৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২০ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে জোড়া খুনের চার্জশীট হয়নি এক বছরেও


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪২ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জে জোড়া খুনের চার্জশীট হয়নি এক বছরেও

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুরের আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় এক বছরেও দেয়া হয়নি চার্জশীট। এক বছরের ব্যবধানে মামলাটি দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়ে বর্তমানে পিবিআইয়ের তদন্তাধীন।

ওই হত্যাকান্ডের পরে কয়েকজন আসামীকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও এখনো পলাতক বেশীরভাগ আসামী। অন্যতম দুই আসামীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভার স্বামী বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহাম্মেদ গ্রেফতার হলেও তার বড় ভাই বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ কমিশনার আদালত থেকে জামিন বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জোড়া খুনের মামলায় এজাহারনামীয় কয়েকজন আসামীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতারের পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং এর মধ্যে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলেও তৎকালে ডিবি পুলিশ মামলার প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর বেপারীসহ কিলিং মিশনে থাকা প্রথম ৭ জন আসামীর কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। সম্প্রতি মামলাটি ডিবি থেকে স্থানান্তর হয়ে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে কাশীপুরের হোসাইনি নগর এলাকাতে একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। পরে নিহত পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা ও বিলুপ্ত শহর কমিটির সহ সভাপতি এম এ মজিদ ও তার ভাই বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাদের ইন্ধন থাকতে পারে।

মামলার আসামীরা হলো এক নং বাবুরাইলের শুক্কুর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী (৪০), ১নং বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে বাপ্পী (২৮), রবিন (৩০), রকি (২৮), ভূইয়াপাড়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে আমান (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার খোকা মিয়ার ছেলে শহিদ (৩০), বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার আসলাম (৫০), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার মৃত জাকিরের ছেলে মাহাবুব (৩০), বিএনপি নেতা হাসান আহমেদের ভাতিজা শিপলু (৩০) ও রাসেল (৩৩), বাবুরাইল এলাকার মুক্তা (২৮), পাইকপাড়া জিমখানা ডিমের দোকান এলাকার শরীফ (৩৩), বাবুরাইলের রানা (২৮), বাবুরাইলের কিরণ (৩০), মানিক (৩০), বাবুরাইলের আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২৬), বন্দর এলাকার রাব্বি (৩০), ১নং বাবুরাইলের নিলু সরদারের ছেলে সোহাগ (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার রাকিব (২৭), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে রাজন (৩০), বাবুরাইল এলাকার রিক্সা আবুল (৩৫), একই এলাকার ফরহাদ (৫২) সহ অজ্ঞাত আরো ১শ থেকে ১২৫ জন। মামলার আসামীরা সকলেই বিএনপি নেতা মজিদ ও হাসান বাহিনীর লোক হিসেবে পরিচিত।

২১ নভেম্বর কাশীপুরে ডাবল মার্ডারের এজাহারভুক্ত আসামী কিরণসহ ৪ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, বাবুরাইল এলাকার কিরণ, আলাল, জালাল, মনির ও বরিশাইল্লা ইমরান। পরদিন ২২ নভেম্বর ভোরে মোঃ তৌফিকুল ইসলাম নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫ নভেম্বর বাবুরাইলের মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রক জুম্মন আহম্মেদকে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৩ অক্টোবর কিলিং মিশনে থাকা মাহবুব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আদালতকে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক কমিশনার এম এ মজিদের নির্দেশেই সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুরে ডাবল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। একইদিন জোড়া খুনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিজামুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ অক্টোবর আবুল ও জসিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে ১৭ অক্টোবর ডাবল মার্ডারের এজাহার নামীয় আসামি রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া ১৫ অক্টোবর সকালে কাশিপুর খিল মার্কেট এলাকা থেকে মামলার ১০নং আসামী মো. মোজাম্মেল হক রাজনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় মহনগর বিএনপির উপদেষ্টা এমএ মজিদ ও তার ভাই বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদকে ‘ঠান্ডা মাথার খুনি’ অখ্যায়িত করেন দুই সহোদরের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করলে সব তথ্য পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তারা। লিখিত বক্তব্যে মিল্টনের খালাতো ভাই সাইফুল তারেক বলেন, ‘এম এ মজিদ ও মো. হাসান আহম্মেদের নির্দেশে মিল্টন ও পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আলামত নষ্ট করার জন্য ঘটনাস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১২ অক্টোবর রাতে মজিদ ও হাসান আহাম্মেদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ট্র্যাকিং করলেই সব দিনের আলোর মতো পরিস্কার হয়ে যাবে।

এদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পরে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল কাশিপুরের জোড়া খুনের অন্যতম আসামী বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তবে তৎকালে জোড়া খুনের মামলায় সে জামিনে থাকায় তাকে অপর একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

বর্তমানে জোড়া খুনের দুই নির্দেশদাতা মজিদ ও হাসানসহ আসামীদের বেশীরভাগই আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক এনামুল হক জানান, সম্প্রতি মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ এর এসআই সাদেকুল ইসলাম জানান, কাশিপুরের জোড়া খুনের মামলাটি সম্প্রতিই তাদের কাছে এসেছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, এই মামলায় এক আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। জবানবন্দীতে আসামীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা ছিলনা। এজন্য আসামীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তদন্ত শেষে চার্জশীট প্রদান করতে পারবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ