রফিকের ১৩ কোটি টাকার সম্পদ, তলবেও হাজির হননি দুদকে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার

রফিকের ১৩ কোটি টাকার সম্পদ, তলবেও হাজির হননি দুদকে

বিআইডব্লিউটিএ’র সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট) নেতার অঢেল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে সংস্থাটি। তিনি হলেন, তাঁরা হলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সিবিএ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। নিয়োগ-বদলি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসাসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। খবরটি দৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে দুদকে তলবও করা হয়েছে। তবে রফিক বলেছেন, সিবিএর নেতৃত্ব থেকে সরাতে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনই তিনিসহ তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এসব অভিযোগ করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএর দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় : বিআইডব্লিউটিএর সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তার স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলামকে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাঁদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও পরিবারের সদস্যদের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাবসহ ১২ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ এপ্রিল তলব করা হলেও তিনি দুদকে হাজির হননি। আবুল হোসেনও তাঁর সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন।

দুদকে আসা তথ্যমতে, সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের টোল আদায়কারী রফিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার মাসদাইর মৌজায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়ি কিনেছেন। ফতুল্লা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলে (নম্বর ১০৯৪৪) পাকা ভবনসহ জমির দাম দেখানো হয় ৮৫ লাখ টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবনসহ ওই জমির প্রকৃত বাজারমূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর বাইরে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা মৌজায় তিন পর্যায়ে মোট ৮৬ শতাংশ জমি কেনেন। এসব জমির দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর বাইরে তাঁর গাড়িও আছে একটি।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহীদা বেগম গৃহিণী হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে ‘মেসার্স ইব্রাহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামের একটি ডকইয়াডের্র মালিক। এই ডকইয়ার্ড তৈরির জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে তাঁর নামে ২০ কাঠা জমি ইজারা নেওয়া হয়। ছেলে মোহাম্মদ ইবরাহিম হোসাইনের নামে নারায়ণগঞ্জের গন্ধাকুল এলাকায় মেসার্স ইবরাহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ওয়ার্কশপ নামে আরেকটি ডকইয়ার্ড আছে। এটি নির্মাণের জন্য ইজারা নেওয়া হয় ছয় হাজার বর্গফুট জমি। আইন অনুসারে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের নামে নদীতীরের জায়গা ইজারা দেওয়ার বিধান নেই। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে মেজ ছেলে ওমর ফারুককে বিআইডব্লিউটিএতে মার্কম্যান পদে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুদকে সব সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। এরপরও তাঁকে দুদকে তলব করায় চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে হাজির হননি।

সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে তাঁর জামাতার নামে করা লাইসেন্সের মাধ্যমে (এয়ারটেল বিডি লিমিটেড) ঠিকাদারি ব্যবসা করে বিপুল অর্থ আয় করছেন। বিধি অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁদের নিকটাত্মীয় সংস্থার কোনো লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারেন না। অভিযোগ আছে, আবুল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে আপন ছোট ভাইকে চাকরি দিয়েছেন। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মেহেদী হাসানকে অষ্টম শ্রেণি পাস দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাড়াহুড়া করে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স সংশোধন করা হয়। তবে মেহেদীর এসএসসি পাসের সনদে দেখা যায়, তাঁর বয়স চল্লিশের বেশি।

এ প্রসঙ্গে আবুল হোসেনও সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো অবৈধ সম্পদের মালিক নই।’

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুদকে থাকা অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস নিয়োগ-বদলি। তাঁদের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে শারীরিক নির্যাতন ও কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে ঢাকার বাইরে বদলি করার অভিযোগ আছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জীব দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক তুষার কান্তি বণিক, মুজিবর রহমান, মাযহার হোসেন প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে তুষার কান্তি বণিককে বদলি করা হয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে। সদরঘাটে অনিয়ম নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকার বাইরে বদলি করে দেওয়া হয়।

এই দুই নেতার হাত থেকে বাঁচতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স¤প্রতি তাঁদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আইডব্লিউটিএর দুই সিবিএ নেতাই বলেন, ‘যেসব অনুসন্ধান হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা বিএনপি-জামায়াতের লোক। সিবিএ থেকে আমাদের সরানোর চেষ্টায় মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও