পুলিশের মমতায় হকারদের আস্ফালন

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৪ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার

পুলিশের মমতায় হকারদের আস্ফালন

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের আদর আর মমতায় বেড়ে উঠছে হকাররা। এই হকারদের সঙ্গে পুলিশের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যাতে এক পক্ষ অপর পক্ষের হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে শহরের যানজটের সঙ্গে বাড়ছে মানুষের জট। এক মাস আগে জেলা পুলিশ সুপার চাষাঢ়াকে হকার এবং অবৈধ স্ট্যান্ড মুক্ত করে শহরবাসীর চলাচল অনায়াসে করার ঘোষণা দেন। এর পর থেকে পুলিশ হকার এই বন্ধুত্বের চিত্র এখন সবার চোখে ধরা পড়ছে।

পুলিশ সুপারের ঘোষণার পর কিছুদিন হকার এবং অবৈধ স্ট্যান্ড আগের মতই বহাল থাকে। এর পর শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের চোর পুলিশ খেলা। এই খেলা চলে আরো কিছুদিন। তার পর শুরু হয়েছে সকাল সন্ধ্যা অনুশীলন। পুলিশ থাকবে সকালে তখন কেউ কোন ফুটপাত দখল করবে না। সকাল গড়িয়ে দুপর যখন হবে তখন কিছু হকার কাজ শুরু করবে। বিকালের দিকে আরো কিছু হকার যোগ দিবে। সন্ধ্যায় সব হকার বসে যাবে তাদের পুরাতন ঠিকানায়। এমন অবস্থার পর এখন শুরু হয়েছে পুলিশের আদর আপ্যায়ন। এই অধ্যায়ে হকাররা সংসার সাজাবে আর পুলিশ ক্ষণে ক্ষণে এসে একটু খাতির যত্ম করবে।

শনিবার ৯ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় চাষাঢ়া সোনালী ব্যাংকের সামনে ঘটে এই পুলিশ ও হকারের আদর মমতার যুগলবন্ধন। হকাররা বাতি ঝুলিয়ে পসরা সাজিয়ে বিকিকিনি চালাচ্ছে। তাদের সামনে পুলিশের একটি ভ্যান এসে থামলো। পুলিশ অফিসার নেমেই হাকডাক শুরু করলো। হকাররা তাদের দোকান গুটিয়ে চলে গেল। রেখে গেল খাট পালং আর আলোকসজ্জার সরঞ্জামাদি। পুলিশের অফিসার সেই খাট পালং পায়ের নিচে দিয়ে লাইটিং এর সরঞ্জামাদি ভাঁজে ভাঁজে খুলে নিচ্ছেন। আর বাকি পুলিশ সদস্য আরাম করে ভ্যানে বসে সে দৃশ্য দেখছে শত মানুষের মতই।

কোন কোন সরঞ্জাম খোলার জন্য হকার নেতারা স্বয়ং পুলিশের সঙ্গে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন এবং পুলিশের খুলে দেয়া সরঞ্জামাদি গুছিয়ে নিচ্ছেন।

ব্যাংক এর মোড়ে যখন এই অবস্থা তখন জিয়া হলের সামনে, সুগন্ধার সামনে, খাজা সুপার মার্কেটের সামনে, সান্তনার নিচে শহীদ মিনারের চারপাশে হকার বসে বিকিকিনি চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে পুলিশের তেমন কোন কর্মতৎপড়তা দেখা যায়নি।

সমবায় মার্কেটের দোকানী আরিফ জানান, পুলিশ এবং হকার এরা একে অপরের মাসতুতো ভাই। তারা যা কিছু করবে তাই হচ্ছে প্রেম-ভালবাসার। তারা কখনো বিচ্ছন্ন হবে না। একে অপরকে সাপোর্ট দিয়ে যাবে। এতদিন যা হয়েছে তা হচ্ছে এই প্রেম-ভালোবাসার নাটক। সম্পূর্ণ চরিত্র ফুটে উঠবে আরো কয়েক দিন পর। তখন দেখা যাবে হকারও ব্যবসা করছে। পুলিশও সে যায়গায় বসে আছে।

রহিমা খাতুন নামের এক পথচারী বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি শেষ হবে না। পুলিশ সুপার তার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তার পরের অফিসাররা সেই দায়িত্ব পালন করছে না। এই ভোগান্তি আমাদের। তারাতো ফুটপাত দিয়ে চলেও না, মানুষের সঙ্গে মিশেও না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও