১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৬ অপরাহ্ণ

UMo

৫ খুনে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে আতঙ্ক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০১ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


৫ খুনে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে আতঙ্ক

নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে একই দিনে ৫টি খুনের ঘটনায় লাশ উদ্ধার হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, স্বামীর হাতে স্ত্রী ও স্ত্রীর হাতে স্বামী, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুনের মত নানা ঘটনা ঘটলেও এখন খুন করে লাশ প্রকাশ্যে ফেলে রাখার চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ যেন আতঙ্কপুরীতে পরিণত হয়েছে। ২১ অক্টোবর রোববার সকাল থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধারের খবরে চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ যখন ঘনিয়ে আসছে তার আগমূহুর্তে এভাবে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডগুলোকে ঘিরে জনগণের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মাথা থেঁতলানো অবস্থায় ৪ যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে লাশ ফেলে গেছে ধারণা পুলিশের। তবে এরা ডাকাত দলের সদস্য কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ওই লাশ গুলো উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হক জানান, ভোরে এলাকাবাসী জানালে পুলিশ গিয়ে লাশ গুলো উদ্ধার করে। এসময় লাশের পাশে পরে থাকায় অবস্থায় ২টি দেশীয় পিস্তল ও ১টি প্রাইভেটকার (নোয়া- ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-০৫০১) জব্দ করে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি লাশের মাথাগুলো থেঁতলে দেওয়া হয়েছে যাতে পরিচয় না জানা যায়। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তবে শরীরে কোন গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

আব্দুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও থেকে হত্যা করে এখানে লাশগুলো ফেলে গেছে। আর যাতে পরিচয় শনাক্ত না করা যায় সেই জন্যই মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। এরা ডাকাত দলের সদস্য কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রোববার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় পাচরুখি গ্রামের জাইদুল ইসলামের সঙ্গে, তিনি বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে ফজরের নামাজ এর জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় একটি সাদা রঙ্গের সাদা প্রাইভেটকার ও তার দুই পাশে চারজনের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে। একই গ্রামের আরিফ মিয়া বলেন, মহাসড়কের উত্তর পাশ থেকে দুইজনের লাশ ও দক্ষিণ পাশ থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করাহয়। লাশ গুলো উপুর হয়ে বালুর মধ্যে পড়েছিল। সেখানে ছোপ ছোপ রক্তে জমাট বাধা ছিল। নিহতদের একনজর দেখার জন্য আস পাশ এলাকা থেকে শত শত নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে এসে ভির জমায়। এসকল প্রত্যক্ষদর্শিদের নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ হিমশিম খায়।

সাদিকুর রহমান বলেন, মসজিদ থেকে দুইশ গজ দুরে একটি গাড়ী থামানো দেখে সেখানে গিয়ে দেখি চারজন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে। প্রথমে দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। মুসা মিয়া বলেন, চার ব্যক্তিকে হত্যা করে এখানে তাদের লাশ ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারনা করছি আমরা। কারন নিহত ব্যক্তিদের কেউ এই এলাকায় চেনেন না।

সাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাহমুদ বলেন, স্থানীয়রা জানালে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো পরে থাকতে দেখি। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে রাতে কেউ কোন গুলির শব্দও পায়নি। আর লাশগুলো স্থানীয়রা কেউ চিনতে পারেনি।

এদিকে একই দিনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে অজ্ঞাত এক যুবকের (৪০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার পর মুখের একপাশে থেতলে দেয়া হয়েছে। পুলিশের ধারনা ডাকাতদের ডাকাতি করা মালামাল ভাগাভাগি করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ তাকে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। ভোরে উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কুশাব জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ভুলতা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে কুশাব জামে মসজিদের পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। পুলিশের ধারনা রাতের যেকোন সময় ডাকাতি করা মালামালের ভাগাভাগি নিয়ে একপক্ষ ওই যুবককে হত্যা করে গাড়ী থেকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে কুশাব জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা আব্দুল মতিন জানান, ফজরের নামাযের আগেই সড়কে পুলিশের একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। নামাজ শেষের পরপর কিছু পোশাকধারী পুলিশ সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে মুসুল্লিদের চলাচলে বাধা দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লাশটি পরে থাকতে দেখেন তারা। সকাল ৮ টার দিকে অপর একদল পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নগরবাসী জানায়, ‘একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এর আগে ৭ খুন, ৫ খুন সহ ত্বকী হত্যার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে খুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সেই থেকে খুন, গুমের আর পিছু ছাড়ছেনা। এরপর বিভিন্ন সময় খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে। তবে এসব খুনের ঘটনা আড়াল করতে অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে রাতের আধারে বিভিন্ন স্থানে লাশ ফেলে নানা নাটকের জন্ম দিচ্ছে। এতে করে অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে করে জনসাধারণ আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘খুনের ঘটনা এভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে আতঙ্ক দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে। এতে শীঘ্রই এসব খুনের ঘটনার লাগাম টেনে না ধরা গেলে এই আতঙ্ক আরো ছড়িয়ে পড়বে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ