দ্রুত প্রবীর হত্যা মামলার রায়ের প্রত্যাশা

সাবিত আল হাসান, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৪২ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

দ্রুত প্রবীর হত্যা মামলার রায়ের প্রত্যাশা

নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজারের আলোচিত স্বর্ন ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যাকান্ডের মামলা দ্রুততর সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন। তাঁর আশ্বাসে কষ্টের মাঝেও ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন প্রবীর ঘোষের আত্মীয় স্বজনেরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্ত তিনজনের সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে।

ইতোমধ্যে মামলার মোট ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। সাক্ষ্যদের মধ্যে আছে প্রবীর ঘোষের আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী, ব্যাবসায়ী এবং পুলিশ সদস্যরা।

পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি কখনই দলমত বিচার করি না। যে প্রকৃত আসামী তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যেই আইনী লড়াই চালিয়ে যাই আমি। আমাকে সরকার যেই দায়িত্ব প্রদান করেছে সেটির সর্বোচ্চ সঠিক ব্যাবহার করার জন্যেই আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আর সেই কারণেই চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে প্রতি সপ্তাহেই শুনানী রেখেছি। তবে প্রবীর ঘোষের মামলার চাইতে স্বপন হত্যা মামলাটি একটু সময় লাগতে পারে।

এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ ও কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা হত্যা মামলার চার্জশীট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হয়। এর মধ্যে স্বপন কুমার সাহা হত্যায় ১০৯ পাতা ও প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যায় ২০৩ পাতার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়।

প্রবীর হত্যায় বন্ধকীকৃত স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল সেট, রক্তের দাগ লেগে থাকা কোমরের বেল্ট, সিমেন্টের ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার চন্দনপুর গ্রামের মৃত সতীশ দেবনাথের পুত্র বর্তমানে আমলাপাড়া কেসি নাগ রোডের ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দেবনাথ (৪১), তার সহযোগী কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ঠেটালিয়া গ্রামের কুমদ ভৌমিকের পুত্র বাপন ভৌমিক ওরফে বাবু (২৭) ও আমলাপাড়া কেবি সাহা রোডের মৃত হাজী মহসিন মোল্লার পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন মোল্লা (৫১)। স্বাক্ষী করা হয়েছে ৩০ জনকে। দুটি মামলাতেই আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্ররোচনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

প্রবীর হত্যা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন রাতে নিখোঁজ হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ। পরে গত ৯ জুলাই সড়কে শহরের কালীরবাজার এলাকা থেকে পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক বাবুকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাদের দেয়া তথ্য মতে রাতেই শহরের আমলাপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীর ঘোষের খ-িত লাশ উদ্ধার করা হয়।

জবানবন্দীতে পিন্টু বলেন, ঈদ উপলক্ষে শান্ত পরিবেশ থাকা প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ১৮ জুন রাতে বিয়ার পানের পার্টির কথা বলে তার বাসা থেকে বের করি। পরে আমার ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে বসাই। সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে থাকি একত্রে। ওই সময়ে আগে নেওয়া স্প্রাইট পান করে প্রবীর। খেয়েছিল বিস্কুটও। খাওয়ার সময়েই আমি তাকে পিছন থেকে আগে থেকে কেনা চাপাতি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। তখন প্রবীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় প্রবীর আমাকে কয়েকদফা লাথি মারতে থাকলে ওরে আবারো লাঠি ও দা দিয়ে আঘাত করতে থাকি। এ সময় প্রবীর রক্তাক্ত অবস্থায় টিভি রুমের খাটে লুটে পড়ে। শরীর ঢেকে দেওয়া হয় বালিশ ও চাদর দিয়ে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দেহ’কে ৭ টুকরো করা হয়। মাথা, দুই হাত, দুই পা, বডি, পেট ও পাজর ৭টি খন্ড করে বাজার থেকে ক্রয়কৃত ৭টি নতুন আকিজ সিমেন্টের ব্যাগের মধ্যে ৪টিতে টুকরো টুকরো লাশ ভরি। আরেক ব্যাগে বালিশ, খাটের চাদর, ব্যবহার করা জামা ও দা প্যাকেট করি। পরে ঘরের বাথরুমে রক্তাক্ত ও নিজে গোসল করি। পরিবেশ শান্ত অবস্থায় আনুমানিক সাড়ে ১২টায় বাসা নিচে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকটিতে ৩ ব্যাগে থাকা ৫ টুকরো ঢুকাতে শুরু করি। আরেকটি ব্যাগ বাড়ির উত্তর পাশে ময়লাস্তূপে সাথে ড্রেনে মাথায় ফেলে দেই। কাজ শেষ করে বাসায় হাত পরিস্কার করে ফের প্রবীর চন্দ্র ঘোষের বাড়িতে রাত দেড়টার দিকে ছুটে যাই। রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে এসে ফেলে দেই চাপাতি, বিছানার চাদর আর বালিশ। ডিবির রিমান্ডে পিন্টু আরো জানায়, প্রবীরের টাকায় ক্রয়কৃত স্বর্ণ ভবনের দোকান, বন্ধকী টাকা আত্মসাত ও ভয়ভীতি কারণে প্রবীরকে হত্যা করে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও