ধর্ষণ গণধর্ষণের মহামারিতে আতঙ্কিত নারায়ণগঞ্জ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ২২ মে ২০১৯ বুধবার

ধর্ষণ গণধর্ষণের মহামারিতে আতঙ্কিত নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা মহামারি আকারে বেড়ে চলেছে। ধর্ষকেরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। যেকারণে এসব ঘটনার বার বার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

১৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।

১৬ মে আড়াইহাজারে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এবার ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে পিটিয়ে আহত করেছে ধর্ষকেরা। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের চারগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ শাহিন ও আনোয়ার নামের ২জনকে গ্রেফতার করেছে এই ঘটনায়।

ধর্ষিতার পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় স্থানীয় দিন মজুরের কিশোরী মেয়েকে (১৭) রাস্তায় একা পেয়ে ৪ যুবক ওই  কিশোরীর মুখ চেপে বাড়ির পাশে খালি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় কিশোরীকে। কিশোরিটি এক পর্যায়ে চিৎকার করলে ধর্ষকেরা তাকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখে যায় এবং তাদের নাম না বলতে ধর্ষিতাকে হুমকী দিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতা বাড়িতে এসে তার পরিবারের কাছে ঘটনাটির বর্ননা দিলে শুক্রবার দুপুরে ধর্ষিতার পিতা আড়াইহাজার থানায় ৪ ধর্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, নরসিংদী জেলার তাওড়া এলাকার শাহিন (১৮), উপজেলার উপজেলার চারগাও এলাকার সরফত আলীর ছেলে আক্তার হোসেন (২৫), রতন মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২০) ও কাউসার (২৫)।এর মধ্যে শাহীন ওই কিশোরীর বোনের দেবর বলে জানা যায়।

১৬ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চার জন মিলে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ৫ মে ঘটলেও ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে ১৬ মে বৃহস্পতিবার ৪ ধর্ষকের  বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ধর্ষিতার বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, ৫ মে রোববার রাত ৮টায় উপজেলার আড়াইহাজার পৌরসভাধীন মুকুন্দী গ্রামের দিনমজুরের স্ত্রী (৩৫) দোকান থেকে খাবার আনার জন্য বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে একই এলাকার সাহাদ আলীর ছেলে সেলিম (৩০), আঃ সালামের ছেলে মাঈনউদ্দিন (২৫), কফিলউদ্দিনের ছেলে সোহেল (২৭) ও নিজামউদ্দিনের ছেলে আবুল (২৬) তার গতিরোধ করে তার মুখ চাপা দিয়ে পাশের ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। ওই সময় তাদের গণধর্ষণের ঘটনাটি মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে রাখে ধর্ষকেরা। ঘটনার সময় গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যায় ধর্ষকরা। পরে জ্ঞান ফিরলে রাতে গৃহবধূ একাই বাড়িতে চলে আসে। পরে ঘটনার ব্যাপারে থানায় মামলা দেওয়ায় চেষ্টার করলে ধর্ষক ও তাদের লোকজন ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার হুমকি দেয়। সম্প্রতি ধর্ষণের সেই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষকেরা পুনরায় অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিলে গৃহবধূ বৃহস্পতিবার চার ধর্ষকের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দেয়।

১৫ মে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় অপহরণের পর হত্যার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে হত্যা সহ ১৫ মামলার আসামী ডাকাত সোলায়মান। উদ্ধারকৃত অপহৃত ওই কলেজ শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জ আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।

ধর্ষিতা কলেজ শিক্ষার্থীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি জানান, ডাকাত সোলায়মান অনেক দিন ধরেই ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ফোনে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতো। সন্ত্রাসী ও ডাকাত হওয়ায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। গত ৮ মে দুপুরে রুপায়ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে থেকে মাইক্রোবাস যোগে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি বাড়িতে রাখে। ওই মাইক্রোবাসে আরো ৩ থেকে ৪ জন লোক ছিলো। ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর কলেজ শিক্ষার্থীকে চার দিন ধরে আটকে রাখা হয়। সেখানে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে একাধীকবার ধর্ষণ করে ডাকাত সোলায়মান।

উল্লেখ্য, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। পরে অপহৃতা শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গত ১২ মে রাতে ডাকাত সোলায়মানকে গ্রেফতার ও অপহৃতা কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশ। ডাকাত সোলায়মানকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডাকাত সোলায়মানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা নৈতিক অবক্ষয়কে বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ ধর্ষণের মত নিন্দনীয় ঘটনায় ধর্ষিতা শুধু নিজেই বিপর্যস্ত হয়না বরং তার সাথে সাথে তার পুরো পরিবার ও আতœীয়স্বজনরা বিপর্যস্ত হন। আর তাতে করে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও