এবার রাতের আধারে খুলে নেয়া হলো ইসমাইলের জমির স্থাপনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৭ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

এবার রাতের আধারে খুলে নেয়া হলো ইসমাইলের জমির স্থাপনা

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নতুন বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতি বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে এবার রাতের আধারে খুলে নেয়া হলো আওয়ামীলীগ কর্মী ইসমাইলের মালিকানাধীন জমিতে থাকা টিনের স্থাপনা। সোমবার দিনগত রাতে ওই ঘটনার পরে মঙ্গলবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। খুলে নেয়া ওই সকল টিন দিয়ে প্যানেল মেয়র মতির মালিকানাধীন একটি মার্কেটে বেড়ার কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আদমজী নতুন বাজার এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থক আবদুল হান্নান ও ইসমাইলদের সঙ্গে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির অনুগামী আবদুর রাজ্জাকের ৯ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই শালিসী বৈঠকও হয়। গত ৩ জানুয়ারী সকাল ১১টায় উভয় পক্ষের লোকজন আবারো জড়ো হলে প্রথমে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে প্যানেল মেয়র মতি অকথ্য ভাষায় হান্নান ও ইসমাইলকে গালাগাল করে। তখন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে একপর্যায়ে মতিকে কুপিয়ে জখম করে। সংঘর্ষে হান্নান, ইসমাইল, মজিবর, সানু, আলমগীর, রোকেয়া, সুরভী, রাজ্জাক মিয়া, মনির হোসেন, সোহেল, ফারুক হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। মতিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জানুয়ারী পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন মতির ভাই ও রোকেয়া বেগম। মতির ভাই মাহবুবুর রহমান মামলায় উল্লেখ করেন, তার ভাই প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি ৩ জানুয়ারি সকালে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে বের হয়। এসময় পথিমধ্যে ইসমাইল, হান্নান, ফারুক, মজিবর, নাঈম, আলমগীর, হাসান, মোস্তফাসহ অজ্ঞাত ১৫ জন মতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এতে সে মারাত্মক আহত হয়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় ফারুককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অপরদিকে মতি গংদের আসামি করে পাল্টা মামলা করেছেন রোকেয়া বেগম। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন সুমিলপাড়া নতুন বাজার আবেদ আলীর হাজী বাড়িতে তার পৈত্রিক সাড়ে ৩ শতাংশ জমি রয়েছে যা দখল করতে সেখানে যায় মামলায় বিবাদীরা এবং দেশিয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর হামলা করে তাদের বাড়িঘরের ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয় বলেও মামলা উল্লেখ করা হয়। মামলায় বিবাদীরা হলেন- রাজ্জাক, মনির, রফিকসহ অজ্ঞাত ১০ জন। এরা সকলেই প্যানেল মেয়র মতির লোক।

এদিকে সংঘর্ষের আগে জমির মালিক ইসমাইলের মুঠোফোনে কল করেন প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির সহযোগী মানিক। প্রথমে ইসমাইলকে কাউন্সিলর অফিসে আসতে বলেন মতির সহযোগী মানিক। তখন ইসমাইল মানিককে বলে সে এখন নামাজে যাবে মাগরিবের নামাজের পরে সন্ধ্যায় কাউন্সিলর অফিসে আসবেন। তখন মানিক প্যানেল মেয়র মতিকে ফোন দিলে ইসমাইল প্যানেল মেয়র মতিকে সালাম দেয়। কিন্তু মতি সালামের জবাব না দিয়েই তাকে বলে, এক্ষুনই আসবি নাকি লোক দিয়া ধরাইয়া আনমু। ইসমাইল তাকে নামাজের পরে কাউন্সিলর অফিসে আসবে বলে জানালে মতি ক্ষুব্দ হয়ে তাকে বলে এখনই না আসলে তাকে পেটাতে পেটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনা হবে। মতি তখনই তার অনুগামীদের নির্দেশ দেন ইসমাইলকে পিটাতে পিটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনার জন্য। তখন মতি ইসমাইলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে তাকে জিজ্ঞেস করে তোর জন্মদাতা কয়টা। তুই আমারে চিনস? তখন ইসমাইল মতিকে বলে ভাই আপনি এভাবে গালাগালি করছেন কেন। আপনি কথা ভাল মতো বলেন। তখন মতি আরো ক্ষুব্দ হয়ে ইসমাইলকে বলে তোকে কেন এর জবাব দিতে হবে। তুই পার পেয়ে গেছিস বলে মনে করছস। আমি তোরে দেইখ্যা দিমু। তোর জায়গা...তোর...। তুই এখন আমার অফিসে হাজির হবি। তোর বাপে তোরে অর্ডার দিসে আমি তোর বাপ তোরে পিটামু তুই এখন অফিসে আয়। তোরে আমি কি করি তুই দেখবি। এই বলে প্যানেল মেয়র মতি ফোন রেখে দেন।

এদিকে মামলায় ও হামলার আতঙ্কে আবদুল হান্নান ও ইসমাইলদের পরিবারের পুরুষদের বেশীরভাগই গত কয়েকদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। বাড়িঘরে রয়েছেন শুধুমাত্র গৃহিনীরা। যে জমিটি নিয়ে বিরোধে ওই লঙ্কাকান্ড সংঘটিত হয়েছে সেই জমিটিতে ইসমাইলদের একটি টিনশেড ঘর ছিল। সোমবার দিনগত গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ওই টিনশেড ঘরটি খুলে নিয়ে আসে। তবে আতঙ্কে কোন ধরনের বাধা দিতে পারেননি গৃহিনীরা। কারণ এর আগেও তারা প্রকাশ্য দিবালোকে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিলেন। পরে সকালে তারা পুলিশকে খবর দিলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ইবরাহিম পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানায়, ইসমাইলদের জমি থেকে খুলে নেয়া টিনশেড ঘরের টিনের মতোই টিন দিয়ে প্যানেল মেয়র মতির মালিকানাধীন একটি মার্কেটে বেড়া দেয়ার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এসআই ইবরাহিম পাটোয়ারী জানান, মঙ্গলবার সকালে অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিরোধপূর্ণ জমিটিতে থাকা একটি টিনের ঘর রাতের বেলায় কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে বলে গৃহিনীরা অভিযোগ করেছেন। গৃহিনীরা তাদেরকে চিনতে পারেননি। তবে আমরা জমিতে কিছু টিন পড়ে থাকতে দেখেছি। আমরা তাদেরকে বলেছি এরপর যদি কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে আসে তাহলে যেন মুঠোফোনে ভিডিও করে রাখে। ওই এলাকায় যাতে আবারো কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও