সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ : লাশের মিছিলে ৪ খুন

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার

সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ : লাশের মিছিলে ৪ খুন

নারায়ণগঞ্জে লাশের মিছিল ধীরে ধীরে দীর্ঘ হচ্ছে। একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনার আড়ালে হত্যাকান্ডের নির্মম ঘটনার তথ্য বেরিয়ে আসছে। এতে করে স্বজনহারাদের আহাজারিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। আর তাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির উপর থেকে জনগণের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

১৫ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।

১৯ এপ্রিল রূপগঞ্জে অজ্ঞাত (৩০) যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নোয়াপাড়া এলাকায় শীতলক্ষা নদী থেকে এলাকাবাসী যুবতীর লাশ উদ্ধার করে বিশ্বরোড ক্লিনিকেয়ার হাসপাতালে আনলে সেখান থেকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, শুক্রবার রাতে নোয়াপাড়া এলাকায় শীতলক্ষা নদীতে অজ্ঞাত নারীর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিশ্বরোড ক্লিনিকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয়রা রূপগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

১৯ এপ্রিল বন্দরে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে মারা গেলেন গৃহবধূ মুক্তা (২৪)। শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গৃহবধূ মুক্তা বেগমের মৃত্যু ঘটে। ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্বামী দেলোয়ার গৃহবধূ মুক্তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দ্রুত ঢাকা-মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

নিহতের মা শিল্পী বেগম জানান, তার মেয়েকে নবীগঞ্জ কবরস্থান সংলগ্ন সিদ্দিক মিয়ার ছেলে দেলোয়ার প্রায় ৫ বছর পূর্বে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে দেলোয়ার, তার মা চাঁনবানু ও বাবা সিদ্দিক মিয়া যৌতুকের জন্য নানা ভাবে নির্যাতন করত। গত শুক্রবার রাতে তার মেয়েকে হত্যার জন্য অমানুষিক নির্যাতন চালায় দেলোয়ার। এক সন্তানের জননী মুক্তা বেগমকে সিজার দিয়ে পেটের বিভিন্ন স্থানে আঘাত, মুখে বিষাক্ত সুপার গ্লো ও তারকাটা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে।  বাড়ির ভাড়াটিয়ারা খবর দিলে আমরা হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাই। কিন্তু মেয়েটাকে বাঁচানো গেলো না। আমি এ হত্যার বিচার চাই। শনিবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে লাশ এলাকায় নিয়ে এলে নিহতের পিত্রালয় মাঠপাড়ায় মানুষের ঢল মেয়ে আসে। সকলেই হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

১৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোসাম্মৎ ছালমা (২৯) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জের ধরে ছালমার স্বামী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা পুলিশের। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে স্বামী ইকবাল হোসেন (৩৫)। বুধবার সকালে উপজেলার সোনাপুর এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মাদকাসক্ত স্বামী ইকবাল হোসেন পরিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রী ছালমা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

১৭ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের কুতুবপুর এলাকার কিউট ফ্যাক্টরির পিছনে পুকুরপাড় থেকে অজ্ঞাত (৫২) নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টায় সোনারগাঁও থানা পুলিশ এই অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেন।

ঘটনাস্থলে যাওয়া এসআই আপন কুমার মজুমদার জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের সংবাদের ভিত্তিতে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার পরনে ছিল সালোয়ার কামিজ। তার আগে থেকেই একটি হাত ছিল না। এলাকাবাসী বলছে, সে মানসিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।

তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও