ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ৪৬ পয়েন্টে ডিভাইডার ফাঁকা বন্ধ হচ্ছে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৫ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্ব। কিন্তু এ ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে থাকতে হয়। ফলে যানজটে পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী সহ বিভিন্ন শ্রেনির পেশার মানুষ। এতে করে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে মানব জীবনের মূলবান কর্মঘণ্টা।

ওয়ান বাই ওয়ান রোড হওয়ার পরও কেন এ ভোগান্তি তার কারণ হিসেবে যানবাহন চালক ও হেলপাররা জানান, ৮ কিলোমিটার রাস্তার অধিকাংশ পয়েন্টে উল্টো গাড়ি যাতায়ত করে সৃষ্টি হয় যানজট। আর উল্টো যাতায়াতের জন্য রাস্তার ডিভাইডারের মধ্যে ফাঁকা থাকাকে দায়ী করেছেন তারা। এছাড়া সাধারণ যাত্রীরা বলছেন অপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ফলেই যানজট সৃষ্টি হয়। আর এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

৯ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, চাষাঢ়া গোল চত্বর এলাকায় সকাল থেকে ছিল যানজট। লিংক রোড হয়ে এসে ট্রাকগুলো ফতুল্লা পঞ্চবটি, গণপরিবহনগুলো ১নং বাস টার্মিনাল আর কিছু যানবাহন শহর ঘুরে নিতাইগঞ্জের দিকে যাচ্ছে। ফলে গোল চত্ত্বরেই তীব্র যানজট। লিংক রোডের হয়ে সাইনবোর্ড উদ্দেশ্যে যেতই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে, জেলা পরিষদের সামনে, জেলা কারাগারের সামনে বিভিন্ন গাড়িগুলো মোড় ঘুরছে। ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি না হলেও চলন্ত গাড়িগুলো ঠিকই থামাতে হচ্ছে। এছাড়াও শিবু মার্কেট পাওয়ার আধা কিলোমিটার আগেই সৃষ্টি হয় তীব্র যানট। ধীরে গতিতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো সরে যানজট মুক্ত হতে আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। তাছাড়া সাইনবোর্ডগামী রাস্তায় যানজট মুক্ত হলেও নারায়ণগঞ্জগামী রাস্তায় ছিল ঠিকই যানজট। কারণ ঢাকা থেকে আসা ট্রাকগুলো মোড় দিয়ে ফতুল্লা পোস্ট অফিসের দিকে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়াও স্টেডিয়াম, জালকুড়ি, ভূইগড় এলাকায় একই যানজট সৃষ্টি হয়। সেখানেও ১০ মিনিট করে যানজটের ভোগান্তিতে পড়ত হয়।

সাইনবোর্ডগামী যাত্রী মুবাশের জানান, প্রতিদিন সকালে কলেজ যাওয়া আশার পথে প্রতিনিয়ত এ রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। কখনো এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে বসে থাকতে হয়। মাঝে মাঝে যানজটের জন্য ক্লাস মিস হয়ে যায়। আবার পরীক্ষায় দেরি হয়। যানবাহনগুলোর কোন শৃঙ্খলা নেই। যে যার মতো গাড়ি চলায়। যখন খুশি ডিভাইডারের ফাঁকা অংশ গিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলে। এতে করেই বেশি যানজট সৃষ্টি হয়।

উৎসব পরিবহনের চালক মামুন জানান, চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত রাস্তায় যানজটের প্রধান করা হলো ট্রাকগুলো। মালবাহী ট্রাকগুলো শহরে প্রবেশের জন্য এসে রাস্তায় যেদিকে সুযোগ পায় সেদিকে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলে। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। এ যানজটের অন্যতম কারণ হলো লিংক রোডে প্রচুর পরিমান সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, রিকশা চলাচল করে। ফলে এসব যানবাহন গুলো সুবিধা মতো যখন খুশি লিংক রোডের ডিভাইডারের ফাঁকা অংশ দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়। এতে করে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। শুধু যে যানজট তা নয় এ ফাঁকা অংশ গিয়ে গাড়ি ঘুরতে দিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে।

চাষাঢ়ায় ট্রাফিক পুলিশের দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৮ কিলোমিটার লিংক রোডের মধ্যে শিবুমার্কেট এলাকায় পুলিশ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তাছাড়া আর কোথাও পুলিশ নেই। ফলে গাড়িগুলো ডিভাইডারের মধ্যে দিয়ে যখন খুশি গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়। এছাড়াও ছোট বড় যানবাহনগুলো রাস্তা পারাপার হয়। ফলে যে শুধু যানজট হয় তাই না মাঝে মাঝে বড় দূর্ঘটনাও ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, চাষাঢ়া থেকে সানইবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডের ৪৬টি পয়েন্টে ডিভাইডারের ফাঁকা আছে। এগুলো ব্যবসায়ী, ব্যক্তি মালিকানা সহ বিভিন্ন কারণে নিজেদের প্রয়োজনে এগুলো ফাঁকা রেখেছে। এতে করে মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তায় এ যানজট সৃষ্টি হয়। তা না হলে ওয়ান বাই ওয়ান রাস্তায় যানজট হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিভাইডারের ফাঁকা অংশগুলো বন্ধ করা হবে। অচিরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও