সড়কের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নৌপথের দুর্ঘটনা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সড়কের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নৌপথের দুর্ঘটনা

নারায়ণগঞ্জে সড়কের নৈরাজ্যে বাড়ছে লাশের মিছিল। একদিকে সড়কের বেপরোয় যান চলাচল। অন্যদিকে সড়কের বেপরোয়া যানচলাচলের পাশাপাশি নৌ পথেও সেই নৈরাজ্য চোখে পড়ছে। যেকারণে সড়কের নৈরাজ্য এখন নৌপথে চলে এসেছে। এতে করে বাড়ছে দুর্ঘটনার চিত্র।

৭ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে ১৪ মার্চ বিকেলে বাসের চাপায় ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘাতক আনন্দ পরিবহনের বাসের চালক রবিউল আউয়াল (৩৮) সহ বাসটি আটক করেছে।

নিহত অটো রিকশা চালক কামাল হোসেন (৩৫) ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার তিন রাস্তার মোড়ের আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া শাহজাহানের ছেলে।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই রাসেল শিকদার জানান, আনন্দ পরিবহনের একটি বাস ঢাকা যাওয়ার পথে পাগলায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারী চালিত রিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে চালক নিহত হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

১১ মার্চ সদরের ফতুল্লায় ট্রাক চাপায় রুহুল আমিন (৪০) নামে দিনমজুর নিহত হয়েছে। ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় এঘটনায় স্থানীয়রা ট্রাক ও ট্রাকের হেলপারকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যায়।

নিহত রুহুল কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার জালালপুর গ্রামের আঃ হাইয়ের ছেলে। সে ফতুল্লার ঢালীপাড়া এলাকার আবেদ আলীর বাড়িতে ভাড়া থেকে ধর্মগঞ্জে ইসলামীয়া এন্টারপ্রাইজে কয়লা লোড আনলোডের কাজ করে।

১১ মার্চ দুপুর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ সত্যেন্দ্র দাসের (৫৫) লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। সোমবার সোয়া ১২টায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল ডুবে যাওয়া ট্রলারটি সনাক্ত করে সেখানে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, রোববার রাত ৮টায় একটি ট্রলারে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক ফতুল্লার পাগলায় ফিরছিল। ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ট্রলারটি পৌঁছালে মুন্সিগঞ্জগামী একটি বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় তাদের  ট্রলারটি ডুবিয়ে যায়। ওইসময় ৪০ থেকে ৪৫জন সাঁতরে তীরে উঠে। রাতে ধারণা করা হয় ১০জন নিখোঁজ রয়েছে। তবে সোমবার সকালে শুধুমাত্র একজন নিখোঁজের দাবি করেন স্বজনরা। অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠে রাতেই বাড়ি ফিরেছে। তাই নিখোঁজ না থাকায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে।

সকাল ৬টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সহ ৮ সদস্যের একটি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। সোয়া ১২টায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ট্রলার থেকে নিখোঁজ সত্যেন্দ্র দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর জন্য পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, যে ট্রলারের ধাক্কায় শ্রমিকবাহী ট্রলার ডুবেছে সেই ট্রলারটি আমরা আটক করেছি। ডুবুরীরা নিখোজ একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগীতায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিবেন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘এতোদিন সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের চিত্র দেখা গেলেও এখন সেই সড়কের নৈরাজ্য নৌপথেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ঘটনা যেভাবেই হোকনা কেন লাশের মিছিল কিন্তু ঠিকই দীর্ঘ হচ্ছে। আর তাতে করে স্বজনহারাদের আহাজারিতে দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ব্যাকুল হয়ে পড়ছে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও