সুযোগ পেলেই টাকা চায় নগর ভবনের লোকজন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪০ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

সুযোগ পেলেই টাকা চায় নগর ভবনের লোকজন

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সবসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকেন। নাগরিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে যেন কোন রকমের ভোগান্তির শিকার না হতে হয় সেজন্য কড়া নজর থাকে তাঁর। একই সাথে নগর ভবনের কর্মকর্তারা যেন কোন রকমের দুর্নীতির আশ্রয় নিতে না পারে সেজন্য মেয়র আইভী সতর্ক অবস্থানে থাকেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি অ্যাকশনে যান।

তারপরেও নগর ভবনের কর্মকর্তারা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুযোগ পেলেই বিভিন্ন রকমের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন, বাসার হোল্ডিং নাম্বার ও ট্রেড লাইলেন্সের ক্ষেত্রে নগর ভবনের কর্মকর্তারা যেন টাকা ছাড়া কাজ করতেই চান না। সার্ভার সমস্যা, সময় লাগবে, এই কাগজ নেই, সেই কাগজ নেই, অমুকের স্বাক্ষর লাগবে এরকম বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। আবার অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন।

জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে পাইকপাড়া এলাকার এক ভুক্তভোগী তার সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য গেলে তা আটকে দেয় সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সহকারী কর আদায়কারী মেহেদী হাসান। কারণ দেখায় তার বাসার হোল্ডিং নম্বর নেই। পরবর্তিতে তিনি হোল্ডিং নম্বরের জন্য আবেদন করেন। প্রায় ১৫ দিন ঘুরাঘুরি করেও হোল্ডিং না পেয়ে আবার তার কাছে যান। এসময় মেহেদী হাসান ও আফজাল নিজেরা কিছু একটা আলোচনা করে ওই ভুক্তভোগীকে বলেন, ‘আপনি বাসায় চলে যান আমরা আপনার বাসা দেখতে যাবো।’

কয়েক দিন পর ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে মেহেদী বলেন যে, ‘আপনার নামে ১২হাজার টাকা হোল্ডিং নাম্বার এসেছে। আপনি ১৯ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি কিনেছেন এখানে প্রতি লাখে ৫০০টাকা করে আসছে মোট ৯ হাজার টাকা। আর ৬ হাজার টাকার মত আসবে ট্যাক্স। আপনি আমাকে ১২হাজার টাকা দেন। আপনার সম্পূর্ণ কাজ সমাধান করে দিব। স্টাফদের কাউকে জানাবেন না। যে ৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। ওই টাকা ব্যাংকে জমা দিব না। ওই টাকা আমরা নিব। আপনার কাজ হলেই হয়। আপনার হোল্ডিং নম্বর আপনাকে দিয়ে যাব।’ এতে ওই ব্যক্তি রাজি না হলে তার কাগজ আটকে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু পরর্বর্তীতে মেহেদী হাসান ওই ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ক্রমাগতভাবে হুমকি ধমকি দিতে শুরু করেন। বিষয়টিকে মিটিয়ে ফেলার জন্য বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ফুসলাতে শুরু করেন তকে। ফলশ্রুতিতে ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে ঘাবড়ে যান।

একইভাবে ৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার শহরের খানপুর কুমুদিনী এলাকার বাসিন্দা তিনজনের জন্ম নিবন্ধন করতে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তার কাছে যান। সংশ্লি ওই কর্মকর্তা প্রত্যেকটির জন্য ২ হাজার টাকা করে দাবি করেন।

তেমনিভাবে জালকুড়ি এলাকার এক বাসিন্দা মৃত্যু সনদের জন্য গেলে তাকেও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেকবার ঘুরিয়েছেন। এই কাগজ লাগবে সেই কাগজ লাগবে সার্ভার সমস্যা এখন হবে না কয়েকদিন পরে আসেন এভাবে মাসের পর মাস তাকে ঘুরিয়ে ছাড়েন।

এর আগে বছর দুয়েক আগে সিটি কর্পোরেশনের এক কাউন্সিলরের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা টাকা দাবী করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই কাউন্সিলর ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি নিয়ে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে গেলে তিনি ঘন্টার ব্যবধানে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলী করে দেন।

এদিকে নাগরিকরা এসকল সমস্যার ভুক্তভোগী হলেও তারা ঝামেলা এড়িয়ে চলার জন্য অভিযোগ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে যেতে চান না। অভিযোগ করতে গেলেও বিভিন্ন রকমের ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে এসকল ঝামেলা থেকে এড়িয়ে চলার জন্য সকল ভোগান্তি নিরবেই হজম করে যান সাধারণ নাগরিকবাসী। যদিও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এসকল বিষয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে থাকেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও