স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যায় অভিযোগ গঠন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৭ পিএম, ৯ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার

স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যায় অভিযোগ গঠন

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যা মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়। এসময় জেলা জজ কোর্টে উপস্থিত ছিলেন প্রবীর হত্যার প্রধান আসামী পিন্টু দেবনাথ, বাপেন ভৌমিক ও বড় ভাই খ্যাত আবদুল্লাহ আল মামুন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আদালতে আসামী পক্ষ থেকে মামলার চার্জ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করে আসামীদের কেউ চার্জ থেকে বাইরে থাকার মত কারণ নেই। আদালত আসামীপক্ষের অব্যাহতির আবেদন বাতিল করে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি প্রদান করেন।

এদিন মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দাবীতে আদালত পাড়ায় জড়ো হয়েছিলেন প্রবীর ঘোষের আত্মীয় স্বজন। এছাড়া কালীরবাজার স্বর্নপট্টির ব্যবসায়ী ও সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতিনিধিরা এসে এই মামলার দ্রুত রায় প্রদানের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে দাবী জানান।

বর্তমানে এই মামলার প্রধান দুই আসামী পিন্টু দেবনাথ এবং বাপেন ভৌমিক জেলা কারাগারে রয়েছে। অপর আসামী আবদুল্লাহ আল মামুন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বহুল আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ ও কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা হত্যা মামলার চার্জশীট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হয়। এর মধ্যে স্বপন কুমার সাহা হত্যায় ১০৯ পাতা ও প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যায় ২০৩ পাতার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়।

এর মধ্যে প্রবীর ঘোষ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পিন্টু দেবনাথ, আবদুল্লাহ আল মামুন ও বাপেন ভৌমিককেও অভিযুক্ত করা হয়। অপরদিকে স্বপন কুমার সাহা হত্যা মামলায় পিন্টু দেবনাথ, তার বান্ধবী রত্না রাণী চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামীদের মধ্যে পিন্টু ও রতœাকে সরাসরি হত্যায় জড়িত উল্লেখ করা হয়। প্ররোচনার অভিযোগ দেওয়া হয় মামুনের বিরুদ্ধে। আর বাপেনকে আসামী করা হয়েছে পিন্টুকে সহযোগিতার কারণে।

প্রসঙ্গত গত ১৮ জুন রাতে নিখোঁজ হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ। পরে গত ৯ জুলাই সড়কে শহরের কালীরবাজার এলাকা থেকে পিন্টু দেবনাথ ও বাপানে ভৌমিক বাবুকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাদের দেওয়া তথ্য মতে রাতেই শহরের আমলাপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীর ঘোষের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ জুলাই দুইজনকেই ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এর আগে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নিখোঁজের পর খুন হন ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় স্বপন হত্যা নিয়ে তথ্য দেন বাবু। এরই মধ্যে স্বপনের বড় ভাই অজিত কুমার সাহা গত ১৬ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি হত্যা ও গুমের মামলা করে। সেখানে পিন্টু দেবনাথ, বাপান, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রত্মা চক্রবর্তীকে আসামী করে মামলা করে।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাজার কাজী বাড়ির প্রবাসী আজহারুল ইসলামের ৪ তলা ভবনের ২য় তলায় হত্যার পূর্বে যৌন মিলনের প্রলোভন দেখিয়ে পিন্টু তার প্রেমিকা রত্মা রানীকে দিয়ে স্বপনকে ডেকে নেয় মাসদাইরের ওই ফ্ল্যাটে। এরপর বিছানায় বসিয়ে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে পূর্বে থেকে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাখা ফ্রুটিকা জুস স্বপনকে পান করায় রত্মা রানী। এতে ঘুমিয়ে পড়ে স্বপন। এরপর শীল পাটা দিয়ে স্বপনের মাথায় আঘাত করে পিন্টু। পরে বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে লাশ গুমের জন্য সাত টুকরো করে বাজারের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ফেলে দেয় পিন্টু দেবনাথ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও