১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৪ অপরাহ্ণ

UMo

সরকারী গাছ কেটে অবৈধ বালু ব্যবসা যুবলীগ নেতার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:৩৫ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার


সরকারী গাছ কেটে অবৈধ বালু ব্যবসা যুবলীগ নেতার

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মৌজার শিমরাইল ও কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিমপাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ১০লাখ টাকা ব্যয়ে সবুজ বনায়নের সরকারী গাছ কেটে একটি প্রভাবশালী মহল অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ পাথর ও বালুর ব্যবসা। নদীর সীমানা পিলারের ভেতরেই পাথর, সিলেকশান বালু বা সিলেট সেন্টসহ পাথরের ব্যবসা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম রাতের আধারে সরকারী গাছ কেটে জায়গা ভাড়া দিয়ে এ অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে। বিআইডব্লিউটি’এর নিজস্ব জায়গায় লাগানো গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বনায়নের মাঝেই প্রকাশ্যে চালাচ্ছে পাথর ও বালুর ব্যবসা। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এভাবে ব্যবসায় চলতে থাকলে এক সময় ওয়াকওয়েটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অভিযান করেও লাভ হচ্ছে না। ফলে আগের মতই নষ্ট হচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদীর পরিবেশ।

শীলতলক্ষ্যা নদী থেকে বালুবাহী ট্টলারের বালু উত্তোনের সময় বালু ও পাথর নদীতে পড়ে ভরাট হচ্ছে শীতলক্ষ্যার তলদেশ। ফলে ধীরে ধীরে শীতলক্ষ্যার গতিপথও পরিবর্তন হতে পারে। সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের একটি বাহিনী গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে আটক করেছিল।

২০০৯ সালের জুন মাসে হাইকোর্ট শীতলক্ষ্যা নদীসহ রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী ৪টি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএকে নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ অংশে ৪৪ কোটি টাকা ব্যায়ে সাড়ে ৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে (হাঁটার চলার রাস্তা) নির্মাণ ও বনায়ন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত তিন মাস ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম রাতের আধারে তার লোক দিয়ে ওয়াকওয়ের পাশের বনায়নের গাছ কেটে ফেলে পরবর্তীতে ওই জায়গা ভাড়া দিচ্ছে বালুর ব্যবসায়ীদের কাছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর শিমরাইল এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, নদীতে অবাধে সিলেকশন বালু বা সিলেট সেন্ট ও পাথর নদীর সীমানা পিলারের ভেতরের বনায়নের জায়গায় রাখা হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে সারি সারিভাবে বালুভর্তি ও পাথর ভর্তি নৌ-যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বনায়নের জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে টয়লেট ও দোকানপাট। রাখা হয়েছে অসংখ্য ট্রাক।

নদীর সীমানা পিলারের ভেতরে বনায়নের জায়গায় খালি ঘরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের গদিঘরও দেখা গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স আতরবানু ট্রেডার্স (মালিক মনির হোসেন), মেসার্স শীতলক্ষ্যা এন্ট্রারপ্রাইজ (মালিক আনোয়ার হোসেন চাঁন মিয়া), মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজ (মালিক মুক্তার হোসেন), খাজা বাবা ফরিদপুরী (মালিক জাহাঙ্গীর), ফিরোজ এন্টারপ্রাইজ (মালিক ফিরোজ), মেসার্স সতেজ এন্টারপ্রাইজ (মালিক মোঃ আবুল কাশেম) ও সেভেন বিল্ডার্স (মালিকের নাম জানা যায়নি), সালাহউদ্দিন ওরফে লাদেন সালাহউদ্দিন গদিঘর ও গদির বালু, সিলেট সেন্ট ও পাথর স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু হয়। চলে দিনভর। মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার কামরুজ্জামান বলেন, এ গদির জায়গাটি নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আমাদের মালিক মুক্তার হোসেন ভাড়া নিয়েছেন। কত টাকা ভাড়া দিতে হয় সেই বিষয়টি মালিক জানেন। গত তিন মাস আগে এ গদির জায়গাটি ভাড়া নেন। তারা বিক্রয় করছেন প্রতি ট্রাক ৬-৭ হাজার টাকায় সিলেট সেন্ট (সিলেট বালু)। মেসার্স আতরবানু ট্রেডার্সের কর্মচারী জজ মিয়া জানান, এ গদির মালিক মনির হোসেন। তার সিলেট বালি নদীর সীমানা পিলারের মধ্যে বনায়নের ভেতরে স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে।

মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজের মালিক মুক্তার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি কিছুদিন আগে এ জায়গাটি যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছি। এছাড়াও কিছু টাকা অগ্রিম দিয়েছি। আমার শুকুরশি এলাকাও একই ব্যবসা রয়েছে। এভাবেই বনায়ন কেটে ও সীমানা পিলারের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে পাথর ও বালুর ব্যবসা করছে। তারা কত টাকা অগ্রিম দিয়েছে ও প্রতিমাস কত টাকা ভাড়া দিচ্ছে তা প্রকাশ করছে না।

স্থানীয় একটি সূত্র জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ৪ লাখ টাকা অগ্রীম ও ৪০ হাজার টাকা করে ভাড়া দিয়ে উক্ত জায়গায় ব্যবসা করতে দিয়েছে। এছাড়াও, নজরুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় বালুর ব্যবসায়ীরা।

সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, আমি শীতলক্ষ্যা নদীর পেপার মিলস্ এরিয়া থেকে তাজজুট মিল পর্যন্ত ঘাট ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছি। আমি কোন গাছ কেটে ব্যবসা করছি না।

বিআইডবিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী বলেন, শিমরাইল এলাকায় নজরুল ইসলাম নামে একজন বিআইডব্লিউটিএ’র জায়গা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছে এ বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের লোকজন শিমরাইল এলাকায় গিয়ে উক্ত স্থানের ছবিও উঠিয়ে নিয়ে এসেছেন। আমরা নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ