বাস ট্রেন বন্ধ, ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:৪৩ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



বাস ট্রেন বন্ধ, ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সকল গণপরিবহন সকাল থেকেই ছিল বন্ধ। এতে করে ভোগান্তিতে পরছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী সহ সাধারণ যাত্রীরা। আর কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে এভাবে গাড়ি বন্ধ থাকায় ক্ষোব্ধ যাত্রীরা। তবে কেন বন্ধ সেই বিষয়ে কোন কিছু বলতে নারাজ পরিবহনের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকাগামী বন্ধন, উৎসব, আনন্দ পরিবহনে সহ কোন বাস বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি। এর জন্য প্রতিটি কাউন্টারে ছিল সকাল থেকে যাত্রীদের ভীড়। বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যান হিসেবে সিএনজি, অটোরিকশা ও লেগুনা দিয়ে গন্তব্যের উদ্দশ্যে ছুটেছেন সবাই। এর জন্যও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া।

বেলা ১২টায় ঢাকাগামী পরিবহন গুলো চলতে শুরু করলেও তাও ছিল সংখ্যায় কম। আর তাতে ছিল যাত্রীদের উপচে পরা ভীড়। পরিবহন কম থাকার বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি চালক ও শ্রমিক কেউ।

চাষাঢ়া বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান মাহমুদ জানান, সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সব বাস বন্ধ ছিল। পৌনে ১২টা থেকে বাস আবার চলতে শুরু করছে। তবে যে ভীড় তাতে দুটি বাসে উঠতে পারি নাই।

এদিকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুরগামী ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েচে ট্রেনের যাত্রীদেরও। বাস ট্রেন বন্ধ থাকায় ঢাকার সঙ্গে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে।

ট্রেন সার্ভিস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে টিকেট কাউন্টারগুলোও। কারণ হিসেবে চাষঢ়া স্টেশনের টিকেট কাউন্টারে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে লেখা আছে  - ‘ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। সমস্যার সমাধান হলে কাউন্টার খোলা হবে।’

দুর্ভোগের স্বীকার ট্রেন যাত্রী আলমগীর হোসেন জানান, ‘সকাল থেকে ট্রেন স্বাভাবিক ভাবেই চলছিলো। আমি ফতুল্লা থেকে সকালে নারায়ণগঞ্জে একটি কাজের জন্য আসি। এরপর এখানে কাজ শেষ করে আমার ঢাকায় যাবার কথা ছিলো। কিন্তু ফেরার সময় আবারো স্টেশনে এসে দেখতে পাই ট্রেন বন্ধ। এদিকে বাসও চলাচল করছে বলে। এখন সিএনজি নিয়ে যেতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মচারী জানায়, ‘মূলত ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের কারণেই এই সময়ে রেল সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ নারায়ণগঞ্জ ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা হওয়ায় এখান থেকে অনেক নেতাকর্মীরা সেই সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে রেল যোগাযোগটাকেই ব্যবহার করে থাকেন। তাই হয়তো ট্রেন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের কোনো ট্রেনেরই ইঞ্জিনে সমস্যা নেই।’

চাষাঢ়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইব্রাহিম জানান, ‘আমাদের কোনো ট্রেনের ইঞ্জিনে সমস্যা নেই। উপরের নির্দেশনায় রেল সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। উপর থেকে নির্দেশনা এলেই আবার চালু করা হবে।’

কিন্তু রেল সার্ভিস বন্ধ রাখার কোনো কারণ তিনি জানাতে পারেন নি। এবং কয়টা থেকে আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। তবে উপরের নির্দেশনা আসা মাত্রই রেল সার্ভিস পুনরায় স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ঢাকাগামী সকল বাসে তল্লাশী করছে পুলিশ। এতে করে রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশী চলছে জানায় পুলিশ।

বাসের যাত্রীরা বলেন, এভাবে তল্লাশী করে একটি বাস ছাড়তে ৩০ মিনিটের বেশি লেগে যাচ্ছে। আমাদের গন্তব্যে যেতে অনেক সময় লেগে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ে যেতে পারবো না। হঠাৎ করে পুলিশ এভাবে তল্লাশী করে মানুষের সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও