সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ : আত্মহননে বাড়ছে লাশ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৬ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ : আত্মহননে বাড়ছে লাশ

নারায়ণগঞ্জে অভিমান হতাশায় আত্মহননের মত ঘটনা বেড়ে চলেছে। কখনো পারিবারিক কলহের জের ধরে আবার কখনো প্রেমে ব্যর্থ হলে আত্মহননের মত ঘটনা ঘটে চলেছে। তবে এ ধরণের অপমৃত্যকে সবাই আড় চোখে দেখা হয়। যেকারণে আত্মহননকারীর পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে।

১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানের আত্মহননের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।

২ ফেব্রুয়ারি বন্দরে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে কামাল হোসেন (২৫) নামে হোসিয়ারি শ্রমিক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত কামাল বন্দরের পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকার প্রধানবাড়ির নাসির উদ্দিনের ছেলে।

শুক্রবার রাতে সে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে স্ত্রী শাড়ি গলায় পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আত্মহত্যার কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি আঃ আজিজ থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, পারিবারিক কলহের কারণে হোসিয়ারি শ্রমিক কামাল আত্মহত্যা করতে পারে। কারণ তার স্ত্রী মৌমিতা তার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেছে। সোমবার আদালতে তার হাজিরা দেওয়ার তারিখ ছিল।

৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রাশিদা বেগম (২৮) নামের প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুপুরে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের তার বাবার বাড়ী থেকে এই লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের বরাত দিয়ে গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই নাসির উদ্দিন জানান, ৮ বছর আগে চৈতনকান্দা গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে মাঈনুদ্দিনের সাথে পাশের মানিকপুর গ্রামের গনির মেয়ে রাশিদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে দেড় বছর আগে তার স্বামী মাঈনুদ্দিন মালয়েশিয়া যায়। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকে রাশিদা বাবার বাড়ীতেই থাকত।

এস আই নাসির আরো জানান, গত কয়েক দিন ধরে ফোনে স্বামীর সাথে কথা বলার পর মনোমালিন্য চলছিল এবং মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছিল। এর জের ধরে সোমবার সকলের অজান্তে ঘরের আড়াঁর সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা ধারণা করলেও ময়না তদন্ত পর বিস্তারিত বলা যাবে। এর আগে সঠিক করে কিছু বলা যাবে না। লাশ ময়না তদন্ত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আত্মহননের ঘটনায় একটি তাজা প্রাণ নিথর দেহে পরিণত হলেও এই মৃত্যৃতে ধমীয় দৃষ্টি কোন থেকে নিন্দীত হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে করে অত্মহনকারীর পরিবারে সামজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হয়। যদিও স্বজন হারিয়ে ব্যাকুল পরিবার স্বজনরা সমাজের কটু কথায় বেশি ক্ষতবিক্ষত হয়। তবে অনেক সময় খুনের ঘটনা আড়াল করতে আত্মহত্যার রুপ দেয়া হয়। যেকারণে এখন আত্মহত্যার ঘটনাগুলো রহস্যের জাল তৈরি করছে। তবে এসব ঘটনায় সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও