আবারো শহরে ভয়াবহ যানজট

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৪ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



আবারো শহরে ভয়াবহ যানজট

আবারও সেই চিরচেনা যানজটে নগরবাসী। চাষাঢ়া থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে ২নং রেল গেট যেতেই ২০ থেকে ৩০ মিনিটও রাস্তার যানজটে বসে থাকতে হয়। তা শুধু শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নয় শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সংযোগ সড়কগুলোতেও একই অবস্থা। নেই কোন ট্রাফিক কিংবা কমিউনিটি পুলিশ কিংবা সিটি করপোরেশনের কোন কর্মকর্তারা। এতে করে প্রতিদিনই মানুষের কর্ম ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকে সরেজমিনে শহরের চাষাঢ়া থেকে দুই নং রেল গেট, বাস টার্মিনাল থেকে ডিআইটি গোল চত্ত্বর, বাস টার্মিনাল থেকে কালীরবাজার রাস্তায় ছিল যানজট। আর এ রাস্তাগুলোর সঙ্গে সংযোগ সড়ক টানবাজার, সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, দেওভোগ, গলাচিপা, কালিরবাজার, আমলাপাড়া সহ এর আশে পাশের সংযোগ সড়কগুলোও ছিল প্রচন্ড যানজট। সঙ্গে নগরীর ফুটপাতগুলো আবারও হকারদের দখলে চলে যাওয়ার হেঁটে যাওয়ার মতো কোন উপায় ছিল না। এছাড়াও নগরীর দুই নং রেল গেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে একাধিক ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে চাষাঢ়ামুখী কিংবা ২নং রেল গেটমুখী দুই সড়কে ছিল যানজট। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া যানজট বিকেল ৪টা পর সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।

চাষাঢ়া থেকে ডিআইটিগামী রিকশা চালক হিল্লোল বলেন, যানজটের কারণে সারাদিনে ২০০ টাকাও কাজ হয় না। চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি যেতে ৫ মিনিটের রাস্তা ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগে। প্রতিটা দিনেই যানজট থাকে।

তিনি বলেন, যানজট শুরু হয় চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে। ট্রাকগুলো গোল চত্ত্বর ঘুরতে গিয়ে সিগনাল পরে তখনই যানজট শুরু। এ যানজট সবটা শহরে শুরু হয়। রিকশা চাকা ঘুরানো যায় না।

দিগুবাবু বাজারের সামনে রিকশায় আটকে পরা অপূর্ব রহমান বলেন, কোন ট্রাফিক নেই। নেই কোন লাইনম্যানও। যে যার মতো গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় যানজট হচ্ছে এ নিয়ে কারো কোন উদ্যোগ নেই যে কিভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। যানজটের জন্য প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে দেরি হয়। আধা ঘণ্টা এক ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। মূলবান সময় নষ্ট হয়।

২নং রেল গেট এলাকার ট্রাফিক পুলিশ জানান, নিউ মেট্রো হল মোড়ের সামনে থেকে কালিরবাজার এলাকার রাস্তার সংস্কার কাজ করছে। সেজন্য গণপরিবহনগুলো বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করছে। ফলে যানজট বেড়ে গেছে। তাছাড়া এমনিতে নিত্যদিনের যানজট তো আছেই। দিনের মধ্যে ১৬ জোড়া ট্রেন আসা যাওয়া করে। এরজন্য প্রতিবারে সর্বনিম্ন ৫ মিনিট করে তিনটি পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে রাখলে রাস্তার দুইদিকেই যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। তাছাড়া হাকার আর অবৈধ গাড়ি পার্কিং করেও রাস্তা দখল করে রাখে। ফলে যাও গাড়ি চলাচল করে সেগুলোও স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারে না। এসব কারণেই যানজট বেশি হয়।

তিনি আরো বলেন, রাস্তা মেরামতের যেন জানট বিকেলের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। এমনিতে সকালে গাড়ির চাপ বেশি থাকে তাই যানজট বেশি মনে হয়। তবে কোথাও গাড়ি ৫মিনিটের বেশি থামিয়ে রাখা হয়নি।

চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন, নগরীর অবৈধ রিকশা, যতত্রত পার্কিং, দিনের বেলায় ট্রাক প্রবেশ এগুলো বন্ধ করতে হবে না। কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের কার্যক্রম চাষাঢ়া থেকে করা হলে তখন ট্রেনের সিগনালেও পরতে হবে না। একই সঙ্গে পুলিশ বেশ কয়েকদিন ফুটপাত ফাঁকা রেখেছিল এখন তাদের কোন কার্যক্রম নেই। এসব কার্যক্রমও বাড়াতে হবে। তাছাড়া আমার কোন দিনই এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবো না।

তিনি বালেন, আমাদের সব থেকে বড় সমস্যা সিটি করপোরেশন পুলিশকে দায়ি করেন আর পুলিশ সিটি করপোরেশনকে। এভাবে একে অপরের উপরে দোষ ঠেলে দিয়ে কোন সমাধান পাওয়া যায় না। জনগনের কথা ভাবতে হবে। আমরা চাই সকলের মিলে সমাধানের নিয়ে আসুক।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও