শহরের সড়কে নো পার্কিং সাইনবোর্ডের সামনেই পার্কিংয়ে যানজট

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৭ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার

ছবিটি সংগৃহিত।
ছবিটি সংগৃহিত।

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়ক। এ সড়ককে ঘিরে নগর ব্যস্ততা। তবে এ ব্যস্ততম সড়কের সরু রাস্তায় অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কিং করে সৃষ্টি করে দুর্ভোগ যানজট। স্পষ্ট বাংলা শব্দে লেখা থাকে ‘এখানে গাড়ি পার্কিং নিষেধ, আদেশক্রমে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ’ কিন্তু সে লেখা কারো চোখে পড়ে না। সাইনবোর্ডের জায়গায় সাইনবোর্ড থাকে পার্কিং নিষেধের স্থানে পার্কিং। এভাবে চলছে নগরীর সড়কের নিয়ম শৃঙ্খলা। এভাবে নিয়ম আমান্য করে গাড়ি পাকিং করার পরও ট্রাফিক পুলিশ নিচ্ছে না কোন কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও।

১৩ মার্চ বুধবার বিকেলে সরেজমিনে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে পেট্রোল পাম্পের সামনে, মার্ক টাওয়ারের সামনে, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে, হাসনাত স্কায়ারের সামনে, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে, গলাচিপা মোড় সহ রাস্তার ২নং রেল গেট পর্যন্ত উভয় পাশে গাড়ি পাকিং করে রাখা আছে। এর মধ্যে ছোট বড় একাধিক সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে গাড়ি পার্কিং নিষেধ। কিন্তু এগুলো থাকার পরও দেখা না দেখার মতো গাড়ি পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। ফলে নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

মার্ক টাওয়ারের সামনে এক দোকানদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ‘‘সপ্তাহের এমন কোন দিন নাই মার্ক টাওয়ারের সামনে গাড়ি পার্কিং করে না রাখে। বড় করে সাইনবোর্ড দেওয়া থাকলেও এগুলো কেউ পড়তে পারে না। না হয় চোখে দেখে না। এ গাড়ির জন্য প্রায় সময় যানজট সৃষ্টি হয়। মানুষের অনেক সময় সমস্যা হয়। কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের গাড়ি কিংবা বড় বড় ব্যবসায়ীদের গাড়ি থাকে। তাই কেউ কিছু বলতে দেখা যায় না।’’

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনেও সাইবোর্ড রয়েছে কিন্তু সেখানেও গাড়ি। সেখানকার কর্মকর্তা রইজউদ্দিন বলেন, ডাক্তারদের গাড়ি। কিছুক্ষনের জন্য রেখে উপরে যায়। আবার আধা ঘণ্টাপর চলে যায়। সেজন্য গাড়ি এখানেই পাকিং করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার বলেন, ডাক্তারদের গাড়ি, দোকন মালিকদের গাড়ি, ওষুধ কোম্পানির গাড়ি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স সহ সকল গাড়িই এখানে পার্কিং করা হয়। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কোন না কোন গাড়ি এখানে পার্কিং করা থাকেই। পুলিশ মাঝে মধ্যে এসে উচ্ছেদ করে দেয় কিন্তু পুলিশ চলে গেলে আবারও পার্কিং করে রেখে দেয়। কারো কথা কেউ শোনে না।

তিনটি পার্কিং রয়েছে তারও গাড়ি পার্কিং বিষয়ে ওই হকার বলেন, পড়তে পারলে তো এগুলো মানবে। আমার তো মনে হয় গাড়ি চালক কিংবা মালিকেরা এগুলো পড়তে পারে না।’

নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) শরফুদ্দিন বলেন, আমরা অবৈধ পাকিংয়ের বিষয়ে প্রায় সময় অভিযান চালাই। রেকার দিয়ে গাড়ি নিয়েও আসি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এগুলোর বেশির ভাগ গাড়িই ব্যক্তি মালিকানাধীন। ফলে গাড়ি এনে জরিমানা করার আগেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসে। তদবির শুরু করে। অনেক সময় কয়েকজনকে জরিমানা করা গেলেও বেশি ভাগকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে ছেড়ে দিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, নগরীতে কোন শপিং মলের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবস্থা নেই। বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ১০০টি ভবন আছে। কিন্তু হাতেগুনা কয়েকটি ভবন ছাড়া অন্য কোন ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। বড় বড় রেস্টুরেন্ট, শপিং মল করে রেখেছে কিন্তু মানুষের গাড়ি রাখার জায়গা ছাড়া। এসব ভবনের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিতে পারলে গাড়ির অবৈধ পাকিং বন্ধ হবে। অন্যথায় শহরের ভিতরে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই অবৈধ পার্কিং বন্ধ হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও