চতুর ব্যবসায়ী আলা হোসেন আলা!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৩৪ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

চতুর ব্যবসায়ী আলা হোসেন আলা!

নাসিক কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ডের তিনি কাউন্সিলর। কাউন্সিলর হিসাবে তিনি যতটুকু পরিচিত, তার চাইতে তিনি বেশী পরিচিতি কৌশলী ব্যবসায়ী হিসাবে। আদমজী ইপিজেডের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা কৌশলে বা হুমকি-ধমকি দিয়ে তিনি তার কব্জায় নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য।

এখনকার মত শুরুটা এত বিলাসবহুল ছিলনা আলী হোসেন ওরফে আলার। ছিলনা এখনকার মত এত অর্থ, বিত্ত। আদমজী জুট মিল চালুকালীন অবস্থায় আদমজীর মুনলাইট সিনেমা হলকে কেন্দ্র করে হলগ্রুপ নামে একটা গ্রুপ ছিল। যার নেতৃত্বে ছিল আতাউর রহমান, শাহজাহান ওরফে কালা শাহজাহান, মজিবুর রহমান মন্ডল, মোটা সামাদ ও জজ।

আদমজীর শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় এই হলগ্রুপের অন্যতম নেতা শাজহাজান ওরফে কালা শাহাজাহনের বাজার করত আলা হোসেন ওরফে আলা মেম্বার বা বর্তমান নাসিক ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলা হোসেন। হলগ্রুপের একটি মাছের খামার ছিল। শাহজাহানের বাজার করার পাশাপাশি ওই সময় হলগ্রুপের খামারের দারোয়ান ছিল আলা হোসেন ওরফে আলা মেম্বার। আদমজীর সিবিএ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তখন একাধিকবার হলগ্রুপ ও রেহান গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে হলগ্রুপ ত্যাগ করে রেহান গ্রুপের সঙ্গে যোগদান করে আলা হোসেন। তৈরী করে নিজস্ব বাহিনী।

এক পর্যায়ে আলা হোসেন গ্রুপের সাথে বিএনপির প্রয়াত নেতা আবুল কাশেম ওরফে গলাকাটা কাশেম বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষে তার কপাল ঘেঁষে একটি গুলি যায়। এতে আহত হয় আলা হোসেন। ঐ গুলির চিহৃ এখনও তার কপালে কিঞ্চিত রয়েছে। রেহান সাহেবের নিজস্ব বাহিনী হিসাবে নের্তৃত্ব দিত আলা হোসেন আলা। এক পর্যায়ে রেহান উদ্দিন রেহান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলা হোসেন আলাকে মেম্বার পদে মনোনয়ন দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, ঐ নির্বাচনে রেহান ও আলা হোসেন বাহিনী কেন্দ্র দখল করে মেম্বারপদে বিজয়ী হয় আলী হোসেন ওরফে আলা। সে থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও বিএনপি আমলে আত্মীয়তার সুবাধে বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই রাজুর শেল্টারে ছিল চতুর আলা হোসেন আলা। আলী হোসেন আলা বিএনপি নেতা আব্দুল হাই রাজুর চাচাতো বোন বিয়ে করেছিল। রাজুর শেল্টারের কারণে বিএনপির কোন নেতা-কর্মী তাকে কোন মামলা বা হয়রাণি করেনি। দিব্যি সে এলাকায় ঘুরাফেরা করে জমির ব্যবসা, জমি দখলসহ বন্ধ হওয়া আদমজী জুট মিলে ব্যবসা পরিচালনা করত। ঐ সময় আব্দুল হাই রাজু সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে দিয়ে মৎস্য কর্পোরেশন থেকে আলী হোসেন আলাকে ডিএনডি ক্যানেল লীজ নিয়ে দিয়েছিল আব্দুল হাই রাজ্।ু যে লীজ এখনও বাতিল হয়নি। ২ বছর অন্তর অন্তর টেন্ডার হওয়ার নিয়ম থাকলেও মৎস্য কর্পোরেশনের লোকদের ম্যানেজ করে টেন্ডার দিতে দেয় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় আসার পর তার আয় আরো বাড়তে থাকে। তার অন্যতম উপদেষ্টা বিএনপি সমর্থক বালু শাহজাহান, সোমন্দি সালাহউদ্দিন ও নজরুল। বিএনপি আমলে তারা বিএনপি নেতাদের চাটুকার ছিল। প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে আলী হোসেনের উপদেষ্টা বালু শাহজাহান বাড়ি করছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

এলাকাবাসীর মতে, আদমজী ইপিজেডে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হুমকি ধমকি দিয়ে আলী হোসেন আলা তার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে আলী হোসেন আলা কুনতং অ্যাপারেলস, ইউনিভার্সেল, ইউ এইচ এম, অনন্ত হুয়াজিয়াং, টিএনএস বাটন, চার্মিং প্যাকেজিং-এ তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আল আমিন ট্রেডার্স-এর নামে ব্যবসা করে আসছে।

এছাড়াও তার সহযোগীদের দিয়ে নামে-বেনামে আদমজী ইপিজেডে অনেক ব্যবসা করে আসছে আলী হোসেন আলা ও তার সহযোগীরা।

আদমজীর একাধিক ব্যবসায়ী জানায়, আদমজী ইপিজেডে ইউএইচএম ফ্যক্টরীতে শুরু থেকে ব্যবসা করে আসছিল আকরাম হোসেন। এক পর্যায়ে আকরাম হোসেন এ গার্মেন্টের ব্যবসা দেয় আলী হোসেন আলাকে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা জানায়, বিএনপির নেতাদের সাথে আলী হোসেন আলার এখনও সম্পর্ক রয়েছে। যার প্রমাণ বিএনপির লোকের সাথে আলী হোসেন আলার অংশীদারি ব্যবসা।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও