ইফতারে নামিদামী রেস্টুরেন্টেও ভেজাল : শংকিত নারায়ণগঞ্জবাসী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ৮ মে ২০১৯ বুধবার

ইফতারে নামিদামী রেস্টুরেন্টেও ভেজাল : শংকিত নারায়ণগঞ্জবাসী

নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ধরনের শ্রেনি পেশার মানুষের কাছে খাবারের দোকান হিসেবে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুগন্ধা প্লাস। এর পর ধারাবাহিকভাবে চাষাঢ়ার সুমাইয়া ও বৈশাখী রেস্টুরেন্টও রয়েছে পছন্দের তালিকায়। কিন্তু এমন সব জনপ্রিয় খাবার দোকানগুলোকেই খাবারের মান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পঁচাবাসি খাবার, রঙ মেশানো ভেজাল খাবার সহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা বা সাজা প্রদান করছেন।

আর এসব দোকানগুলোই যখন এসব খাবার বিক্রি করছেন তখন নগরীর অন্যান্য খাবার দোকানগুলোর অবস্থা সম্পর্কে শঙ্কিত নগরবাসী। সেই শঙ্কা থেকেই এ রমজান মাস জুড়ে নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য আহবান জানিয়েছে নগরবাসী।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিকের নেতৃত্বে নগরীর সুগন্ধ প্লাস, বৈশাখী হোটেল এন্ড রেস্টুরেনট ও সুমাইয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব দোকানগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, খাবারের মূল্য তালিকা না থাকা সহ বিভিন্ন অপরাধে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে সুগন্ধা প্লাসকে ২০ হাজার, বৈশাখী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার ও সুমাইয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা বারিক জানান, পবিত্র রমজানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি সহ গুণগত মান বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিংয়ের জন্য শহরের খাবার হোটেল গুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অপরাধে তিনটি হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অন্যান্য খবার হোটেলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি সহ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখার জন্যও সর্তক করা হয়। অন্যথায় আইনগত কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী দেয়া হয়।

নাহিদা বারিক জানান, এ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে ইফতারিতে কোন প্রকার ক্ষতিকারক রঙ ব্যবহার না করা, ইফতার সামগ্রী ঢেকে রাখা ও খাদ্যে ভেজাল না করার পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, বন্দর নগর হওয়ায় ব্যবসায়িক কিংবা কর্মসংস্থানের আশায় নারায়ণগঞ্জে বহিরাগত জেলার মানুষের আগমন বেশি। আর মানুষের চাহিদা থাকায় নগরীতে ছোট বড় বিভিন্ন খাবার হোটেল গড়ে উঠেছে। এসব খাবার হোটেল যেমন রাস্তার পাশে রয়েছে তেমনি রয়েছে অলিগলিতেও। তাছাড়া রাস্তার পাশেও অস্থায়ী খাবার হোটেল গড়ে উঠেছে। যার নির্দিষ্ট সংখ্যাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া কষ্টকর। তারপরও নগরীর চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ, ডালপট্টি, মিনাবাজার, টানবাজার, বাসটার্মিনাল, সেন্ট্রল ঘাট, লঞ্চ টার্মিনাল, দিগুবাবু বাজার, কালীবাজার, খানপুর, ডনচেম্বার, উত্তর চাষাঢ়া, রেল লাইন, গলাচিপা, উকিলপাড়া, পালপাড়া, ১নং রেল গেট, ডিআইটি, ম-লপাড়া সহ বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক খাবার হোটেল। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সুগন্ধা প্লাস, সুমাইয়া, বৈশাখী, আনন্দ রেস্টুরেন্ট, মনির হোটেল, সিলভিয়া, ঘরোয়া, এঁটেল মাটি, সুমাইয়া চাইনিজ ও বাংলা, আলম কেবিন, মাউরা হোটেল সহ বেশ কয়েকটি হোটেল। এর মধ্যে সুগন্ধা প্লাস, মোঘলই আজম, ঘরোয়া, সুমাইয়ার মতো খাবার হোটেলই যখন জরিমানা দিতে হয়েছে তখন অন্যান্য খাবার দোকানগুলোর খাবার নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে শঙ্কা দেখা দেয়। তবে নামী দোকানগুলোর পাশাপাশি যেসব বেনামে দোকান রয়েছে সেগুলোর কথা বলতে ভয়ই পান নগরবাসী।

চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা শরীফ উদ্দিন বলেন, খাবার দোকানগুলো কতটা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাবার রান্না করে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা মাঝে মধ্যে বছরে দুই একটা অভিযান চললেও বাকিটা সময় তেমন কোন কিছুই দেখা যায়নি। এছাড়া প্রশাসনের যারাই অভিযান পরিচালনা করেন তাদের কাছে খাবারের ভেজাল পরীক্ষা, রঙ ক্যামিকেল, পঁচাবাসি কিনা এসবের পরীক্ষার কোন যন্ত্র নেই। চোখের দেখা দেখে অভিযান করে চলে আসে। তাছাড়া যেসব মাছ মাংস রান্না হচ্ছে সেসবই কতটা স্বাস্থ্যকর তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এগুলো কোথায় থেকে আনা হচ্ছে, কতদিন আগে কেটে ফ্রিজে রাখা হয়েছে, এগুলোর খাওয়ার উপযোগী কিনা। এগুলো ছাড়াও যারা খাবার বিক্রি করছে কিংবা পরিবেশন করছে তাদের হাতে গ্লাবস, মাথায় টুপি, পড়নে ড্রেস ব্যবহার করছে কিনা। এছাড়াও যারা এসব খাবার রান্না করছে এবং পরিবেশন করছে তাদের সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিনা, কিংবা তাদের কোন রোগবালাই আছে কিনা, কেমন পরিবেশে খাবার রান্না করছে বা পরিবেশন করছে এগুলোও দেখার কেউ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার মতো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন খাবার হোটেল ও ফাস্টফুডের দোকানগুলোতেও ফার্ম কিংবা দোকানে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ও ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া মুরগী সহ বিভিন্ন পশুর মাংস রান্না করা হয়। তাছাড়া পঁচা পোকাধরা কাঁচাসবজিও রান্না হয় হোটেলগুলোতে। মাছের বাজার থেকে দীর্ঘদিনের ফরমালিনের বরফে থাকা মাছ এনে রান্না হয়।

নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের আহবায়ক ফরিদ আহম্মেদ বাধন বলেন, খাবারের মান ভালো করতে হবে। এখন প্রায় সব খাবারে রঙ ক্যামিকেল মেশানো হয়। এগুলো পরীক্ষার জন্য প্রশাসনের তেমন কোন যন্ত্রাপাতি নেই। অবিলম্বে শহর ও শহরতলীর সব খাবার দোকানে অভিযান চলাতে হবে। অসাধু খাবারের দোকানদের শুধু জরিমানা করলে হবে না তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে দোকান সীলগালা করে দিতে হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, খাবারের দোকানগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও