কাউকেই ছাড়ছেন না এসপি হারুন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:২১ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

কাউকেই ছাড়ছেন না এসপি হারুন

নারায়ণগঞ্জে অপরাধীদের কাছে রীতিমত যম হিসেবে আবির্ভূত হওয়া পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ কাউকেই ছাড়ছেন না। এবার তাঁর পুলিশ বাহিনী হানা দিয়েছে চোরাই তেল ব্যবসায়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তথা ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদ, ঝুট সন্ত্রাসী সহ মাদক ও তেল চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। যা আরো বেগবান করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সুপারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ মার্চ ডিবির এসআই আব্দুল জলিল মাতুব্বর তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের এবং ফতুল্লা থানা পুলিশের সহায়তায় ফতুল্লা মডেল থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা কালে সংবাদ পায় যে, ফতুল্লার বালু ঘাট (লঞ্চ ঘাট) এলাকার তেল সিন্ডিকেট চক্রের সরদার ইকবাল হোসেন তার তেলের দুইটি গোডাউনের মধ্যে চোরাই জ্বালানি তেল রেখে ক্রয়-বিক্রয় করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আব্দুল জলিল মাতুব্বর তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের এবং ফতুল্লা থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত স্থানের তেল চোর সিন্ডিকেট চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে ৫৭ টি ড্রামের মধ্যে রক্ষিত জ্বালানি তেল পরিমান ৭৬০০ (সাত হাজার ছয়শত) লিটার ডিজেল, ৩০৬০ (তিন হাজার ষাট) লিটার অকটেন, ৩৬০ (তিনশত ষাট) লিটার পেট্রোল উদ্ধার করে। বিধি মোতাবেক জব্দ করিয়া ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যেখানে সিন্ডিকেটের সদস্য ইকবাল হোসেন সহ রুবেল, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেন রাসেল, ইব্রাহিম সহ ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামী করা হয়।

উক্ত আসামীরা দীর্ঘ দিন যাবৎ একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে পরস্পর যোগসাজসে বাংলাদেশ সরকারকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এবং জাহাজ থেকে চুরি করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল অবৈধভাবে মজুদ রেখে প্রকাশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

জানা যায় যে, উক্ত সিন্ডিকেটদের পিছনে অনেক স্বার্থান্বেষী মহল যুক্ত আছে ও নিয়মিত মাসোয়ারা পায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য শহরে হকার মুক্ত ফুটপাত ও যানজট মুক্ত শহর উপহার দেওয়ায় ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে অনেক কথিত একাধিক জুয়ার আসরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযান চালানো হয় এবং জুয়ারীদের গ্রেফতার করে। ইদানিং অবৈধ তেল চোরা কারবারীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

বা থেকে ইকবাল, আনোয়ার ও ক্যাশিয়ার নুরু

পুলিশের এই অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ঘোষিত তেল চোরাকারবারীদের অন্যতম সদস্য পলাতক আসামী ইকবাল হোসেন (৪৭) তার গডফাদারদের ও স্বার্থান্বেষী মহলকে বাঁচানোর জন্য এবং পুলিশের এই অভিযানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য, পুলিশের মনোবলকে ভাঙ্গার জন্য কতিপয় পুলিশ অফিসারের নামে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য, উপাত্তবিহীন মন গড়া একটি পিটিশন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট বরাবর আবেদন করেন। উক্ত পিটিশনটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালত পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেন।

এসপি হারুন অর রশিদ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে কোন মাদক, সন্ত্রাস, জুয়ার আসর থাকবে না। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসরে অভিযান চালানো হয়েছে। মাদকের গডফাদাররাও পর্দার আড়ালে চলে গেছে। আমাদের সাংসদ শামীম ওসমান সাহেবও ইতোমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছেন। তিনিও আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। আমি আশা করবো জেলার সবগুলো আসনের এমপিরাও এগিয়ে আসবেন। আমি মনে করি কোন ভূমিদস্যু কোন মাদক ব্যবসায়ী পর্দার অন্তরালে অপতৎপরতা চালাবেন আর বড় ভাইয়ের পরিচয় দিবেন এটা হবে না। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব এবং সেই কাজ আমাদের চলছে। বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ সকল ঘটনার উদ্দেশ্য একটাই নানা অপতৎরতা। প্রতিটি এলাকায় যে সকল গডফাদার রয়েছেন যারা মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিস্যুদেরকে প্রশ্রয় দেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা সঠিক তথ্য নিচ্ছি। আমরা যখনই হাতেনাতে প্রমাণ পাব তখনই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। আমরা মাদকের গডফাদারদের ধরতে পারি নাই কিন্তু কিছু কিছু মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আমরা ধরতে পারছি।

পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ সকল ঘটনার উদ্দেশ্য একটাই নানা অপতৎরতা। প্রতিটি এলাকায় যে সকল গডফাদার রয়েছেন যারা মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিস্যুদেরকে প্রশ্রয় দেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা সঠিক তথ্য নিচ্ছি। আমরা যখনই হাতেনাতে প্রমাণ পাব তখনই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। আমরা মাদকের গডফাদারদের ধরতে পারি নাই কিন্তু কিছু কিছু মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আমরা ধরতে পারছি।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের মূল সমস্যা হচ্ছে মাদক। এই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। যেখানেই অভিযোগ পাচ্ছি সেখানেই অভিযান পরিচালনা করছি। এই মাদকের সাথে উচু স্তরের কিছু কিছু মানুষ জড়িত। যার কারণে সঠিক প্রমাণ পাচ্ছি না। কিন্তু তারা যে মাদক ব্যবসা করে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। আমাদের পুলিশের সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ যারা এতদিন ধরে বঞ্চিত ছিল তারা কিন্তু আমাদের কাছে আসছে এবং আমরা সেই কাজটি করছি।

পুলিশ সদস্যদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হারুন অর রশিদ বলেন, আপনারা সাধারণ মানুষের জান মাল রক্ষা করার জন্য যা যা করার দরকার তা করবেন। নিজেরা কোন অপরাধ করবেন না, মানুষকে কোন হয়রানি করবেন না এবং বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা আপনারা করবেন না। আমরা কাউকেই ছাড় দেই নাই। ইতোমধ্যে আমরা কনস্টেবল, এসআই এবং ওসিকেও আমরা ক্লোজড করেছি। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি কোন কোন পুলিশ সদস্য মাদক সেবন করে কিনা। যদি এই ধরণের থাকলে আমরা তাদেরকে ধরে এনে ডোপ টেস্ট করাব। যদি তার রক্তে মাদক সেবনের আলামত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের বিরদ্ধে কোন প্রমাণ পাওয়া গেলে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ থেকে বিতাড়িত করা হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও