নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পৈশাচিকতা বাড়ছে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পৈশাচিকতা বাড়ছে

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের ঘটনাগুলো এক একটি লোমহর্ষক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করছে। আর সেসব ধর্ষণের ঘটনায় দেহ লোভী নরপশুদের পৈশাচিকতার মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে। এসব নরপশুদের লালসার শিকার হচ্ছে শিশু নারী সহ কোন বয়সের মেয়েরা রেহাই পাচ্ছেনা। আর ধর্ষণের পরে সেই ঘটনা আড়াল করতে ধর্ষিতাকে খুন করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে দিন দিন ধর্ষণ আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারী জেলার বিভিন্ন স্থানের ধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।

৪ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে শালিশী বৈঠক থেকে ধর্ষককে জিম্মায় নিয়ে যায় তার ভগ্নিপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা।

ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৬) সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার আমতলার জনৈক আব্দুস সামাদের ছেলে সিফাত (২২) স্কুলে যাওয়া আসা করার সময় প্রেমের প্রস্তাব দিত। এক পর্যায়ে সিফাত গত ২৭ জানুয়ারী মিজমিজি পূর্বপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় তাদের নির্মাণাধীন ভবন নিয়ে যায়। সেখানে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় আশপাশের লোকজন টের পেয়ে তাদেরকে আটক করে উভয়পক্ষের স্বজনদের খবর দেয়।

খবর পেয়ে সিফাতের স্বজন গোলাপ হোসেন, মাসুম, অভিযুক্তের মা সেলিনা সহ উভয় পক্ষের স্বজনেরা উপস্থিত হয়ে ২ ফেব্রুয়ারী এ ব্যাপারে মিমাংসার জন্য উভয় পক্ষ বৈঠকে বসে। পরবর্তীতে ২ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে উভয় পক্ষের মধ্যে শালিস বৈঠক বসলে সিফাতের ভগ্নিপতি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহির মুচলেকা দিয়ে সিফাতকে তার জিম্মায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা সিফাত, গোলাপ হোসেন, হোসেন, মাসুম ও অভিযুক্তে মা সেলিনাকে আসামী করে ৪ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাতে মামলা দায়ের করে। পুলিশ মঙ্গলবার দিনভর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায়। তবে মামলার ব্যাপারটি টের  পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ইতোপূর্বে সিফাত তার ভগ্নিপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহিরের শিমরাইলের বালুর গদিতে চাকুরী করতো। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এদিকে ৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্ল¬ায় অজ্ঞাত তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত চার আসামীকে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ প্রদান করেছে আদালত। এ ঘটনায় দুই আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেতার পর সঙ্গীয় আসামীদের গ্রেফতার ও অধিক তথ্যের জন্য রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গা থেকে ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার পড়নে ছিল সোয়েটার, চাদর ও পায়জামা। ধারণা করা হয় দুর্বৃত্তরা ওই যুবতীকে অন্য কোথাও ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে কখনো কখনো এতোটাই পৈশাচিকতার চিত্র ফুটে উঠে যা সবার হৃদয়কে শিহরিত করে তোলে। একদিকে ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড এর পর সেই ঘটনা আড়াল করতে খুনের মত জঘন্যতম ঘটনা পর্যন্ত ঘটিয়ে থাকে দেহ লোভী নরপশুরা। ক্ষমতার দাপটে আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে এসব নরপশুরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এতে করে এসব ধর্ষণের ঘটনা বারবার সমাজকে কলঙ্কিত করছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও