৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২২ অপরাহ্ণ

rabbhaban

বিআইডব্লিউটিসির কার্যালয় যেন ডাস্টবিন


সোহেল রানা, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার


বিআইডব্লিউটিসির কার্যালয় যেন ডাস্টবিন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ডেপুটি পার্সোনেল ম্যানেজার (বহর) এর কার্যালয় এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির চতুর্দিকে ময়লা আবর্জনা ফেলে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে অফিস করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, খানপুর মেট্রো হল হতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কে কুমুদিনী ট্রাস্টের বিপরীতে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিসি অফিস। এ অফিসের সামনে সড়কে সিটি কর্পোরেশন, এলাকাবাসী ও কালীরবাজারে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত ময়লা আবর্জনা ফেলে। প্রতিষ্ঠানটির সামনের দিকে ময়লা আবর্জনা ফেলে এলাকাবাসী এবং সামনের দিকে ময়লা ফেলে সিটি কর্পোরেশন এবং কালীরবাজারের ব্যবসায়ীরা। রাতে নিরবে এসে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ব্যবসায়ীরা বিআইডব্লিউটিসি এর প্রবেশ পথে ময়লা আবর্জনা মূল প্রবেশ পথের সামনে স্তূপ করে রাখা হয়। ফলে কর্মচারী কর্মকর্তাদের ভিতরে প্রবেশ করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানটির ভয়াবহ অবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির এরিয়ার চারটি স্পটে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আবর্জনার স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পেছনের দিকে অফিস কক্ষের ঠিক পেছনেই এলকাবাসীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলে উচু ঢিবি তৈরী করেছেন। ময়লার পরিমাণ এত বেশি যে অধিকাংশ সময় নাক চেপে অফিস করতে হয়। মাঝে মাঝে দুর্গন্ধের কারণে অফিস কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হয় কর্মকর্তাদের।

ভোগান্তি প্রসঙ্গে পার্সোনেল অফিসার (বহর) (এক) দপ্তর নারায়ণগঞ্জের আব্দুর রওফ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমার অফিস কক্ষের জানালার পাশেই ময়লার স্তূপ। এখানে প্রতিদিন ময়লাতো ফেলেই মাঝে মাঝে মরা কুকুর, বিড়াল এমনকি মাছ, মুরগির নাড়িভুড়ি ফেলা হয়। তখন দুর্গন্ধে এখানে থাকা যায় না। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। প্রচন্ড ভোগান্তির মধ্যে অফিস করতে হয়।

পার্সোনেল অফিসার (বহর) (দুই) দপ্তর নারায়ণগঞ্জের ইউসুফ মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, প্রতিদিন গেইটের সামনের ময়লা ডিঙ্গিয়ে অফিসে আসতে হয়। গেইটের সামনে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি রেখে ময়লা অপসারণ করে। যে কারণে অনেক সময় অফিসে ঢুকতে পারি না। যখন ময়লা অপসারণ করে তখন রাস্তায় প্রচন্ড যানজট লাগে। চলাচল করতে প্রচন্ড ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এলাকাবাসী এবং সিটি কর্পোরেশনের কাছে বারবার ময়লা না ফেলার অনুরোধ করেও কোনো উপকার পায়নি এখানকার কর্মকর্তারা। রাতের বেলায় সিকিউরিটি গার্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফেলে চলে যায় ময়লা-আবর্জনা।

এ প্রসঙ্গে সিকিউরিটি গার্ড মো হাসান মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এরিয়াটা অনেক বড়। সব সময় এক পাশে থাকা সম্ভব না। যখন এক পাশ থেকে অন্যপাশে আসি তখন তারা ময়লা ফেলে চলে যায়। আমার আর কিছুই করতে পারি না। দেয়াল ছোট হওয়ায় এলাকাবাসী এই দেয়ালের বাইরে থেকেই ময়লা ফেলে চলে যায়। অনেক সময় দেখাও যায় না এখানে কে ময়লা ফেলছে। তাদেরকে বলার পরেও তারা ময়লা ফেলে। তাদের সাথে মারামারি করাতো সম্ভব না। তাই কিছু বলতেও পারি না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ডেপুটি পার্সোনেল ম্যানেজার (বহর) পি.এম আলম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমরা সিটি কর্পোরেশনের কাছে লিখিত এবং সরাসরি দেখা করে এই ব্যাপারে কথা বলেছি। কিন্তু তাদের কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখি না। আগের মতই গেইটের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। অফিস করতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। এইভাবে ময়লা ফেললে তো চলবে না। এখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণের সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমবার ফোন না ধরলেও দ্বিতীয় বার ফোন ধরে আবার কেটে দেন তিনি। পরবর্তিতে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ