শহরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান বাণিজ্য, তালিকা করছে কর্তৃপক্ষ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪১ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

শহরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান বাণিজ্য, তালিকা করছে কর্তৃপক্ষ

নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ের জমি দখল করে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দোকান বাণিজ্য বন্ধ হয়নি। ওই সকল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে রেলস্টেশন ও রেললাইনের দুইপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান ও স্থাপনা।

ওইসকল অবৈধ স্থাপনাগুলো থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছুদিন পূর্বে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন এলাকা আধুনিকায়ন ও ডাবল রেললাইন নির্মাণ উপলক্ষ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও সম্প্রতি আবারো গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট। এতে করে নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর রুটে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তালিকা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে বিশাল মার্কেট, অসংখ্য পাকা-সেমিপাকা দোকান, বহুতল ভবন, বস্তিঘর। দখলমুক্তের নির্দেশ বাস্তবায়ন তো দূরের কথা নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন সংলগ্ন স্টাফ কোয়র্টারগুলোসহ স্টেশন মাস্টারের কোয়ার্টার দখল করে দোকান নির্মানের মহোৎসব হয়েছে।

রেলওয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অবৈধ দখলদারিত্বের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ লীজ এনে আবার কেউ লীজ ছাড়াই দখল করেছে এ সকল সম্পত্তি। ২০১২ সালের ১২ মে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন কলোনী এলাকার ৪৭ হাজার ২০০ স্কয়ার ফুট জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষের পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে দখল কার্যক্রম রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ে স্টেশনের ৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোয়ার্টারও উচ্ছেদ করা হলেও তাদের বিষয়টি এখনো নিস্পত্তি হয়নি। এর আগে মন্ত্রী অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরীর জন্য নির্দেশ দিলেও আজো সে তালিকা তৈরী হয়নি।

এদিকে একাধিক সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে অবৈধ দখলকারীরা শুধু লীজ এনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করিয়ে দখলদারিত্ব বহাল রাখছে। রেলওয়ের কতিপয় উর্ধ্বতন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সহায়তায় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দখলদারদের আইনের ফাঁক ফোকর দেখিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে বর্তমানে আলোচিত হলো রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কর্মচারী সিরাজ ও পরিচ্ছন্ন কর্মী দিলীপসহ একাধিক সিন্ডিকেট। যাদের সঙ্গে রয়েছে রেলওয়ের সিবিএ নেতারাও।

গত বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন ও কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারো উচ্ছেদকৃত এলাকায় অবৈধভাবে অসংখ্য দোকান গড়ে তুলেছে দখলদাররা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন ও কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের দুই পাশের বৈধ লীজধারী ও অবৈধ সকল দোকান থেকেই চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের স্লিপার চুরিরও অভিযোগ রয়েছে ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজ মিয়া জানান, তিনি কোন অবৈধ দোকান তোলেননি। চাঁদাবাজির সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন।

রেলওয়ের ভূসম্পদ কর্মকর্তা (এস্টেট অফিসার) নজরুল ইসলাম জানান, আমরা গত বছরেও অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। আমরা বর্তমানে অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরী করছি। শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও