শহরের মেট্রো হল সংলগ্ন কুমুদিনী বাগানের মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে মাসুদ ওরফে সিআইডি মাসুদ।

প্রথম ৮ জনকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার ও পরবর্তী ৮ জনকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার করে আর্থিক পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে

ফতুল্লা থানার ১৬ মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের তালিকা
দাপা মসজিদ এলাকার মৃত মতলব কাজীর ছেলে রিপন কাজী, মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার রফিকুল ইসলাম ভেন্ডারের ছেলে নাদিম (৩০), দাপা ইদ্রাকপুরের হাবিবুর রহমানের ছেলে মন্টু মিয়া (৪২), একই এলাকার শাহআলমের স্ত্রী পারভীন ওরফে নাইট পারভীন, খোচপাড়ার মৃত ফজলুল হকের ছেলে টিকি মরা লিটন (৪৫), রাম নগরের মৃত সাবেদ আলির ছেলে রহিম বাদশা (৪৮), মাসদাইরের মজিবরের ছেলে হিটলার (৪৮), একই এলাকার গোলাম মোস্তফা রনির স্ত্রী পারুল ওরফে পারুলী, দাপা ইদ্রাকপুরের সাইফুল ইসলামের ছেলে লিটন ওরফে সাইকেল লিটন (৪৮), আব্দুল রশিদ মিস্ত্রির ছেলে মানিক রতন, মাসদাইরের ফজলুল হকের ছেলে হান্ড্রেড নাসির, ফাজিলপুরের সামসুল হকের ছেলে সানি, দাপা মসজিদের ছেলে মতলব কাজির ছেলে সেন্টু কাজি (৩৪), দাপা মসজিদ এলাকার আলী নূর বেপারীর ছেলে উজ্জল, দাপা মসজিদ এলাকার মৃত সেকান্দারের লতিফ (৩৪), দাপা ইদ্রাকপুরের মৃত সামসুল হকের ছেলে লিপু ওরফে ডাকাত লিপু (৩২),

তালিকার প্রথম ৮ জনকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার ও পরবর্তী ৮ জনকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার করে আর্থিক পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে ওই তালিকায় নেই নারায়ণগঞ্জের অনেক শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী। যার মধ্যে সদর মডেল থানাধীন শহরের চাষাঢ়া এলাকার তবলা রিপন, খানপুরের ব্যাংককলোনী এলাকার রনি, খানপুর কুমুদিনী বাগানের নাসির, পাইকপাড়া জল্লারপাড়ের সজীব, হিমেল, শীতলক্ষ্যা তামাকপট্টি এলাকার সালাউদ্দিন বিটু অন্যতম। এছাড়া ফতুল্লার জামতলা এলাকার তমিজ উদ্দিন আপেল, বহিস্কৃত জাতীয় পার্টি নেতা হাজী বজলুর রহমান রিপন, দেওভোগের পোড়া মামুন, বিসিকের ফেন্সি রাসেল, রেলস্টেশনের ফেন্সি রনি, লামাপাড়ার চুন্নু, রফেদ আলী অন্যতম।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের উত্তর চাষাঢ়ার রামবাবুর পুকুরপাড় এলাকা থেকে শীর্ষ মাদক সম্রাট রিপন বিশ্বাস ওরফে তবলা রিপনকে (৪০) গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ৫০ পিছ ইয়াবা ও মাদক বিক্রের ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে  ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর শীর্ষ মাদক বিক্রেতা রিপন বিশ্বাস ওরফে তবলা রিপনের মাদক স্পটে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী ও বোন জামাইকে আটক করেছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রিপন পালিয়ে গেলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ বোতল ফেনসিডিল ও ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- চাষাঢ়া এলাকার তবলা রিপনের স্ত্রী রুমি রায়, তবলা রিপনের বোন লিনা বিশ্বাস ও ভগ্নিপতি স্বপন ওরফে মন্টু। বর্তমানে তবলা রিপন চাষাঢ়া এলাকার পাশাপাশি তার শ্বশুরবাড়ি ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকাতেও ঘাটি গেড়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালের ১৯ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮নং ওয়ার্ডের তামাকপট্টি শীতলক্ষ্যা এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট সালাউদ্দিন বিটুকে ৩০০ পিছ ইয়াবাসহ আটক করেছিল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সালাউদ্দিন বিটুর মাদকের সাম্রাজ্যে হানা দিয়েছিল সদর মডেল থানা পুলিশ। ওইসময় আলামিন নগরে সালাউদ্দিন বিটুর সহযোগী রাসেদুল ইসলাম রকি (২৭), হৃদয় (২৮) ও তোতাকে (২৫) ৭১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এর আগে ২০১৬ সালে গোপচর এলাকা থেকে বগুড়া ট্রান্সপোর্ট নামের একটি ফেন্সিডিল ভর্তি গাড়ীসহ উক্ত ট্রান্সপোর্টের মালিক ইমরান, সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের এক ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী সহ মাদক স¤্রাট সালাউদ্দীন বিটুকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকা মিন্টু রোডের গোয়েন্দা পুলিশের একটি টীম। এঘটনায় মাদক সম্রাট সালাউদ্দীন বিটু, ইমরান এবং যশোরের ফেন্সিডিল ডিলার প্রায় ২ মাস ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। মাদক সম্রাট সালাউদ্দিন বিটু এর আগেও ৫৪০ পিছ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকা থেকে ৮০০ পিছ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী নাসিরকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নাসির শহরের খানপুর কুমুদিনী বাগান এলাকার শরীফের পুত্র।

২০১৮ সালের ১৭ মে শহরের নাসিক ১৭নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮শ পিছ ইয়াবা সহ সজীব (২০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এর আগেও সজীব একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল।

২০১৭ সালের ১০ আগষ্ট সদর মডেল থানা পুলিশ ১০ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ পাইকপাড়া এলাকার শীর্ষ মাদক বিক্রেতা জাবেদ নেওয়াজ হিমেলকে (৩৫) গ্রেফতার করে।

বেশ কিছুদিন আগে ইয়াবার ডিলার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাবু মিয়াকে (৫০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। এসময় তার সহযোগী মোঃ হাসান মাহমুদকেও (৩৫) গ্রেফতার করা হয়। এসময় বাবুর হেফাজতে থাকা ৭২৪ পিস ইয়াবা, ২ পুরিয়া হেরোইন ও মাদক বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার কৃত বাবু শহরের পাইকপাড়া এলাকার মৃত বরজাহান মিয়ার পুত্র এবং হাসান মৃত সুরুজ মিয়ার পুত্র।

গত ৬ মে রাতে জামতলা হাজী ব্রাদার্স সড়ক এলাকা থেকে ২শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মৃত আ. কুদ্দুস মাদবরের ছেলে বহিস্কৃত জাপা নেতা হাজী বজলুর রহমান রিপন (৫৪) কে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর দুপুরে মাদক সম্রাট আওয়ামী লীগের নামধারী তমিজ উদ্দিন আপেলের বাড়িতে হানা দেয় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। তবে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী আপেল। পরে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী আপেলের বাসা থেকে সিসি ক্যামেরা, মনিটর ও একটি কন্ট্রোলার উদ্ধার করে। জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ মাদক সম্রাট তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এরপর পুরো মাসদাইর, গলাচিপা ও জামতলাসহ আশপাশের এলাকা মাদকের ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রনে আনে শহরের জামতলায় বসবাস করা মাদক বিক্রেতা সন্ত্রাসী আপেল। গোটা জামতলা এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো আপেল। অভিযানে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শাফিউল আলম জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় আপেলকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আপেলের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ৭ থেকে ৮টি মামলা রয়েছে। এ সময় তার বাড়ি থেকে সিসি ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আপেলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, আপেল বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ছাড়াও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী দেহব্যবসা ও ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তার কাছে বিশাল অস্ত্রের ভান্ডারও রয়েছে বলে জানা গেছে। পরে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ মাদক বিক্রেতা এক হাজার ১০০ পিস ইয়াবাসহ তমিজউদ্দীন খন্দকার আপেল ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শীর্ষ মাদক বিক্রেতা তমিজউদ্দীন খন্দকার আপেলের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানাতেই মাদকসহ বিভিন্ন আইনের দশটি মামলা রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে মামলার নম্বরসহ উল্লেখ করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জামতলা এলাকার মেজবাহ উদ্দীন খন্দকারের ছেলে তমিজউদ্দীন খন্দকার আপেল, একই এলাকার জামসেদ মিয়ার ছেলে বাবু, আবুল হোসেনের ছেলে ফয়সাল ও আলীম হোসেনের ছেলে মনির হোসেন।

২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর বিকেলে মাদক বিক্রি করাকালে নিজ বাড়ি থেকে মাদক সম্রাট রফেদ আলীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। এসময় তার কাছ থেকে ৪০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রফেদ আলী ফতুল্লা লামাপাড়া এলাকায় আসন আলীর ছেলে। ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা টুটুল জানান, গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে গোপন সংবাদে জানা যায় অস্ত্র ও মাদক বিক্রেতা রফেদ আলীর বাসায় বড় ধরনের মাদকের চালান এসেছে। অভিযান পরিচালনা করে ৪০ পিছ ইয়াবাসহ রফেদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এর আগে রফেদ আলীর সদস্যরা সিসি ক্যামেরায় পুলিশ দেখতে পেয়ে মাদক সরিয়ে নিয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকার অপরাধ জগৎতের ডন মোফাজ্জল হোসেন চুন্নুর ও তার অন্যতম সহযোগি রফেদ আলী (৪০) তাদের নিজ বাড়ি ও আশপাশ এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। চুন্নুর বাড়ির আশপাশে ১৬টি সিসি ক্যামেরা ও চুন্নুর সেকেন্ড ইন কমান্ড রফেদ আলীর বাসার আশপাশেও নিজস্ব অর্থ্যায়নে ৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ওই সকল সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধিসহ প্রতিপক্ষের গতিবিধিও নজরদারি করা হতো। এর আগেও চুন্নু ও রফেদ আলী একাধিকবার আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।

২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর ফতুল্লায় ৪৫ বোতল ফেনসিডিলসহ পোড়া মামুন ও ফেনসি রাসেলকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পোড়া মামুন হচ্ছে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার আসামী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

গেল বছরে ফতুল্লা মডেল থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকা থেকে এক শীর্ষ ইয়াবা ডিলার সোহেল আরমানকে গ্রেপ্তার করে। ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি চালান লেন দেনের সাথে সাথে গ্রেপ্তার করে মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ টাকা ও ২শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছিল ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

২০১৫ সালের ২ আগষ্ট ভুইগড় রগুনাথপুর এলাকা থেকে তিন হাজার তিনশত আশি (৩৩৮০) পিস ইয়াবা ও ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী জামালকে আটক করে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম।

ফতুল্লার সেহারচর এলাকার ডাকাত রতনের শেল্টারে ও তারই গাড়ি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছিল। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে একটি প্রাইভেটকারসহ (ল্যান্ড ক্রুজার) ডাকাত রতনের ৫ সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার পিছ ইয়াবা, ৪৫ বোতল ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকার শাহাবুদ্দিনের ছেলে সোহাগ খান (৩৩), বন্দর উপজেলার মিনার বাড়ির রতনের বাড়ির ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের ছেলে ইউসুফ আলী (১৯), ফতুল্লার কুতুবআইলের মোবারক হোসেন কল্লোলের ছেলে রবিন (৩০), ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার বাবুলের ছেলে হাবিব (২২) ও ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকার ফজলুল হকের ছেলে রাসেল (২২)।

গত ৩ ফেব্রুয়ারী রাতে ফতুল্লার পাগলায় মাসুম পারভেজ (৩০) নামের ডিবি পুলিশের এক সোর্সের একটি চোখ উৎপাটন করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক সম্রাট রহমান ও তার অনুসারী সজল, এনামুল, আকবর, লিখনসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জন অতর্কিতে মাসুম পারভেজের উপর হামলা চালায়। এসময় রহমান তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে তাকে জিম্মি করে এলোপাথারি মারধরের একপর্যায়ে রহমান তার দু’টি আঙ্গুল মাসুম পারভেজের দুই চোখে প্রবেশ করিয়ে দেয়।

২০১৮ সালের ১৩ জুলাই ফতুল্লার পাগলা নন্দলালপুর এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট রনি ওরফে পেচাঁ রনি, স্ত্রী পপি ও শাকিল মাদকসহ তিন জন গ্রেফতার হয়।

এছাড়া গত ২৮ এপ্রিল ফতুল্লার শীর্ষ মাদক সম্রাট মাসুম ওরফে কাইল্যা মাসুমকে (৩০) গ্রেপ্তার করে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতর। সদর উপজেলার ফতুল্লা সহ দক্ষিন শিহাচর এলাকা থেকে মাদক সম্রাট কাইল্যা মাসুম কে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেপ্তার করা হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও