ফাঁসির দ্বারপ্রান্তে নূর হোসেন ক্ষমতা বাড়ছে সহযোগিদের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৫৪ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার



ফাঁসির দ্বারপ্রান্তে নূর হোসেন ক্ষমতা বাড়ছে সহযোগিদের

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। ফলে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন সহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড তথা ফাঁসির আদেশ এখন কার্যকরের আগের ধাপ এগিয়ে গেছে। তাদের সামনে এখন ঝুলছে ফাঁসির দড়ি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এর অনুলিপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দন্ডপ্রাপ্তদের আপিল করতে হবে।

নূর হোসেন গ্রেপ্তারের পর অনেক সহযোগি গা ঢাকা দিলেও তারা এবার এলাকাতে চলে এসেছেন। ২০১৪ সালে সাত খুনের পর নূর হোসেন, তার ভাই নূর সালাম, নূরুদ্দিন, নূরুজ্জামান জজ, ভাতিজা কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলসহ পরিবারের নারী-পুরুষ প্রায় সব সদস্য পলাতক ছিলেন। ঘটনার প্রায় এক বছর পর একে একে এলাকায় ফিরতে শুরু করেন নূর হোসেনের ভাই ভাতিজা ও সহযোগীরা। অভিযোগ ওঠে, তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফের দখল নিতে শুরু করেন নূর হোসেনের ফেলে যাওয়া সাম্রাজ্য।

নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলম খান সোনারগাঁও থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রাজধানীর মহাখালীতে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়া পিস্তলসহ ধরা পড়লেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে যান নূরে আলম। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ৯নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন।

২নং ওয়ার্ডে নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামি ইকবাল হোসেনের কাছে হেরে গেছেন। ইকবাল এখন কাউন্সিলর। তিনি থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। ৭ খুনের মামলার এজাহারে ইকবাল ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিনকে আসামী করেন বিউটি। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় পরে। ইয়াছিনসহ একটি পক্ষ বিউটির বিরোধিতা করে। নূর হোসেনের অনুসারীরাও তাদের পক্ষ নেওয়ায় বিজয়ী হন ইকবাল।

৩নং ওয়ার্ডে এবারও জিতেছেন নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। ৭ খুনের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর এলাকায় ফিরে এলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

৬ নং ওয়ার্ডে থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান জিতেছেন। সাত খুনের পর তিনিও অনেকদিন পলাতক ছিলেন। ওই সময় সিআইডি কয়েকবার মতিউরের বাসায় অভিযান চালায়। নূর হোসেনের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

নূর হোসেনের ভাই নুরুজ্জামান জজ এলাকায় ফিরেই কাঁচপুর সেতুর ঢালে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালটির নিয়ন্ত্রণ ছিলো নূর হোসেনের সহযোগী মনিরের ভাই ছোট নজরুল ও জহিরুলের হাতে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নূর হোসেনের পরিবহণ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছেন তার ছোট ভাই নূরুদ্দিন। শিমরাইল ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোড় থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার পাশের ফুটপাত, দোকানপাট থেকে চাদাঁবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন নূর হোসেনের একজন ভাতিজা। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের পাথর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ করছেন নূর হোসেনের ছোট ভাই নুরুজ্জামান জজ। এছাড়া ভেজাল জায়গা জমি কেনাবেচার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন নূর হোসেনের বড় ভাই নূর সালাম।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি না হয়ে তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।  

শিমরাইল রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ড ও টেম্পো স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন সাত খুন মামলার চার্জশিট থেকে বাদ পড়া স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আমিনুল হক রাজু। এছাড়া শ্রমিক লীগ নেতা সামাদ বেপারীসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা আন্তঃজেলা পরিবহন সমিতির নামে চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ২২ আগস্ট আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ফাঁসি ১৫ জন
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদন্ড আসামীরা হলো প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা (এমএম রানা), হাবিলদার এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব, কনস্টেবল মো: শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্নেন্দ বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী (পলাতক), সৈনিক আলামিন শরিফ (পলাতক) ও সৈনিক তাজুল ইসলাম (পলাতক)।

যাবজ্জীবন ১১ জন
এ ১১ জনকে ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আদালত মৃত্যুদন্ড দিলেও হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে। তারা হলো র‌্যাবের সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী, আবুল বাশার, নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, নূর হোসেনের সহযোগি সেলিম, জামালউদ্দিন, এনামুল কবীর, সানাউল্লাহ সানা (পলাতক), শাহজাহান (পলাতক)।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও