মেরি এন্ডারসনে আবারও অবৈধভাবে মদ বিয়ার বিক্রির পাঁয়তারা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ৭ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

মেরি এন্ডারসনে আবারও অবৈধভাবে মদ বিয়ার বিক্রির পাঁয়তারা

সপ্তাহ না পেরুতেই আবারও নারায়ণগঞ্জের পাগলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান রেস্তোঁরা ও বার মেরি এন্ডারসনে আবারও মাদকদ্রব্য বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। এর আগে সেখান হতে গত ২ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বিদেশী মদ ও বিয়ার সহ ৬৮জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ ছিল রেস্তোঁরা ও বারটি।

শনিবার বিকেলে মেরি এন্ডারসন রেস্তোঁরায় একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেস্তোঁরা ও বারটি সম্পূর্ণ খালি। ওই অনুষ্ঠানের কয়েকজন অতিথি ও পুলিশ ছাড়া তেমন কোন লোকজন নেই। বারের ক্রেতাদের বাসার স্থলেও নেই কোন চেয়ার টেবিল কিংবা কোন সিট। তবে ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেস্তোরার সামনের অংশে সোফা দিয়ে মঞ্চ করা হয়েছে। আর বার কাউন্টারও ছিল ফাঁকা। নেই কোন পানীয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬৮জনকে গ্রেফতার করে যেখানে রেস্তোঁরার কর্মকর্তাই ছিল ৩০ জন।

তিনি আরো বলেন, তবে শুনতে পারছি প্রশাসন সহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। কোন ভাবে সমঝোতা হলেই শুরু হবে এ রেস্তোঁরাও বার। তার আগে কেউ এটা চালু করবে না। এ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত ২ এপ্রিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও ফতুল্লা থানা পুলিশ যৌথভাবে পাগলায় ভাসমান রে¯েঁÍারা ও বার মেরি এন্ডারসনে এ অভিযান চালায়। এসময় মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী ও মাদকক্রেতা সহ ৭০ জনকে আটক করে এবং জব্দ করা হয়েছে মাদক বিক্রির নগদ ৪৮ হাজার টাকা সহ ১ হাজার ৯শ বিশ ক্যান বিয়ার এবং ৭৫  বোতল বিদেশী মদ।

এ ঘটনায় পরদিন দুপুরে ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের নির্দেশনায় এ অভিযান চালানো হয়। এসময় ভাসমান রেস্তোরা মেরি এন্ডারসনের বারে তল্লাশি করে সেখান থেকে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে সেখানকার কর্মচারীরা এবং মাদক সেবনকারীরা কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় উপস্থিত ৬৮ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও পাগলা সহ জেলার এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রেস্তারাঁটির মালিক সঞ্জয় রায় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ার দীর্ঘদিন যাবত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে এই জাহাজটির ভাসমান  রোস্তোরাঁয় এনে বিক্রি করে আসছে। এর মাধ্যমে উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবকদের ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে।

এ ঘটনায় পরদিন বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। এতে আটক ৬৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ও পরিচালক সঞ্চয় সাহা সহ অজ্ঞাত আরো ২০ জনকে আসামিরা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, বিকেলে ডিবির এসআই প্রকাশ চন্দ্র সরকার বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আটক ৬৮ জন ও পরিচালক সঞ্চয় সাহা সহ অজ্ঞাত আরো ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও