বর্ণিল আয়োজনে নারায়ণগঞ্জবাসীর বর্ষবরণ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:৫৪ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

বর্ণিল আয়োজনে নারায়ণগঞ্জবাসীর বর্ষবরণ

‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের মাধ্যমে ১৪২৬ এর প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। গ্রামীণ ও লোকশিল্পের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালীর বর্ষবরণ উৎসবে হয়ে উঠেছে ছোট বড় সকল বয়সের মানুষের মিলনমেলা। ছোট বড় সকলের মুখেই ছিল একটাই গান ‘রঙে ভরা বৈশাখ’।

১৪ এপ্রিল রোববার সকাল থেকেই নগরীর স্কুল কলেজ সহ সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর সকাল থেকেই একের পর এক ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা।

সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভের সামনে থেকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে খানপুর এলাকায় জেলা প্রশাসকে বাস ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে গ্রামীণ নববধূ সেজে পালকিতে চড়ে, বাউল শিল্পী, কৃষক, জেলে সেজে মাছ নিয়ে, বেদে সেজে সাপের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে শিশুরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও র‌্যালীতে ছিল র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সহ কঠোর নিরাপত্তা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিরিন বেগম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সেক্রেটারী রঞ্জিত ম-ল, গ্রীণ ফর পিস এর নির্বাহী পরিচালক আরিফ মিহির প্রমুখ।

পরে ডিসির বাসভবনে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাপ খেলা, গান, নৃত ও বাঙালী খাবার পরিবেশন করা হয়।

এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। পরে এটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে দেওভোগের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান আকর্ষণ ছিল হাতি। এছাড়াও বাঘ ও হাতির মুখোশ, টিয়া, মুকুট, রাজা-রাণীর মুখোশ সহ ছিল রঙ বে-রঙের টাটো  ঘোড়াও। ছোট বড় সকল বয়সের মানুষ নতুন লাল, হলুদ সহ বিভিন্ন রঙ বে-রঙের পোশাক পড়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। বাধ্য বাজনায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে বাঙালীর মিলনমেলা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা জানান, হাতি সমৃদ্ধির প্রতীক। এর সঙ্গে হাতি বিশাল দেহের হলেও শান্ত প্রাণী। হাতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে না। এটাই যেন সবাই শিক্ষা নেই।’

এর আগে ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ এ স্লোগানে ৫টা ৪৯ মিনিটে সূর্যোদয়ে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের মাধ্যমে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে বর্ষবরণ করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ও আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে একযোগে আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক পরিবেশন করা হবে। এছাড়াও ১৯ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ম্যাড থেটারের পরিবেশনায় নাটক নদ্দিউ নতিম উপস্থাপন করা হবে।

সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় কলেজে গিয়ে শেষ হয়। এতে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। পরে কলেজ প্রাঙ্গনে বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে বর্ষবরণ করেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও