জোড়া খুনের আসামীরা ফের দাপটে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:০১ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

জোড়া খুনের আসামীরা ফের দাপটে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুরের আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনা ক্রমশ মিইয়ে যেতে শুরু করেছে। এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ও ঠাণ্ডা মাথার খুনীরা আবারো দোর্দান্ড দাপট নিয়ে চলছেন। ক্রমশ ফিরে পেতে শুরু করেছে সেই রাজত্ব।

স্থানীয়রা জানান, জোড়া খনের দেড় বছরের মধ্যেই সেই জৌলুস আর ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন মজিদ ও হাসান। আবারো তারা সেই পুরানো ধাচে এলাকাতে রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। দেখা যাচ্ছে সেই দাপুটে মনোভাবও। জিমখানা, বাবুরাইল সহ আশেপাশের এলাকাতে আবারো আগের মত তাদের কর্তৃত্ব রাজত্ব চলছে। আর তাদের জন্য এখন আশীর্বাদ কিংবা ঢাল দুটিই হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা যিনি হাসানের স্ত্রী।

জোড়া খুনের পর মন্ডলপাড়ায় বিএনপির কথিত মহানগর কার্যালয় থেকে সরে যান মজিদ। ওই সময়ে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর চাঁদাবাজীও। কিন্তু কয়েক মাস আত্মগোপনের থাকার পরে আবারো এলাকাতে চলে আসেন মজিদ ও হাসান। ফের শুরু হয় দাপট।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে কাশীপুরের হোসাইনি নগর এলাকাতে একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। পরে নিহত পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা ও বিলুপ্ত শহর কমিটির সহ সভাপতি এম এ মজিদ ও তার ভাই বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাদের ইন্ধন থাকতে পারে।

মামলার আসামীরা হলো এক নং বাবুরাইলের শুক্কুর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী (৪০), ১নং বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে বাপ্পী (২৮), রবিন (৩০), রকি (২৮), ভূইয়াপাড়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে আমান (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার খোকা মিয়ার ছেলে শহিদ (৩০), বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার আসলাম (৫০), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার মৃত জাকিরের ছেলে মাহাবুব (৩০), বিএনপি নেতা হাসান আহমেদের ভাতিজা শিপলু (৩০) ও রাসেল (৩৩), বাবুরাইল এলাকার মুক্তা (২৮), পাইকপাড়া জিমখানা ডিমের দোকান এলাকার শরীফ (৩৩), বাবুরাইলের রানা (২৮), বাবুরাইলের কিরণ (৩০), মানিক (৩০), বাবুরাইলের আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২৬), বন্দর এলাকার রাব্বি (৩০), ১নং বাবুরাইলের নিলু সরদারের ছেলে সোহাগ (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার রাকিব (২৭), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে রাজন (৩০), বাবুরাইল এলাকার রিক্সা আবুল (৩৫), একই এলাকার ফরহাদ (৫২) সহ অজ্ঞাত আরো ১শ থেকে ১২৫ জন। মামলার আসামীরা সকলেই বিএনপি নেতা মজিদ ও হাসান বাহিনীর লোক হিসেবে পরিচিত।

নিহতের পরিবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় মহনগর বিএনপির উপদেষ্টা এমএ মজিদ ও তার ভাই বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদকে ‘ঠান্ডা মাথার খুনি’ অখ্যায়িত করেন দুই সহোদরের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করলে সব তথ্য পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তারা।

মিল্টনের খালাতো ভাই সাইফুল তারেক বলেন, ‘এম এ মজিদ ও মো. হাসান আহম্মেদের নির্দেশে মিল্টন ও পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আলামত নষ্ট করার জন্য ঘটনাস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১২ অক্টোবর রাতে মজিদ ও হাসান আহাম্মেদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ট্র্যাকিং করলেই সব দিনের আলোর মতো পরিস্কার হয়ে যাবে।

এদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পরে গত বছরের ১৩ এপ্রিল কাশিপুরের জোড়া খুনের অন্যতম আসামী বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তবে তৎকালে জোড়া খুনের মামলায় সে জামিনে থাকায় তাকে অপর একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

বর্তমানে জোড়া খুনের দুই নির্দেশদাতা মজিদ ও হাসানসহ আসামীদের বেশীরভাগই আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক এনামুল হক জানান, সম্প্রতি মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর হয়েছে।

পিবিআই সূত্র মতেজবানবন্দীতে আসামীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা ছিলনা। এজন্য আসামীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তদন্ত শেষে চার্জশীট প্রদান করতে পারবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও