সিটির ভোটার হয়েও যেন ছিটমহলবাসী!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার

সিটির ভোটার হয়েও যেন ছিটমহলবাসী!

দু’বছর পূর্বেও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অসহ্য যন্ত্রনা পোহাতে হয়েছে বাসিন্দাদের। তবে সম্প্রতি সড়কটি পাকা করা হলেও দু:খ যায়নি এলাকাবাসীর। শুকনো মৌসুমেও পাকা সড়কটি তলিয়ে আছে পানিতে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ওই এলাকাটি চাঁদমারী ফরিদা বিল্ডিং (মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা) এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নগরের বাসিন্দা হয়েও তারা যেন এক ছিটমহলের বাসিন্দার মতোই নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। বর্তমানে ওই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শহরের চাষাঢ়ার চাঁদমারী এলাকা দিয়ে রাস্তাটি সস্তাপুর হয়ে সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স পর্যন্ত গিয়েছে। এ সড়কের একাধিক ভবনে সমাজসেবা অধিদফতর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার, ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া মেরীস্টোপস ক্লিনিক, ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, ইসদাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেরও অন্যতম সড়ক এটি।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শহরের চাষাঢ়ার চাঁদমারী পয়েন্টে সড়কটির প্রবেশমুখে আর্মি মার্কেট সংলগ্ন স্থান থেকে সদর উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কটি পাকা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। তবে পাকা রাস্তা নির্মাণের পর থেকেই তা রয়েছে চাষাঢ়ার চাঁদমারী পয়েন্ট (ফরিদা বিল্ডিং) থেকে ইসদাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি রয়েছে পানির নিচেই। সড়কটির লগোয়া কোন ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। আগে আশেপাশের বাসিন্দাদের পানি নির্গত হতো পার্শ্ববর্তী সেনাবাহিনীর খালি জমিতে। কিন্তু সেনাবাহিনী তাদের জমিতে প্রকল্পের কাজ করতে থাকায় ওই সড়কের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের পানি নিস্কাশনের পথ একপ্রকার রুদ্ধই হয়ে গেছে। এখন ওই এলাকার পানি নিস্কাশন একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। যার ফলে সড়কের উপরে নোংরা পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শহরের চাষাঢ়ার চাঁদমারী পয়েন্টে সড়কটির প্রবেশমুখে আর্মি মার্কেট সংলগ্ন স্থান থেকে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের আগ পর্যন্ত এলাকাটিতে কমপক্ষে শতাধিক বসতবাড়ি ও বহুতল বিল্ডিং রয়েছে। ওই সকল বাসিন্দারা সকলেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটার বলে জানা গেছে। কিন্তু নগরের বাসিন্দা হয়েও তারা নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে জানা গেছে।

ওই এলাকার বাসিন্দারা ও সরকারী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, উপজেলা হেডকোয়ার্টার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত রয়েছে। সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ড্রেন নির্মাণ না করার ফলে সড়কটি পাকা করা হলেও তাতে কিছু অংশে জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তারা দুর্ভোগে রয়েছেন। বর্তমানে শুকনো মৌসুমেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে আছে। বর্ষা মৌসুম আসলে সেখানে হাটুজলেরও বেশী পানি থাকবে বলে মনে করছেন অধিবাসীরা।

নাসিকের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম জানান, চাঁদমারী থেকে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এলাকাটি মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আপার বাড়ির সামনের সড়ক বললেই সকলে চেনে। ওই এলাকাটির বাসিন্দারা সকলেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটার। কিন্তু তারা নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে আসলেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের পয়:নিস্কাশনের পানি নির্গত হতো সেনাবাহিনীর জমির নিচু স্থানে। কিন্তু বর্তমানে সেনাবাহিনী তাদের জমিতে প্রকল্পের কাজ করতে থাকায় ওই এলাকার কোন পানি সেনাবাহিনীর নিচু জমিতে প্রবেশ করতে পারছেনা। আর যেহেতু ওই সড়কটির সিটি করপোরেশনের অংশ রক্ষনাবেক্ষণ করে এলজিএইডি। সম্প্রতি এলজিইডি সড়কটি পাকাও করেছে। কিন্তু ড্রেন নির্মাণ না করায় জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েই গেছে। ওই সড়কটি সিটি করপোরেশনকে লিখে না দেয়ায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও কোন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ওই এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এ বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। নইলে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন তিনি।

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, জলাবদ্ধতার কবলে থাকা ওই সড়কটিতে কয়েকটি বহুতল ভবন থাকলেও সেগুলোতে বাড়ির মালিকরা তেমন একটা বসবাস করেন না। তারা শুধু মাস গেলে ভাড়া আদায় করে থাকেন। এছাড়া ভবনগুলোর পার্শ্ববর্তী অসংখ্য টিনশেড ঘরে থাকে নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন। যে কারণে তাদের পক্ষে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাপ করাও সম্ভব হয়না। আগে এলাকাটি ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের অধীনে। বর্তমানে এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের অধীনে। তাই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাগবে এমপি সেলিম ওসমান ও নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। কারণ সড়কটির কিছু অংশ এলজিইডি থেকে সিটি করপোরেশনের অধীনে হস্তান্তর করতে মেয়র ও এমপির হস্তক্ষেপ লাগবে বলে মনে করছেন অধিবাসীরা।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও