২৯ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , ১:৪২ অপরাহ্ণ

UMo

শহরে বাড়ছে ছিনতাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ


সাবিত আল হাসান (স্টাফ করেসপনডেন্ট) || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪০ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

মাদক আর নাশকতার আসামী ধরতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে একের পর হত্যা, নির্যাতন, ছিনতাই, জমি দখলের কারবার চললেও সেদিকে তাকাতে যেন ভুলে গেছে তারা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াতের নাশকতার আসামী সহ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হলেও জনমনে স্বস্তি এনে দিতে পারেনি তারা। বরং শহর ও শহরতলীর সর্বত্রই বেড়েছে ছিনতাইকারীদের দাপট। দিনে দিনে পুরো শহর হয়ে উঠেছে অনিরাপদ নগরীতে। আর রাতের বেলা তা হয়ে উঠে আরো ভয়ঙ্কর।

নারায়ণগঞ্জ শহর বর্তমানে বাস করে প্রায় ১০ লাখের অধিক মানুষ। এছাড়া নিত্যদিন ব্যবসায়িক কর্মকান্ড ও চাকরির সুবাদে আরো কয়েক সহস্রাধিক মানুষের পদচারনায় মুখর থাকে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ নগরী। দেশের অর্থনীতির এক বিশাল যোগানদাতা এই শহরের পথ ধীরে ধীরে অনিরাপদ রূপে দেখা দিচ্ছে। গ্রাম অঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক মাসে অভাব অনটন বাড়ার কারণে চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই শহরে চুরি আর ছিনতাইকারীর উপদ্রব থাকে সারা বছরই। কিছু কিছু স্পট হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। নিরাপত্তাহীনতার মাঝে জনসাধারণের জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা যে সবচেয়ে বেশী ছিনতাই ঘটে পুলিশের নাকের ডগায়। ফলে সর্বস্ব হারিয়েও এ নিয়ে সামনে এগোতে চান না ভুক্তভোগীরা।

নারায়ণগঞ্জ শহরে ছিনতাই এর অন্যতম স্পট গুলোতে পুলিশের বাড়তি নজরদারি না থাকলেও নগরবাসী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সচেতন হয়ে উঠেছে। বিকেলের পর থেকে রাত পর্যন্ত না পারলে কেউ সে সকল স্থানগুলোতে একা চলাফেরা করে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় ছিনতাইকারীদের সুবিধাজনক স্পট গুলো হচ্ছে, চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশেপাশে, চাষাঢ়া রেললাইন এলাকা, স্বান্তনা মার্কেট, নগরীর ২নং রেল গেইট, আলী আহমেদ চুনকা পাঠাগারের উল্টো দিকে, নিতাইগঞ্জ মোড়, চারারগোপ ৫ নং নৌকা ঘাট, সিরাজদ্দৌলা সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বের ফুটপাতে।

এসকল স্থানে ছিনতাইকারীদের ধরনগুলোও উঠে এসেছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। ছিনতাইকারীরা একা রিক্সায় উঠে চাকু বা অস্ত্র ঠেকিয়ে নীরবে হাতিয়ে নেয় টাকা পয়সা। কখনো ৩/৪ জন মিলে রিক্সা থামিয়ে ছিনতাই করে। ফুটপাতে হেটে যাওয়া পথচারীদের ২/৩ জন মিলে থামিয়ে ক্ষমতাশালী প্রভাব দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে। কোন কারণে এদের কোন সদস্যকে ধরতে পারলে দলের অন্য সদস্যরা এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশও অনেকক্ষেত্রে সহযোগীতার হাত বাড়ায় না বলে অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের।

কয়েকদিন আগে চাষাঢ়ায় স্বান্তনা মার্কেট সংলগ্ন জয়নাল ট্রেড সেন্টারের সামনে দিনে দুপুরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন টাঙ্গাইল থেকে নারায়ণগঞ্জে বেড়াতে আসা এক যুবক। এসকল ছিনতাই এর পাশাপাশি ২নং রেলগেইটে পথচারীদের ব্যস্ত পদচারনার ফাঁকে পকেটমার ওঁৎ পেতে থাকে সর্বক্ষন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নজরুল আলম ক্ষোভের সাথে জানান, পুলিশ বক্সের ১০০ গজের ভেতর রিক্সা থামিয়ে আমার টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। পুলিশ বক্সে গিয়ে দেখি কন্সটেবলরা চেয়ারে বসে আছে। সবকিছু খুলে বললে আমাকে তারা জিজ্ঞেস করে যে ওরা ( ছিনতাইকারীরা) এখনও স্পটে আছে কি? আমি বলি ওরা এতক্ষণে সরে যাবে এটাই স্বাভাবিক। পরে পুলিশ সদস্যরা থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিল। প্রশ্ন হচ্ছে, আমার যদি সবকিছুতে থানায় যেতে হয় তাহলে পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত সদস্যদের কাজ কি? রাস্তায় আমাদের নিরাপত্তা কে দিবে?

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুল ইসলাম ছিনতাই এর অভিযোগ শুনে জানান, শহরে এখন ছিনতাই নেই বললেই চলে। শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলা যায়। তবে শহরের ২ নং রেলগেইট হতে আলী আহমদ পাঠাগার পর্যন্ত এলাকায় একাধিক ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে জানানো হলে বলেন, শহরে অনেক মানুষদের আনা গোনা। ব্যস্ত শহরে দু একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতেও পারে, তবে আমরা এর নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ