‘শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদের ছাড় নেই’

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:৪০ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

‘শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদের ছাড় নেই’

কিছু সংখ্যক বাম ঘরানার ও বিএনপি জামায়াতের মদদপুষ্ট তথাকথিত নামধারী শ্রমিক নেতা নিজেদেরকে নৌযান শ্রমিক নেতা পরিচয় দিয়ে সরকারী দলের কতিপয় নেতার শেল্টারে নানাভাবে চক্রান্ত করে আসছে। তারা নৌযান শ্রমিকদেরকে বিপথে পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি আদায় করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অথচ বিগত দিনে ওইসকল নামধারী শ্রমিক নেতাদেরকে শ্রমিকদের বিপদে পাশে দাড়াতে দেখা যায়নি। তবে তারা মালিকপক্ষের দালালীর মাধ্যমে ধনসম্পদের মালিক বনেছে। এসকল তথাকথিত নামধারী শ্রমিক নেতা যারা নারায়ণগঞ্জে নৌপথের শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদেরকে আর ছাড় দেয়া হবেনা বলে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। যদি ভবিষ্যতে আবারো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হয় তাহলে তাদেরকে দাতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারী দেয়া হয়।

মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫নং খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপন প্রস্তুতি ও কর্মী সভায় এহেন হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি সরদার আলমগীর মাষ্টারের সভাপতিত্বে কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার মাষ্টার। আরো বক্তব্য রাখেন  বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চুন্নু মাষ্টার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি নিজামউদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কবির হোসেন, দশআনি মোহনপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, ডেমরা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, গাবতলী শাখার সভাপতি আলিম শেখ, চট্টগ্রাম লাইটারেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদির মাষ্টার, দাউদকান্দি শাখার সভাপতি মোঃ বোরহান, জেলা যুব শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী লিটন প্রমুখ।

গাবতলী শাখার সভাপতি আলিম শেখ বলেন, একসময় নদীপথে শ্রমিকদের লাশ ভাসতো কিন্তু তখন ওইসকল নামধারী শ্রমিক নেতাদেরকে খুঁজে পাওয়া যেতো না। ওইসকল নামসর্বস্ব শ্রমিক নেতারা কখনোই শ্রমিকদের স্বার্থ আদায়ে কাজ করেনি বরং তারা নিজেদের পকেট ভারী করেছে। অথচ আজকে তারা শ্রমিকদের জন্য মায়াকান্না দেখিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি নিজামউদ্দিন খান বলেন, আজকে একটি কম্যুনিষ্ট গ্রুপ যারা বিগত দিনে সরকার বিরোধী জ্বালাও পোড়াওয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল তারা জোটবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। শুধু তাই নয় তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে। সারাদেশে আমাদের সংগঠনের সদস্য রয়েছে ১৭ হাজার। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করলেই তো প্রচুর অর্থ। আমরা চাঁদাবাজি করতে যাব কেন। আমাদের সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার বৈধতা রয়েছে যেটা শ্রম মন্ত্রনালয়ের অনুমোদিত। কিন্তু আজকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করার মাধ্যমে ওই কম্যুনিষ্ট সরকার বিরোধী জ্বালাও পোড়াও গ্রুপ নৌপথকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি সরদার আলমগীর মাষ্টার বলেন, সারাদেশে আমাদের ৩৫টি সংগঠন রয়েছে। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার বৈধতা রয়েছে। এজন্য কেউ আমাদেরকে চাঁদাবাজ বললে সেটা হবে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য। তবে সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় কেউ জোর জবরদস্তি যেন না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহবান জানান তিনি। কয়েকদিন আগের মামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, কোন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারীসহ ৩০ জন মিলে মাত্র ৩ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করতে যাবে সেটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার মাষ্টার বলেন, ২০০৩ সালের ২ মে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডাকাতদের হাতে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলার বাদি হয়েছিলাম। তখন আজকে যারা নিজেদেরকে বড় বড় শ্রমিক নেতা দাবি করে তারা কেউই শ্রমিকদের পক্ষে ছিলনা। ওই মামলায় অসংখ্য ডাকাত গ্রেফতার হয়েছিল। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভাই এসে আমাদের হুমকী দিয়েছিল মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলবে। তখন দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। নৌ শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি নৌ পুলিশের জন্য আমরা রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছি। পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়েছি। কিন্তু মালিকদের প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করিনি। লোভের বশবর্তী হয়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলিনাই। আজকে ডিম বিক্রি কারী, কলা বিক্রি কারী ব্যক্তিরাও নামসর্বস্ব নৌযান শ্রমিক সংগঠনের নেতা পরিচয় দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি মন্ত্রী এমপির নাম ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদেরকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি পরিচয় দিচ্ছে। অথচ তারা হলো সরকার বিরোধী জামায়াত শিবিরের প্রেতাত্মা। এদের অনেকেই একসময় আন্ডারগ্রাউন্ড দলের হয়ে রাজনীতি করতো। এরা কোন শ্রমিকনেতা নয়। তারা কখনোই শ্রমিকদের দুর্ভোগে তাদের অধিকার আদায়ে পাশে দাড়ায়নি। কিন্তু তারা মালিকপক্ষের দালালী করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। এই সকল নামসর্বস্ত নেতাদের সর্ম্পকে সজাগ থাকার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানান তিনি। শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে তাদেরকে আর ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবেনা। তিনি আরো বলেন, আজকে ১৮ বছর নৌযানে মাষ্টার হিসেবে চাকুরী করেছি। যদি কেউ বলতে পারে আমি ১০ টাকা চাঁদাবাজি করেছি তাহলে আমি সংগঠন ছেড়ে দিব। তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংগঠন শক্তিশালী করতে নিয়মমাফিকভাবে সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া যাবে যেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। কিন্তু কারো উপর জোর করা যাবেনা। গঠনতন্ত্রের বাহিরে গিয়ে কেউ কোন ধরনের অনৈতিক কাজ করতে সেটার দায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিবেনা। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরকেও প্রকৃত ঘটনা জেনে সংবাদ পরিবেশ করার আহবান জানান।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও