১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০১ অপরাহ্ণ

UMo

সাকির সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার


সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ

দেড় বছরের ফুটফুটে শিশু সাদমান সাকি। এখনো ঠিকমতো কথা বলতে পারতো না সে। সবে মাত্র বাবাকে বাবা আর মাকে মা বলে ডাকতে পারতো। দুনিয়ার কোন কিছুই উপলব্দি করার মতো তার জ্ঞান হয়নি। কিন্তু এই দেড় বছরেই তাকে অপরাধীদের হাতে অপহৃত হতে হলো।

আজ প্রায় ১১ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে শিশু সাদমান সাকি। প্রশাসন এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। শুধুমাত্র আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে আসছেন। তবে নিরাশ হননি বাবা মা। তাদের বিশ্বাস, তারা অবুঝ শিশু সাদমান সাকিকে ফের তাদের কোলে ফিরে পাবে। সেই আশায় প্রশাসন থেকে শুরু বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে একের পর এক ধর্ণা দেয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।

এদিকে দেড় বছরের শিশু সাদমান সাকিকে হারিয়ে তার মা হাবিবা খানম খালেদ লিপি প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। কান্না ছাড়া কোন কথা বলতে পারেন না তিনি। ক্ষণে ক্ষণেই স্মৃতি হিসেবে রেখে যাওয়া সাদমান সাকির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির কথা স্মরণ করেন আর কাঁদেন। কিছুক্ষণ পরপরই তার কানে ভেসে আসে অপহৃত হয়ে যাওয়া শিশুর আওয়াজ। এই মনে হয়, তার আদরের সন্তান ফিরে এসেছে।

১৫ অক্টোবর সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সন্তানের সন্ধান দাবিতে হাজির হয়েছিলেন। এদিন শিশু সাদমান সাকিকে উদ্ধারের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিন্তু কান্নাছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন নি। কান্নজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। আর কিছু চাই না। সকলের কাছেই আমার শুধু একটাই চাওয়া, আমি আমার অবুঝ শিশুটিকে আমার কোলে ফিরে পেতে চাই। এসময় তার কান্নার আওয়াজে আশেপাশে নিরবতা নেমে আসে। কিছুক্ষণের জন্য সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।

শিশু সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন বলেন, আমার এই অবুঝ শিশুটি কি অপরাধ করেছে, তাকে কেন অপহরণ করা হলো। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে কেন তার নাতিকে অপহরণ করা হবে। আমি প্রধামন্ত্রীর কাছে আমার নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান চাই। ১১ মাস যাবত আমার শিশুটি নিখোঁজ রয়েছে। প্রশাসন আমার শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারছে না। কার ইশারায় এগুলো করা হচ্ছে। আমার এই অবুঝ শিশুকে অপহরণের পিছনে শক্তিশালী লোক জড়িত রয়েছে।

সৈয়দ ওমর খালেদ এপনের অভিযোগ, আমার ছেলে উদ্ধারের ক্ষেত্রে সদর থানা পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। মামলা র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের আবেদন নিয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে গেলে পুলিশ সুপার বলে, আমরা একটা লিংক পেয়েছি সাতদিন সময় দিন। কিন্তু এ সাতদিন শেষ হওয়ার আগেই মামলা পিবিআইকে দিয়ে দেয়া হয়। পিবিআই আমাদের জানায় যে, এ অপহরনের সাথে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী লোকজন জড়িত। এসপি সাহেবের নির্দেশনা পেলে আমরা ধরে নিয়ে আসবো। কিন্তু এরপর তারা আমাদের নানাভাবে ঘুরিয়ে সময় নষ্ট করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পুলিশের পুরো ভূমিকাটি রহস্যজনক।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বী বলেছেন, একটি দেড় বছরের শিশু কোনভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারে না। যদি তা হয় এটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বলতে পারি না। আমি প্রশাসনের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে দাবী জানাই, অতিদ্রুত শিশু সাদমান সাকিকে তার বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক।

রফিউর রাব্বী বলেন, শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার বাবা প্রশাসনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। তারা অপরাধীদেরকে সনাক্ত করার পরও আইনের আওতায় আনছে না। জনগণের নিরাপত্তরা সাথে জড়িত ব্যক্তিরা অপরাধীদের আড়াল করছে। যে সকল অপহরণ বা হত্যাকা-ের বিচার হয় না সে সকল ঘটনার পিছনে রাজনীতি রয়েছে। সরকার তাদের পিছনে দাঁড়ায়। একটি শিশু কখনই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের প্রশাসন অনেক চৌকস এরকম অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। প্রশাসন ইচ্ছা করলে অপরাধীদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে পারে। যদি অপরাধীদের পিছনে কোন শক্তি কাজ না করে থাকে। সুতরাং আমাদের দাবী হচ্ছে এই শিশুটিকে উদ্ধার করা হোক।

প্রসঙ্গত গত বছরের ১ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ঘরের বাইরে খেলার সময় দেওভোগ কাঠের দোতলা বড় জামে মসজিদ এলাকা থেকে শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজ হয়। সাদমান সাকির খোঁজে নগরীতে সর্বস্তরের জনগণের ব্যাপারে মানববন্ধন এবং নিখোঁজের ১৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ