আশায় বুক বাধছে ডিএনডিবাসী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৯ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

দীর্ঘ কয়েক দশকের দুর্ভোগ এবার কাটিয়ে উঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ডিএনডিবাসী। ২২লক্ষাধিক বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে চলমান সংস্কার কাজের মাঝেই এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। আর তার এমন ঘোষণায় আশার আলো দেখতে যাচ্ছে এসকল এলাকার বাসিন্দারা।

বছরের পর বছর বর্ষায় ডুবে থাকা এসকল এলাকায় নিচু বাড়িঘর দেখা মেলে অহরহ। প্রতিবছর জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে উঁচু করা হয় ডিএনডির অভ্যন্তরের রাস্তা। ফলে পানি ড্রেনে না গিয়ে ঢুকে পড়ে সড়ক থেকে নিচু বাড়িঘরে। একই কারণে আবারও বাড়ির অভ্যন্তর উঁচু করার কাজ করতে হয় বাড়ির মালিকদের। বছরের পর বছর একই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে এলাকার বাসিন্দাদের জীবন যাপন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে উত্তরণের ঘোষণায় এবার সেই ধারাবাহিকতা থেকে স্বস্তি মিলবে বাসিন্দাদের এমনটাই আশা করছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের অক্লান্ত চেষ্টায় ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর শুরু হয় ডিএনডির জলাবদ্ধতা স্থায়ী নিরসনের কার্যক্রম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে এই দায়িত্ব দেয়ার পরেই দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে কার্যক্রম। ৫৫৬ কোটি টাকার এই প্রজেক্টের কাজ ২০২০ সালের জুলাইয়ের ভেতর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রজেক্টের ৩৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

১ ফেব্রুয়ারি সকালে ডিএনডি প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের কাজ পরিদর্শনে আসেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। এসময় এনামুল হক শামীম বলেন, ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ৩৭ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আগামী বর্ষাকে সামনে রেখে প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। ডিএনডি অভ্যন্তরে ২২ লাখ মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাম্পগুলো সচল করা হবে। যাতে করে এবছর ডিএনডি অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়।

সম্প্রতি একটি সভায় ডিএনডি’র জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মাশফিক আলম ভূইয়া বলেছেন, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও আমরা ২০১৯ সালের জুলাই মাসের প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্ল্যান নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। অর্থাৎ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই আমরা প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে পারবো। তবে শুধু প্রকল্পের কাজ শেষ করাও নয় হাতিরঝিলের প্রকল্পের কাজকে মাথায় রেখেই আমরা এগুচ্ছি। খালগুলো দখলমুক্ত করার পরে এর পাড়গুলো বাধাই করে দেয়া হবে। দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। খালগুলোতে চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি। ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে ঢাকায় যাওয়া যাবে। এছাড়া ইটিপির মাধ্যমে পানি নিস্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি। তবে খালের পানিতে ময়লা ফেলা যাবেনা। আশা করছি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ডিএনডি’র চেহারা বদলে যাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি)-এর মধ্যকার ৫৮ দশমিক ২২ বর্গ কিলোমিটার জলাভূমিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ধান চাষ করার জন্য চারদিকে বাঁধ নিয়ে ‘ডিএনডি ইরিগেশন প্লান্ট’ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে এ বাঁধটিই ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা-যাত্রাবাড়ী এলাকার চারদিকে যান চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ৫৫ দশমিক ২ কিলোমিটার সেচখাল ও ৪৫.৯০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল খনন করা হয়েছিল। কিন্তু আবাসন সংকট ও বন্যা প্রতিরোধক এলাকা হওয়ায় চাষাবাদের জন্য প্রস্তুতকৃত ওই নিচু এলাকায় ক্রমান্বয়ে বিপুল পরিমান কলকারখানা অপরিকল্পিত বসতি গড়ে ওঠে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও