দুর্ভোগের দিনে ভোগান্তি বাড়ালো হকাররা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

দুর্ভোগের দিনে ভোগান্তি বাড়ালো হকাররা

বেশ কয়েকদিন হকার মুক্ত ফাঁকা ফুটপাত থাকলেও দুর্ভোগের দিনই দখল করে নিয়েছে হকাররা।  ৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে হকাররা বসে পরে। ফলে নতুন করে আবারও সৃষ্টি হয় নগরবাসীর দুর্ভোগ।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে দুই নং রেল গেট পর্যন্ত তীব্র যানজট ছিল। রিকশা তো দূরের কথা মটরসাইকেলও নগরীর ফুটপাত দিয়ে চলতে দেখে গেছে। শুধু তাই নয় এ যানজটে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মতো রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু ওই যানজটের দিন সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাসে বসে পড়েন হকাররা। যার মধ্য সড়কের পূর্ব পাশে হকারের সংখ্যা ছিল বেশি। এতে করে নগরবাসী ও পথচারীদের হেঁটে চলাচলের জন্য বেগ পেতে হয়। তবে নগরীর যখন এ দুর্ভোগ তখন পুলিশ কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ঘোষণা দিয়ে নগরীর যানজট নিরসনে অবৈধ পার্কিং ও হকার উচ্ছেদের পদক্ষেপ গ্রহণ করে বছরের শুরুতেই। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে চাষাঢ়া মোড়ের অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তীতে হকার উচ্ছেদ করা হয়। আর ওইসময় কঠোর ভূমিকায় ছিল পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারও দখল করে নিয়েছে হকাররা। আর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ডও দেখা যায় রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে।

এদিকে যানজট ও হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ থাকলেও নেই কোন গাড়িং পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কোন অভিযান। ফলে যত্রতত্র রাস্তার পাশে একাধিক ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির পার্কিং করে রাখায় যানজট আরো বেড়ে চলে।

আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোহেল মিয়া জানান, সকাল থেকে যানজটের জন্য ৫ মিনিটের রাস্তা এক ঘণ্টায়ও যাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে আবারও ফুটপাত দখল করে রেখেছে হকাররা। রিকশা ছেড়ে হেঁটে যাওয়ার মতোও ফুটপাত খালি নেই। ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

তিনি আরো বলেন, ফুটপাত হকার মুক্ত থাকলে যানজট লাগলেও মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারে। কিন্তু কয়েকজন বহিরাগত মানুষের জন্য নগরবাসী এতো কষ্ট করতে হয়। পুলিশ প্রশাসন শুধু দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে হবে না। হকারদের যারা পিছন থেকে ইন্ধন দেয় তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবেই এর ভয় পাবে না হলে ফুটপাত মুক্ত হবে না।

বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে উত্তর ব্যাংকের সামনে বসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার জানান, সপ্তাহে দুটা দিন বেচাকেনা হয় যা হলো বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। এ দুই বেচাকেনা না করতে পারলে ঘরের সবায় অনাহারে থাকতে হবে। তাছাড়া বেশি সুদে যে ঋণ নেয়া আছে সেগুলোও পরিশোধ করতে পারবো না। তাই বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশের অভিযানের পরও বসতে হয়।

তিনি আরো বলেন, অলিগলিতে বসতে দিলেও সেখানে ক্রেতারা যায় না। তাই ফুটপাতেই আসতে হয়। আর এখন সবাই ফুটপাতে হাঁটার জন্য যথেষ্ট জায়গা রাখা হয়। যাতে মানুষ চলাচল করতে পারে।

হকারদের পক্ষে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ফুটপাতে হকার বসার পক্ষে আমরাও না। তবে যারা বসছে তাদের পুনর্বাসন করা হোক। আর পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত এরা ফুটপাতে বসবেই। কারণ তারা অনেক টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন করা হোক।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও